মেয়েকে চিরদিনের জন্য হারিয়ে চোখে মুখে অন্ধকার দেখছেন নীলফামারীর ডোমার পৌর এলাকার চিকনমাটি চেয়ারম্যান পাড়ার আমিনুর ইসলাম। বৃহস্পতিবার সকালে তিনি সাংবাদিকদের কাছে কান্না বিজরিত কন্ঠে বললেন, আমার মেয়ের মতো আর কোন মেয়ের জীবন যেন কোন প্রতারকের কবলে পড়ে অকালে ঝড়ে না যায়।

এই অসহায় পিতা গত সোমবার (৮ আগস্ট/১৪) মেয়ের লাশ উদ্ধার করে ডোমারের এনে দাফন করেছেন। এ ঘটনায় নওগাঁর মহাদেবপুর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ প্রতারক আহসান হাবিব জুয়েল (৪২) কে গ্রেফতার করেছে। কিন্তু মামলার সঠিক বিচার তিনি পাবেন কিনা তা নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন বৃষ্টির পিতা।

মেয়েকে হারিয়ে অসহায় এই পিতা অভিযোগ করে বলেন, নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলার গুড়হাড়িয়া গ্রামের মৃত গুল মোহম্মদের ছেলে আহসান হাবিব জুয়েল মোবাইলের মাধ্যমে আমার মেয়ে ডোমার মহিলা ডিগ্রি কলেজের বি, এ প্রথম বর্ষের ছাত্রী আলমিনা পারভিন বৃষ্টি (১৯) সাথে প্রেমের সর্ম্পক গড়ে তোলে। এরপর বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে প্রতারণার মাধ্যমে বৃষ্টিকে পালিয়ে নিয়ে বিয়ে করে। কিন্তু জুয়েলের প্রথম স্ত্রী সৈয়দা নার্গিস পারভীন (৩৭) ও ছেলে নাহিদ (১৯) থাকলেও প্রতারক জুয়েল বিষয়টি গোপন রেখে মেয়ে বৃষ্টিকে নিয়ে ঢাকায় ভাড়া বাসার বসবাস করতো।

বিষয়টি আমার মেয়ে বৃষ্টি জানতে পেরে দুই মাস আগে ফিরে আসে ডোমারে। অবস্থা বেগতিন দেখে জুয়েল ডোমারে ছুটে আসে। এ অবস্থায় প্রতারক জুয়েল তার আগের কোন স্ত্রী, সন্তান নেই মিথ্যে প্রকাশ করে পুনরায় বৃষ্টিকে প্রতারণা করে পরিকল্পিতভাবে ৪ সেপ্টেম্বর ডোমার থেকে নওগাঁর গুড়হাড়ির গ্রামে নিয়ে যায়। সেখানে গিয়ে বৃষ্টি বুঝতে পারে সে পুনরায় প্রতারণার শিকার হলো। কারণ জুয়েলের প্রথম স্ত্রী ও সন্তানকে স্বচোখে দেখতে পেয়ে।

এরপর তারা সকলে মিলে বৃষ্টির উপর নির্যাতন চালাতে থাকে। এক পর্যায় প্রতারক জুয়েল মোবাইল ফোনে বৃষ্টির বাবার কাছে ৩ লাখ টাকা দাবি করে না পেয়ে বৃষ্টিকে হত্যা করে। মহাদেবপুর থানা পুলিশের কাছ থেকে খবর পেয়ে বৃষ্টির পিতা, ভাই ছুটে যান নওগাঁর মহাদেবপুর। সেখানে ৭ সেপ্টেম্বর দুপুরে পুলিশ বৃষ্টির লাশ উদ্ধার এবং প্রতারক জুয়েল কে গ্রেফতার করলেও জুয়েলের প্রথম স্ত্রী সৈয়দা নার্গিস পারভীন ও ছেলে নাহিদ (১৯) পালিয়ে যায়।

এরপর নওগাঁয় ৮ সেপ্টেম্বর বৃষ্টির লাশের ময়নাতদন্ত করা হয়। সেদিন রাতেই বৃষ্টির লাশ ডোমারে এনে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। এ ব্যাপারে মহাদেবপুর থানায় বৃষ্টির ভাই রাইসুল ইসলাস বাদল বাদি হয়ে আহসান হাবিব জুয়েল (৪২), প্রথম স্ত্রী সৈয়দা নার্গিস পাভীন (৩৭), তার ছেলে মোঃ নাহিদ (১৯) কে আসামি করে মামলা দায়ের করেছে।  (মামলা নং-০৫) ।

এ ব্যাপারে নিহতের ভাই রাইসুল ইসলাস বাদল সাংবাদিকদের জানান, সব আসামির সর্বোচ্চ শাস্তি চাই আর আমার মতো কারো বোন যেন মোবাইল প্রতারণায় না পড়ে সে জন্য সকলের সতর্ক হওয়ার পরামর্শ দেন।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য