বাদল খান

প্রায় ত্রিশ বছর আগে একটা গল্প শুনেছিলাম একজন সাবেক পুলিশ কর্মকর্তার কাছে। ভদ্রলোক গল্প ছলে বললেন কোন এক জেলায় একজন এসপি প্রায় ২ বছর যাবৎ কমর্রত ছিলেন। তিনি নিজেকে অত্যন্ত সৎ বলে দাবী করেন। কর্মকর্তার অধিনস্তরা সেই দাবীকে সুপ্রতিষ্ঠিত করে চলেছেন অদম্য স্পৃহা নিয়ে। একদিন এক সাংবাদিক এসে হাজির হলেন এস পির বিশ্বস্থ ব্যাক্তিগত ষ্টাফের নিকট। সাংবাদিক ও ষ্টাফদের কথাবার্তা ছিল একরকম:
সাংবাদিক : এসপি সাহেব সৎ লোক। এত অল্প টাকা বেতনে তার সংসার চলে কিভাবে?
ষ্টাফ : আর বলবেন না ভাই, আমি জীবনে অনেক এসপি এর অধীনে কাজ করেছি: এমন সৎ লোক পাই নাই।
সাংবাদিক : তাহলে তার সংসারের অবস্থা-পান্তা আনতে নুন ফুরাবার মতোই হবে।
ষ্টাফ : আর বলবেন না ভাই। স্যার প্রতিদিন ১০০ (একশত) টাকার অতিরিক্ত বাজার সদায়ে খরচ করেন না।
সাংবাদিক : এমন চড়া বাজারে ১০০ (একশ) টাকায় তেমন কিছুই তো পাওয়া যায় না। নিশ্চয় ভাল-মন্দ খাওয়াও ঠিক মতো জুটে না।
ষ্টাফ : প্রতিদিন স্যারের বাজার আমাদের একজন দারোগা সাহেবই করেন। স্যার প্রত্যেক দিন সকালে এসে দারোগা সাহেবের হাতে গুনে গুনে ১০০/- টাকা দিয়ে বাজার করে আসতে বলেন। দারোগা সাহেব বাজার সদাই করেন। কোন কোন দিন ১০/২০ টাকা সাহেবকে ফেরৎ দেন।
সাংবাদিক : বলেন কি তাহলে কি বাজার করেন?
ষ্টাফ : ধরুন দারোগা সাহেব ১০০ টাকায় ২/৩ টা মুরগী, ২ কেজী ভাল খাসির গোস্ত, ১ কুড়ি বড় সাইজের কৈ মাছ। শাক সবজী তরকারী, ডজন খানেক কলা, সাথে অন্যান্য ফল। তাছাড়া স্যার দই ভালবাসেন বলে এক হাড়ি দই। চায়ের পাতা-সাথে চিনি। সেই সাথে স্যারের ঔষধ। স্যার বাসমতি চালের ভাত খান; তাই প্রতিদিন ২ কেজি বাসমতি চাল ইত্যাদি নিয়ে এসে সাহেবকে বুঝিয়ে দেন। সেক্ষেত্রে কোন কোন দিন ১০/২০ টাকা বেঁচে গেলে সেটাও সাহেবকে দারোগা সাহেব বুঝিয়ে দেন। আমি সেগুলি গুছিয়ে নিয়ে বাসায় নিয়ে আসি।
পাঠক উপরোক্ত কথাপোকথন থেকে সহজেই অনুমান করতে পারছেন; পুলিশ বাহিনীতে সততার নমুনা কোন পর্যায়ে রয়েছে। তবে একথা সত্য যে, পুলিশ বাহিনীতে মমিন উল্ল্যাহ পাটোয়ারী সাহেবের মত সৎ কর্মকর্তাদের যে দেখা পাওয়া যায় না তা নয়। তবে তার সংখ্যা পরিমানে অত্যন্ত কম।

বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীর উত্থান ঘটে সভ্যতার ইতিহাসের ক্রম বিবর্তনের ধারাবাহিকতা। রোম সভ্যতায় পুলিশ বাহিনীর উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। তারই ধারাবাহিকতায় বৃটিশ সমাজ ব্যস্থায় সামাজিক শৃঙ্খলা রক্ষার্থে পুলিশ বাহিনীর উদ্ভব ঘটে। ১৮২৯ সালে বৃটিশ প্রধানমন্ত্রী স্যার রবার্ট পীল বৃটিশ পার্লামেন্টে সিভিল পুলিশ বিল উত্থাপন করেন। তৎপরবর্তীতে লন্ডন মেট্রোপলিটন এলাকায় সিভিল পুলিশ নিয়োজিত হয়। ১৮৩৩ সালে আমেরিকার নিউইর্য়ক সিটিতে বৃটিশ মডেল মিউনিসিপ্যাল পুলিশ বাহিনী নিয়োজিত হয়। ১৮৪৮ সালে ইষ্ট-ইন্ডিয়া কতৃর্ক ভারত বর্ষে পূর্ণ দখলদারিত্ব কায়েম করার পর ১৮৪৯ সালে ভারত বর্ষে বৃটিশ সরকারের আদলে পুলিশ বাহিনী নিয়োগের লক্ষ্যে কমিশন গঠন করা হয়। কমিশনের সুপারিশক্রমে পুলিশ এ্যাক্ট ১৮৬১ বৃটিশ পার্লামেন্টে পাস হওয়ার পর ভারতবষের্র প্রতিটি প্রদেশে পুলিশ বাহিনী নিয়োজিত হয়। পরবর্তীতে একই ধারাবাহিকতায় পাকিস্তানের পুলিশ বাহিনীর উত্থান। তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান পুলিশ বাহিনী ১৯৭১ এর মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়ে বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীতে রুপান্তরিত হয়েছে। সামন্ত প্রভুদের স্বার্থ রক্ষার্থে পুলিশ বাহিনী তদানিন্তন পাকিস্তানে কাজ করত। পরবর্তীকালে বাংলাদেশের পুলিশ বাহিনী উচ্চবিত্তদের স্বার্থ রক্ষায় অধিকতর মনোনিবেশ করতে আগ্রহী হয়েছে। যদিও দাবী করা হয় দেশের জনগণের স্বার্থে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা করা ও সেবা প্রদানই পুলিশ বাহিনীর প্রধান লক্ষ্য।
পুলিশ বাহিনী অপরাধ দমন, জনস্বার্থ রক্ষা ব্যবস্থাপনা, জনগণের মৌলিক সেবা নিশ্চিত করণ, আইন শৃঙ্খলা রক্ষা করা, অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা, সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি ও আন্তর্জাতিক শান্তি রক্ষায় দায়িত্ব পালনে নিয়োজিত রয়েছে। স্বাধীনতার পর দীর্ঘ ৪৩ বছরে পুলিশ বাহিনীর পরিধি ব্যাপকভাবে বিস্তৃত হয়েছে। তবে আধুনিকায়নে এখন পর্যন্ত শতভাগের মধ্যে ৫০ ভাগ লক্ষ্য অর্জন করেনি। তাছাড়া পুলিশ বাহিনীতে কমর্রত সদস্যদের মন-মানসিকতা থেকে এখনো পর্যন্ত একটি গোষ্টির স্বার্থ রক্ষার প্রতি ঝুঁকে থাকার প্রবণতাটি রোধ করা যায়নি।
৮০ দশক থেকেই পুলিশ বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে নানারূপ অভিযোগ উত্থাপিত হতে থাকে। দূর্নীতি, অত্যাচার, নিপীড়নের অভিযোগ বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। অতি সম্প্রতি পুলিশ বাহিনীর বিরুদ্ধে ক্ষমতাসীনদের লাঠিয়াল বাহিনীতে পরিণত হওয়া এবং বিচার বর্হিভূত হত্যাকান্ডের অভিযোগ ব্যাপকভাবে উত্থাপিত হচ্ছে। পুলিশ বাহিনীর পক্ষে-বিপক্ষে দু’টি ধারা বর্তমান সমাজ ব্যাবস্থার পরিলক্ষিত হয়। ৮০ দশক থেকেই যারাই সরকারে থেকেছেন তারাই পুলিশ বাহিনীর পক্ষে সাফাই গেয়েছেন “পুলিশ বাহিনীর কিছু কিছু সদস্যের অপকমের্র জন্য; গোটা পুলিশ বাহিনী দায়ী নয়”। বিরোধী দল ও গোষ্ঠি পুলিশ বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে অনৈতিকতা ও বিধি বর্হিভূত কার্যক্রমের অভিযোগ উত্থাপন করেন ঢালাও ভাবে। পুলিশ বাহিনী সদস্যদের সম্পর্কে অত্যন্ত সুবিধাজনক অবস্থায় অভিমত প্রদান করে থাকেন আঁতেল সমাজ তারা বলেন- পুলিশ বাহিনীতে সংস্কার আনা দরকার। মোদ্দা কথা হলো যে যেভাবেই বলুন না কেন-তাতে যে পুলিশ বাহিনীর সদস্যরা দায় মুক্তি পান তা কিন্তু নয়। কোথাও না কোথাও পুলিশ বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে অভিযোগের পাল্লাটি হেলেই থাকে। পুলিশ বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে সর্ব সাধারণের ধারনা টাকার জন্য তারা যে কোন পর্যায়ে নামতে পারেন। এটাকে যেন তেন করে পাশ কাটা যাবে না। বাংলাদেশের পুলিশ বাহিনী বর্তমানে সামন্ত প্রভুদের স্বার্থ রক্ষার্থে নিয়োজিত না থাকলেও; শাসক শ্রেণীর হুঙ্কারে নড়া-চড়া করেন তাতে কোন সন্দেহ নেই। তার সাথে টাকার গন্ধ পেলে যে কোন হেন কাজ করতেও তারা দ্বিধা করেন না। বাংলাদেশের প্রতিটি থানা-ফাঁড়ি, চেক পোষ্ট, ট্রাফিক মোড়ের প্রতিদিনের পুলিশ বাহিনীর সদস্যদের ক্রিয়া-কর্ম পর্যালোচনা করলে ভাল কোন উদাহরণ বেরিয়ে আসবে না এটাই হলো চরম সত্য। দু’চারটা ভাল উদাহরণ বেরিয়ে এলেও সংখ্যাতত্ত্বে তা আমলে নেয়ার মতো হয় না। তবে সান্তনার কথা এটাই যে, দু-চারটা ভাল উপমার কারণেই এখন পর্যন্ত সর্ব সাধারণ পুলিশ বাহিনীর ওপর ভরসা হারিয়ে ফেলেনি।
পুলিশ বাহিনীর সসদ্যদের আচার আচরণ নিয়ে অনেক প্রাবন্ধিক ইদানিং লেখালেখি করছেন। কেউ কেউ লিখছেন পুলিশ-র‌্যাব এর সংস্কার করতে হবে। কেউ বলছেন পুলিশকে নিরপেক্ষভাবে কাজ করতে দিতে হবে। কেউ কিন্তু বলছেন না পুলিশের “সেন্টিমেন্ট চেঞ্জ” করতে হবে। প্রশ্ন করতেই পারেন পুলিশ কি সাধারণ মানুষের বাইরে নাকি যে তাদের আলাদাভাবে সেন্টিমেন্ট চেঞ্জ করতে হবে। কথাটা একেবারে অযৌক্তিক নয় বটে; তবে ক্ষেত্র বিশেষ যে সেন্টিমেন্টের প্রকারভেদ হতে পারে তা একেবারেই অনস্বীকার্য নয়। যেমন ধরুন আমাদের সমাজে একটি কথা প্রচলিত রয়েছে Ñ কোন দুর্ঘটনা ঘটার কারণে যদি ৩ জন মানুষ মারা যায়; তাতে যদি পুলিশ থাকেন; তখন স্বাভাবিকভাবে বলা হয়ে থাকে ‘দুজন মানুষ ও ১ জন পুলিশ মারা গেছে”। সেক্ষেত্রে মানুষ ও পুলিশ দু’টি জাতে পৃথক হয়েছে। এর পিছনে কারণ হলো পুলিশ সদস্যদের চিরাচরিত আচরণ। বৃটিশ-ভারত থেকে অদ্যাব্দি পুলিশ নির্যাতনের প্রতীক হয়ে জনমানসে প্রতিষ্ঠিত হয়ে গেছে। সেই আদী কাল হতেই পুলিশ বাহিনীর সদস্যরা সাধারণ মানুষকে নিজেদের মনে মর্যাদার আসনে বসাতে পারেনি। কারণ একটাই, প্রথমে তাদের তাবেদারী করতে হতো সামন্ত প্রভুদের, পরবর্তীতে উচ্চ বিত্তদের। স্বাধীন হওয়ার পর হতে ক্ষমতাসীনদের।
বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর আশির দশক থেকে পুলিশ বাহিনীর সদস্যরা রাজার দরবারের দূর্নীতবাজ উজিরের গল্পের মতো ঢেউ গুনে টাকা নেয়ার প্রবণতা তৈরী করে নিয়েছে। প্রতিটি থানার চুরি-ছেচড়ামী থেকে শুরু করে খুন-রাহাজানী সর্বক্ষেত্রে সকল মামলাতেই তাদের টাকা অর্জনের উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। মোক্ষম খাত হয়ে গেছে রিমান্ড, ৫৪ ধারার গ্রেপ্তারসহ শত শত বিষয়াদি। কথায় আছে “বাঘে ছুঁলে ১৬ ঘা; পুলিশ ছুঁলে ১৮ ঘা”। থানায় যাবেন তাতেই আপনার কম্ম শেষ। কিছু না কিছু ঢেলে দিয়ে আসতে হবে। বাদী-বিবাদী সকলকেই ঢালতে হবে, কাঠের বাক্সে লাখ থেকে শত টাকা। তবে যে তার ব্যাতিক্রম হয় না; তা নয়। ক্ষমতাসীনদের কেউ থানায় গেলে বরং নিয়ে আসতে পারেন। কম করে হলেও এক কার্টুন দামী সিগারেট ভ্যাট স্বরূপ। কয়-কদরের তো শেষ নেই। সামন্ত প্রভু নেই তো কি হয়েছে; চাকুরীতে টিকে থাকার প্রভু তো আছেন। চাকুরী টিকলেই হলো ঢেউ গুনে গুনে টাকা আদায় হয়ে যাবে। বেতনের দরকার নেই, শুধু দরকার পোশাকটা, পোশাকটা না হোক থানা-ফাঁড়ি কিংবা চেক পোষ্টে বসার কোনভাবে একটা জায়গা। ওসি, দারোগা, কনস্টেবল না হয়ে কেইস রাইটার হিসেবে জায়গা পেলেও চলবে। তাতেই ঢেউ গুনা যাবে। মামলা করা থেকে শেষ সবটাই নিভর্র করে পোশাকধারীদের মন-মজির্র ওপর। মন-মর্জী নিভর্র করে টাকা-পয়সার আমদানীর ওপর। এটা হলো পুলিশ বাহিনীর সদস্যদের আচরণ। এই আচরণে জড়িয়ে আছেন পুলিশ বাহিনীর শতকরা ৯৫ ভাগ সদস্যই। ৫ ভাগ ভাল আছেন তাতে সন্দেহ নেই। তা না হলে পুলিশ বাহিনীতে মমিন উল্ল্যাহ পাটোয়ারী সাহেবদের দেখা পাওয়া যেত না।
পুলিশ বাহিনী সদস্যদের বিরুদ্ধে অভিযোগ এর সংখ্যা কত তা’ নির্ণয় করা কঠিন। তবে অনুধাবন করা যাবে। মামলা গ্রহণ থেকে শুরু করে তদন্ত ও চার্জসীট কিংবা ফাইনাল রিপোর্ট দেয়া পর্যন্ত তাদের গতিবিধি পর্যালোচনা করলে মানবিক কোন আচরণ খুঁজে পাওয়া যাবে না। মনে হবে এরা সাক্ষাৎ যমদূত। সেটা বাদী কিংবা বিবাদী সকলের জন্য প্রযোজ্য। ব্যবহারের মাত্রা নিভর্র করে কোন পক্ষ থেকে কতটুকু পাওয়া গেল তার ওপর। চার্জসীট কিংবা ফাইনাল রিপোটের্র পর বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর তার ফলাফল পর্যালোচনা করলেই বুঝা যাবে, পুলিশ বাহিনীর সদস্যরা তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব কতখানি বিধি সম্মত এবং সংবিধান মোতাবেক পালন করেছেন। থানার অভিযোগ পত্র তার পরবর্তীতে আদালতের রায়ের মাঝে যে ব্যাপক ফারাক তাকে কোন ভাল অভিজ্ঞতায় ফেলা যাবে না। ফলশ্রুতিতে উচ্চতর আদালতে মামলা জট লেগেই আছে ৫৬১/এ ধারায়। পুলিশ বাহিনীর সদস্যদের এই সব ক্রিয়া-কমের্র দায় আজ-কালের নয়। বহুকালের লালিত পালিত অনৈতিকতা বর্তমানে জগদ্দল পাথর হয়ে জনগণের ওপর চেপে বসেছে। পুলিশের প্রতিটি বিভাগে চরম অনৈতিকতার মূল কারণ হচ্ছে আমাদের সামাজিক ব্যবস্থাপনা। আশির দশক থেকে আমাদের সমাজপতি রাজনৈতিকরা সামন্ত প্রভুদের জায়গাটি দখল করে নিয়েছেন। তাদেরই পৃষ্ঠপোষকতায় পুলিশ বাহিনীর সদস্যদের একটি আলাদা সেন্টিমেন্ট গড়ে উঠেছে। এদের নিয়োগ প্রক্রিয়া থেকে শুরু করে শীর্ষ পর্যায়ে পৌঁছার প্রতিটি স্তরেই রয়েছে লেন-দেন হিসাব-নিকাষ। এই ক্ষেত্রে মেধা পুঁজির চেয়ে বড় পুঁজি হয়ে দাঁড়িয়েছে টাকা-কড়ির লেনদেন। সংস্কার করে এর পরিবর্তন আনা অত্যন্ত কষ্ট সাধ্য ব্যাপার।
পুলিশ বাহিনীর সদস্যদের আচরণে বা ক্রিয়া কমের্র আমূল পরিবর্তনের পূর্বশর্ত হলো দেশের নীতি নির্ধারকদের মাঝে ন্যায় নীতির স্বচ্ছতা। দেশের রাজা-ধীরাজ, সাংগ-পাংগরা যদি নিজেদের মাঝে সামাজিক ন্যায় প্রতিষ্ঠায় দৃর প্রতিজ্ঞ হন; তবে পুলিশ বাহিনীতে আলাদা করে কোন সংস্কারের দরকার পড়বেনা। সমাজপতিরা যদি মনে প্রাণে আম-জনতার সাথে মিলে-মিশে একাকার হতে পারেন; তবে পুলিশ বাহিনীও তাতে একাত্ম হতে বাধ্য। সেক্ষেত্রে পুলিশ বাহিনীর প্রতিটি সদস্যই ন্যায়তার সংস্কৃতিতে প্রবাহমান হয়ে একেক জন মমিন উল্ল্যাহ পরিবারের হবেন- এটাই চরম সত্য।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য