বিশ্বভারতীর ভিসি ও অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে এফআইআরছাত্রীর উপর যৌন নির্যাতনের ঘটনা ধামাচাপা দেয়ার অভিযোগে কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর প্রতিষ্ঠিত বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি ও কলাভবনের অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। সোমবার বীরভূম জেলা পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ জানান নির্যাতিতা ছাত্রীর বাবা। সিউড়িতে সুপারের অফিস থেকে বেরিয়ে ছাত্রীর বাবা ভবানী প্রধান জানান, “ভিসি সুশান্ত দত্তগুপ্ত ও কলাভবনের অধ্যক্ষ শিশির সাহানার বিরুদ্ধে এফআইআর করে অবিলম্বে গ্রেফতারের দাবি করেছি। কারণ, ছাত্ররা আমার মেয়ের উপর পাশবিক নির্যাতনের কথা জেনেও বিষয়টির প্রতি গুরুত্ব দেননি। উল্টো আমাকে মেয়ের জামা-কাপড় কিনতে কিছু টাকা ‘ঘুষ’ দিতে চেয়েছিলেন অধ্যক্ষ। গোটা বিষয়টি আমার পরিবার এবং বিশ্বভারতীর পক্ষে চরম অপমানকর ও অসম্মানজনক। ছাত্রীর বাবা আরও বলেন, ২৬ আগস্ট অভিযোগ জানালেও টানা চারদিন কলঙ্কজনক এই বিষয়টি ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করেন কলাভবনের অধ্যক্ষ। অভিযুক্ত ছাত্রদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার পরিবর্তে উল্টো মেয়ের ভবিষ্যতের কথা ভেবে অভিযোগ প্রত্যাহার করার জন্য চাপ দেন শিশির সাহানা। পুলিশ ও সংবাদ মাধ্যমের কাছে না যাওয়ার জন্য হুমকিও দিয়েছিলেন অধ্যক্ষ। পুলিশ সুপারের কাছে নির্যাতিতার বাবা অভিযোগ করেন, “তিন ছাত্রর মোবাইলে তোলা নগ্ন ছবি ও যৌন নির্যাতনে ভিডিও বোলপুর থানার পুলিশ পাচ্ছে না। কিন্তু আমি নিশ্চিত, অধ্যক্ষকে গ্রেফতার করে জেরা করলেই জানা যাবে কে বা কারা ওই ছবি মুছে ফেলেছে। ভিসির বিরুদ্ধে মামলা করায় মেয়ে ও তাঁর নিরাপত্তার বিষয়টি দেখার জন্যও অনুরোধ করেন ভবানী। সিনিয়র তিন ছাত্র’র হাতে যৌন নির্যাতনের পাশাপাশি প্রচণ্ড মারধরে আহত হয়ে কলাভবনের প্রথম বষের্র ছাত্রী এখন বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজে চিকিৎসাধীন। ২৩ আগস্ট ওই ছাত্রদের মারধরে জখম হয়ে দু’দিন বিশ্বভারতীর নিজস্ব হাসপাতাল পিয়ারসনেও ভর্তি ছিল সিকিমের বাসিন্দা ওই ছাত্রী।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য