Boro pukuriaএকরামুল হক বেলাল,পার্বতীপুর(দিনাজপুর)প্রতিনিধিঃ পার্বতীপুরে বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি ধারাবাহিকভাবে পরপর তিন বছর জাতীয় পর্যায়ে সেরা দশ আয়কর প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের মর্যাদা পেয়েছে। পেট্রোবাংলার এই কোম্পানীটি বিগত তিন অর্থবছরে ৩৯৫ কোটি ৫৫ লাখ টাকা আয়কর দিয়েছে। ২০১১-১২ ও ২০১২-১৩ অর্থবছরে অন্যতম সেরা আয়করদাতা প্রতিষ্ঠান হওয়ায় গত সোমবার রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে বড়পুকুরিয়া কোল মাইনিং কোম্পানী লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আমিনুজ্জামান ও পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান (পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান) ড. হোসেন মনসুরের হাতে ট্যাক্স কার্ড সম্মাননা পত্র তুলে দেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত।

দিনাজপুরের পার্বতীপুর বড়পুকুরিয়া কোল মাইনিং কোম্পানী লিমিটেড ধারাবাহিকভাবে গত তিন বছর যাবত জাতীয়ভাবে সেরা করদাতা সম্মাননা লাভ করেছে। পেট্রোবাংলার এই কোম্পানীটি জন্য বিরাট সাফল্য ও গর্ভের বিষয়। ২০১২-১৩ অর্থবছরে কোম্পানী ৯ লাখ ৩৩ হাজার টন কয়লা বিক্রি করে ৯৯৮ কোটি টাকা আয় করেছে। সরকারি কোষাগারে প্রদান করেছে প্রায়  ৩০২ কোটি টাকা। গত দুই কর বছরে সেরা করদাতা হিসেবে এ কোম্পানীকে ট্যাক্স কার্ড সম্মননা ও পুরষ্কৃত করা হয়। দেশের প্রাথমিক জ্বালানি হিসেবে প্রাকৃতিক গ্যাসের সাথে কয়লার ভূমিকা ক্রমান্নয়ে এ দেশে বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ খনি থেকে উৎপাদিত হচ্ছে উন্নত মানের কয়লা। এর তাপজনন ক্ষমতা অনেক বেশী। সালফারের পরিমান অতি নগন্য এবং বড়পুকুরিয়ার কয়লা অনেক বেশী পরিবেশবান্ধব। এই কয়লা শুধু পার্শ্ববর্তী ২৫০ মেগাওয়াট তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের চাহিদাই পুরণ করছে না। দেশের শিল্পকারখানা ও ইটভাটায় ব্যবহার করা হচ্ছে এখানকার কয়লা।

২০০৫ সালের ১০ সেপ্টেম্বর কয়লার বানিজ্যিক উৎপাদন শুরুর পর হতে চলতি বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত  ৬৩ লাখ ৮২ হাজার ৬৪৭ মেট্রিক টন কয়লা উত্তোলন করা হয়েছে। উৎপাদিত কয়লা বিক্রি করে রাজস্ব আয় হয়েছে ৪ হাজার ২৫৮.১৬ কোটি টাকা। এ সময়ে ট্যাক্স, ভ্যাট ও রয়্যালিটি বাবদ সরকারি কোষাগারে জমা হয় ১ হাজার ৭৮.৮৩ কোটি টাকা। ২০০৯ সাল থেকে বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিনত হয়েছে। গত ছয় বছরে কয়লা বিক্রি করে এ খনি মুনাফা করেছে ১ হাজার ৪২৯.৮১ কোটি টাকা। এরমধ্যে ২০০৮-২০০৯ সালে ১৪৮.৮৫ কোটি, ২০০৯-২০১০ সালে ৯৩.০৪ কোটি, ২০১০-২০১১ সালে ১৩৮.৯৩ কোটি ২০১১-২০১২ সালে ৩৪০.৪৩ কোটি এবং ২০১২-২০১৩ সালে ৩৫৪.৭৬ কোটি, ২০১৩-২০১৪ সালে ৩৫৩.৮০ কোটি টাকা।

বড়পুকুুরিয়া কয়লা খনিতে কর্মরত দেশীয় প্রকৌশলী ও শ্রমিকরা দিনে দিনে দক্ষ হয়ে উঠেছে। নিজস্ব দক্ষ জনবল গড়ে উঠায় পার্বতীপুরের বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি এখন সম্ভাবনাময় প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে। আর এ পরিচিতি লাভ করার পিছনে রয়েছেন প্রতিষ্টানটির কোম্পানী সচিব/মহা-ব্যবস্থাপক আবুল কাশেম প্রধানিয়ার নিরালস অক্লান্ত পরিশ্রম, দক্ষতা ও মেধা।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য