U.S. President Barack Obama sits next to the Director of the CDC Tom Frieden as he participates in a briefing at the Centers for Disease Control and Prevention in Atlantaআন্তর্জাতিক ডেস্ক: পশ্চিম আফ্রিকার ইবোলা প্রাদুর্ভাবকে “বৈশ্বিক নিরাপত্তার জন্য একটি হুমকি” বলে অভিহিত করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। মঙ্গলবার ইবোলা ভাইরাসের সঙ্গে বিশ্ব সম্প্রদায়ের লড়াইয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তর ভূমিকা পালন করার পরিকল্পনা ঘোষণা করে তিনি। এই পরিকল্পনা ঘোষাণার সময় তিনি ওই মন্তব্য করেন বলে জানিয়েছে বিবিসি। ওবামা বলেন, “বিশ্ব যুক্তরাষ্ট্রের দিকে তাকিয়ে আছে। কিন্তু এই প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় বৈশ্বিক সাড়া প্রয়োজন।” তিনি বলেন, “পশ্চিম আফ্রিকায় এটি প্রায় মহামারীর রূপ নিয়েছে, এই রোগে আক্রান্তদের দিয়ে হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলো ভরে যাওয়ায় আক্ষরিক অর্থেই লোকজন রাস্তায়ই মারা যাচ্ছে।”

এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় পদক্ষেপ নেয়ার জন্য তিনি অন্যান্য দেশগুলোর প্রতিও আহ্বান জানান। অবনতিশীল ইবোলা প্রাদুর্ভাব “আমাদের সবাইকে ব্যাপক রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা জটিলতায় ফেলতে পারে” বলে সতর্ক করেন তিনি। তিনি বলেন, “এই রাষ্ট্রগুলো ভেঙে পড়লে বিশ্ব নিরাপত্তার হুমকির মুখে পড়বে, এর প্রভাব সবার উপড়ই পড়বে।”
বিশ্ব জানে কীভাবে এই রোগের সঙ্গে লড়াই করতে হয়। আমরা জানি সঠিক পদক্ষেপ নিলে আমরা জীবন বাঁচাতে পারবো। কিন্তু আমাদের আগে কাজ করতে হবে, বলেন তিনি।  পরিকল্পনায় তিনি যেসব পদক্ষেপ নেয়ার ঘোষণা দেন সেগুলো হল :

লাইবেরিয়ায় নির্জন এলাকাগুলোতে প্রতিটি ১শ’ শয্যার ১৭টি স্বাস্থ্যকেন্দ্র নির্মাণ, প্রতি সপ্তাহে ৫শ’ স্বাস্থ্যকর্মীকে প্রশিক্ষণ দেয়া, আক্রান্ত দেশগুলোতে দ্রুত সরবরাহ পৌঁছাতে আকাশ পথে যোগাযোগ প্রতিষ্ঠা করা।

এছাড়া আন্তর্জাতিক সহায়তা প্রচেষ্টার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের প্রচেষ্টার সমন্বয়ের জন্য লাইবেরিয়ার রাজধানী মনরোভিয়ায় একটি যৌথ নিয়ন্ত্রণ ঘাঁটি স্থাপন, হাজার হাজার বাড়িতে স্বাস্থ্যসেবা সামগ্রি পৌঁছে দেয়া এবং কীভাবে রোগীদের সেবা করতে হবে, সে বিষয়ে স্থানীয়দের প্রশিক্ষণ দেয়ার জন্য বাড়ি ও সমাজ ভিত্তিক প্রচারণা চালু করা। চলতি সপ্তাহে আন্তর্জাতিক উন্নয়নের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সাহায্য সংস্থা ইউএসএইড লাইবেরিয়ায় ৫০ হাজার স্বাস্থ্যসেবা সামগ্রি বিতরণ করবে বলে এ সময় জানান তিনি।

এই পরিকল্পনার আওতায় এসব কার্যক্রম পরিচালনা ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোর নির্মাণ কাজের জন্য লাইবেরিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের তিন হাজার সেনা মোতায়েনের নির্দেশ দেয়া হয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি। ইবোলার প্রাদুর্ভাব প্রথম গিনি থেকে শুরু হয়। এরপর প্রতিবেশী দেশ সিয়েরা লিওন ও লাইবেরিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে। একমাত্র নিবিড় সংস্পশের্র মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তে সক্ষম এ রোগটিতে চলতি বছর ২, ৪৬১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এখনও পর্যন্ত এই রোগের কোনো অষুধ বা চিকিৎসা পদ্ধতি উদ্ভাবন করা যায়নি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) কর্মকর্তারা সংক্রামক এই রোগটির ছড়িয়ে পড়াকে স্বাস্থ্য সঙ্কট অবিহিত করে একে “আধুনিক সময়ের জন্য নজিরবিহীন” বলে চিহ্নিত করেছেন।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য