কুড়িগ্রামে গত এক মাসে নাগেশ্বরী, ও কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার কয়েকটি গ্রামে পাগলা কুকুরের কামড়ে জলাতংকে আক্রান্ত হয়ে ৪৩টি গরু মারা গেছে। এর মধ্যে নাগেশ্বরী উপজেলার ভিতরবন্দ ইউনিয়নেই ২৩টি। সরজমিন ভিতরবন্দ গিয়ে জানা যায়, হাজীপুরের কাঞ্চন শীল, জাহেদুল, সিরাজুল ও আবুল হক, দেবেত্তর গ্রামের রিয়াজুল, কৈকুড়ি গ্রামের শাহিনুর ও সহিদুল, দোয়ালীপাড়া গ্রামের ফজলুল, সুকানদিঘীর কাশেম আলী, বাটুয়াখানা গ্রামের সাবুর আলী, তেলীপাড়া গ্রামের মজিবর, চন্ডিপুর গ্রামের আলতাফ, কোচপাড়া গ্রামের মোতালেব, উডডামারী গ্রামের নুরল হক, ভাঙ্গামোড় গ্রামের জমির উদ্দিন, দিগদারী গ্রামের জয়নাল, মন্নেয়ার পাড় গ্রামের হাছেন আলী, সাতকুড়া গ্রামের নুরহোসেন ও ভবাণীপুরে গ্রামের আজগার আলী এদের সকলের ১‘টি করে ও আলতাফের ২‘টি গরু জলাতংকে মারা গেছে। বাকি ২০টি গরু মারা গেছে ভিতরবন্দের পাশের কুড়িগ্রাম সদরের ভোগডাঙ্গা ইউনিয়নের কৈকুড়ি, পরমালী, বড়ভিটা, পোড়ারভিটা ও সেনপাড়া গ্রামে। ভুক্তভোগী কাঞ্চন শীল জানান, ‘মাসখানেক আগে বাছুরসহ গাভীটি পার্শ্ববর্তী মাঠে বেধেছিলাম। হঠাৎ একটা কুকুর এসে গাভীটাতে কামড় দেয়। এর ১মাস পরে গরুটা মরে যায়। গরুটা বাজারে বিক্রি করলে ৩০হাজার টাকা হত। বাটুয়াখানার সাবর আলী জাননা, ভাদ্র ও আষাঢ় মাস কুকুরের বসন্তকাল। এসময় কুকুরগুলো মিলনের জন্য ব্যাকুল থাকে। মিলন না হলে পাগলা হয়। স্থানীয় পশু চিকিৎসক ডাঃ আবুল কাশেম জানান, জলাতংকে আক্রান্ত গরুর ১০৬ ডিগ্রি তাপমাত্রায় জ্বর আসে, মুখদিয়ে লালা পরে, পানি দেখলে ভয় পায় এবং সবসময় উত্তেজিত থাকে। এসময় উচ্চ ক্ষমতাসম্পন ভ্যাকসিন দিয়েও কাজ হয় না। কুড়িগ্রাম সদর উপজেলা প্রানি সম্পদ বিভাগের ডা. অমিতাভ চত্রবর্তি বলেন, কুকুর দুই কারণে আক্রান্ত হয় ‘থিউরিয়াস ফর্ম ও ডার্ম ফর্রম’। যে সব কুকুর বাদূর বাহিত ‘রাবিস ভাইরাসে’ আক্রান্ত হয় সেগুলো পাগলা হয়ে যাকেই দেখে কামড় দেয়। নাগেশ্বরী উপজেলা প্রানি সম্পদ কর্মকর্তা আব্দুল কাদের বলেন, ভিতরবন্দের খবরটা শুনেছি। শেষ সময় আমার কাছে ৩-৪জন এসেছিল তখন আর করার কিছুই ছিল না। তিনি কৃষকদের কুকুর থেকে গবাদিপশুকে সাবধান রাখার ও কুকুর কামড়ালে দ্রুত ভ্যাসসিন নেয়ার পরামর্শ দেন।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য