কুড়িগ্রাম জেলার উপর দিয়ে প্রবাহিত ১৬টি নদ-নদীর পানি হ্রাস পাওয়ায় বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। তবে বানভাসি মানুষের দুর্ভোগ কমেনি। মানুষ বাড়িতে ফির বসবাস উপযোগি করতে ব্যস্ত। কিন্তু হাতে টাকা নেই। ঘরে খাবার সংকট। গ্রামে কোন কাজ নেই। ফলে বন্যার পানি কমলেও দুর্ভোগ কমেনি অসহায় মানুষগুলোর। বন্যায় প্রায় আড়াই লাখ কৃষকের ৪০ হাজার হেক্টর জমির আমন ধান, সবজি ও বীজতলা নষ্ট হয়েছে।

গত ২৩ ঘণ্টায় আরো ৩ শিশুর মৃত্যু সংবাদ পাওয়াগেছে। এরা হলেন-চিলমারী উপজেলার কুটিগ্রামের দুলাল মিয়ার ছেলে রফিকুল (২), উলিপুর উপজেলার পান্ডুল ইউনিয়নের খামার ঢেকিয়ারাম গােমের সাহেব আলীর কন্যা সুমাইয়া (১) ও আপুয়ারখাতা গ্রামের মমিনুলের ছেলে আবিরুল (২)। এ নিয়ে চলতি বন্যা মৌসুমে মৃতের সংখ্যা দ্বাড়াল ৯ জনে। পানি নামার সাথে সাথে দেখা দিয়েছে পানি বাহিত বিভিন্ন রোগ-বালাই। বুধবার বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে ডায়রিয়া ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে ৫২জন ভর্তি হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবেলায় ৮৫টি মেডিকেল টিম মাঠ পর্যায়ে কাজ করছে। কুড়িগ্রাম সিভিল সার্জনের কার্যালয়ের কন্ট্রোল রুমের কর্মকর্তা আখের আলী এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

কুড়িগ্রামে সিএলপি’র (চর জীবিকায়ন কর্মসূচি) অর্থায়নে ও বেসরকারি সংস্থা সলিডারিটি’র উদ্যোগে নাগেশ্বরী উপজেলার ২টি ইউনিয়নের ৮টি গ্রামে ৫৪০ বন্যার্ত পরিবারকে ত্রাণ বিতরণ করা হয়। বুধবার নুনখাওয়া ইউনিয়নে বিতরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন নাগেশ্বরী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবু হায়াত রহমতুল্লাহ। এসময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন নুন খাওয়া’র ইউপি চেয়ারম্যান শাহজালাল উদ্দিন মোল্লা, সিএলপি’র ডিস্ট্রিক ইনফ্রা ম্যানেজার তরিৎ মোহন হালদার, মার্কেটিং এন্ড লাভলিহুড ম্যানেজার নিয়াজ মাহমুদ, মাইক্রো ফাইন্যান্স কর্মকর্তা আব্দুল বাতেন, মাইদুল ইসলাম, ফসিয়ার রহমান, ম্যানেজার হাজেরা বেগম লাভলী, নজরুল ইসলাম, কামরুজ্জামান, আলী নুর প্রমুখ। প্রতি পরিবারকে দেয়া হয় ১হাজার ৫৬ টাকা সমমূল্যের ১০ কেজি চাল, ২ কেজি চিড়া, হাফ কেজি গুড়, ১ লিটার সোয়াবিন তেল, ২ কেজি আলু, ২ কেজি মসুর ডাল, ১ কেজি লবন, ৫ প্যাকেট এনার্জি বিস্কুট, ১০ প্যাকেট খাবার স্যালাইন, ১টি সাবান, ২টি মোমবাতি ও ২টি দিয়াশলাই।

সলিডারিটি’র নির্বাহী পরিচালক হারুন অর রশিদ লাল জানান, নুনখাওয়া ইউনিয়নের ধরকা, ব্যাপারীর চর, পূর্ব ফকিরগঞ্জ, চর নুন খাওয়া গ্রামে এবং বলরুভের খাস ইউনিয়নে মেছেরের চর, পূর্ব ও পশ্চিম কৃঞ্চপুর, ফান্দের চরে বন্যা কবলিতদের মাঝে এসব ত্রাণ বিতরণ করা হয়।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য