09_narendra-modi_ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক: ভারতের ক্ষমতাসীন বিজেপি সরকারের সাম্প্রতিক একটি সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষামহলে তীব্র বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। ৫ সেপ্টেম্বর শিক্ষক দিবস উপলক্ষে দেশের সব স্কুলে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ভাষণ শোনানোর নির্দেশকে কেন্দ্র করেই এই বিতকের্র সূত্রপাত। ওইদিন দুপুর ৩টা থেকে পৌনে ৫টা পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের স্কুলে রেখে টেলিভিশনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বক্তব্য শোনানোর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। আর এ উদ্যোগকে ‘ফ্যাসিবাদি সিদ্ধান্ত’ বলে মন্তব্য করেছেন পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যের সাবেক শিক্ষামন্ত্রী কান্তি বিশাস। বামপন্থী এই নেতা বলেছেন, কেন্দ্রের এই নির্দেশ কার্যকর করা হলে তা হবে আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত। আমি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বলছি যাতে কোনোমতেই ফ্যাসিবাদি নির্দেশ কার্যকর না করেন তিনি।’পশ্চিমবঙ্গের প্রদেশ কংগ্রেস নেতা প্রদীপ ভট্টাচার্য তার প্রতিক্রিয়ায় বলেছেন, ‘নরেন্দ্র মোদি প্রধানমন্ত্রী হতে পারেন কিন্তু তিনি কোনোদিন শিক্ষকতার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না। ওইদিন তার কথা কেন স্কুলে শোনানো হবে? এটা তো একেবারে হিটলারি কায়দা। ছাত্রছাত্রীদের বলব এমন নির্দেশের প্রতিবাদ জানাতে তারা যেন ওই সময় টেলিভিশন বন্ধ করে রাখে।’পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় বলেছেন, ‘ওইদিন নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে রাজ্য সরকার শিক্ষক দিবস পালন করবে। স্কুলগুলোতেও তা পালন করা হবে। এর বাইরে কোনো কর্মসূচি নিয়ে আগ্রহ নেই।’রাজ্যের স্কুল শিক্ষা দফতরের সাবেক মন্ত্রী পার্থ দে এ সম্পর্কে বলেছেন- কোনোভাবেই এই কর্মসূচি পালন করা উচিত নয়। তৃণমূল সংসদ সদস্য অধ্যাপক সৌগত রায় বলেন, ‘এই নির্দেশ অযৌক্তিক তো বটেই, এইভাবে নিজেকে দেখানো বা প্রচার করার কোনো উদ্যোগ আজ পর্যন্ত ভারতের কোনো প্রধানমন্ত্রী নিয়েছেন বলে আমি জানি না। ওয়েস্ট বেঙ্গল খ্রিস্টান স্কুলের সচিব মলয় ডি কোস্টা বলেছেন, ক্লাস ছাড়া পড়–য়াদের এতক্ষণ বসিয়ে রাখা সম্ভব নয়। শিক্ষাবিদ পবিত্র সরকার বলেছেন , ‘যে দেশে বহু স্কুলে বিদ্যুৎ নেই, শৌচাগার নেই সেখানে কেন্দ্রের এই নির্দেশ কর্পোরেট সুলভের মত। প্রধানমন্ত্রীকে পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, ‘ আপনি বরং সব ভাষায় সংবাদপত্রে আপনার বক্তব্য ছাপিয়ে দিন। আর শিক্ষকদের বলুন সেটা পড়ে শোনাতে। তাহলেই তো সব মিটে যায়।’ তবে, রাজ্যের বিজেপি নেতা তথাগত রায় বলেছেন, ‘এরপর তো বলা হবে, যে স্কুলে শিশুরা খেতে পায় না সেখানে শৌচাগার কেন হবে? ’এদিকে তামিলনাড়ু রাজ্যের ডি এম কে পাটির্র প্রধান এম করুণানিধি শিক্ষক দিবসের নামকরণ ‘গুরু উৎসব’ করায় কেন্দ্রীয় সরকারকে সমালোচনা করেছেন। এটাকে তিনি তামিল ভাষাকে ছোট করার ষড়যন্ত্র বলে মন্তব্য করেছেন। সম্প্রতি কেন্দ্র থেকে সব রাজ্যে একটি নির্দেশ পাঠানো হয়েছে। তাতে বলা হয়েছে, ৫ সেপ্টেম্বর শিক্ষক দিবসে প্রধানমন্ত্রী দিল্লির স্কুল ছাত্রদের সামনে একটি ভাষণ দেবেন। দুপুর পৌনে তিনটা থেকে পাঁচটা পর্যম্ত তিনি পড়–য়াদের সঙ্গে কথা বলবেন। এই অনুষ্ঠান সব ছাত্রছাত্রীদের দেখাতে হবে। বলা হয়েছে যে-সব স্কুলে বিদ্যুৎ সংযোগ ও টিভি আছে সে-সব স্কুলে অনুষ্ঠান দেখানো কোনো সমস্যা নয়। কিন্তু যে-সব স্কুলে তা নেই, সেখানে বিশেষ জেনারেটরের মাধ্যমে, টিভি এনে স্কুল শিক্ষার্থীদের তা দেখাতে হবে। যদি তা না সম্ভব হয় তা হলে বেতারে তা শোনাতে হবে। কারণ দূরদর্শন ও বেতার দুটিতেই সেই অনুষ্ঠান প্রচার করা হবে। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গে বহু স্কুলে টিভি নেই৷ এমনকি বিদ্যুৎ সংযোগ নেই। সে কারণে ওই নির্দেশ মানা সম্ভব নয় বলে পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চ্যাটার্জি জানিয়েছেন।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য