পর্নগ্রাফিবাংলাদেশে গত নয় বছর ধরে শিশু পর্নোগ্রাফী তৈরী হচ্ছে। এ অপরাধী চক্র অন্তত ৫শ’ ছেলেশিশুকে নানা প্রলোভন অথবা ভয়ভীতি দেখিয়ে পর্ণোগ্রাফিতে যুক্ত হতে বাধ্য করে। এদের অধিকাংশই পথশিশু বলে পুলিশ মনে করছে। কর্মকর্তারা বলছেন, প্রতি মাসে বা সপ্তাহই এক-দুজন নতুন শিশু তাদের শিকার হতো। গত জুন মাসে গ্রেফতার হওয়া একজন শিশু সাহিত্যিক- যার সাথে আন্তর্জাতিক শিশু পর্নোগ্রাফি চক্রের প্রত্যক্ষ সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গিয়েছিল- তার হাতে অন্তত ৫শ’ বালক যৌন নিপীড়নের শিকার হয়েছে বলে তদন্ত চালিয়ে জানতে পেরেছে পুলিশ। জুন মাসে টিপু কিবরিয়া নামের ওই শিশু সাহিত্যিক এবং তার তিনজন সহযোগীকে পুলিশ ঢাকা থেকে গ্রেফতার করে।

তদন্তকারী পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, তারা বিভিন্ন বস্তি বা অন্যান্য এলাকা থেকে অল্পবয়স্ক বালকদের এনে তাদের ব্যবহার করে শিশু পর্নো ভিডিও তৈরি করতো। আর তা ইন্টারনেটে গ্রাহকদের সরবরাহ করা হতো এবং এ ক্ষেত্রে অর্থ লেনদেনের কাজে সহায়তা করতো এমন একজনকেও সেসময় গ্রেফতার করা হয়। উদ্ধার করা হয় তাদের এই কর্মকান্ডের শিকার একজন বালককে। ২০০৫ থেকে তাদের এই কর্মকান্ড চলছে, এবং এর শিকার হয়েছে এমন শিশুর সংখ্যা পাঁচশ’ পর্যন্ত হতে পারে বলে জানিয়েছেন পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের অতিরিক্ত ডি আইজি শাহ আলম। পুলিশের এই কর্মকর্তা বলছেন, শিশুদেরকে নিয়ে পর্ণো ব্যবসার সাথে জড়িত এমন একটি বড় আন্তর্জাতিক চক্রকে চিহ্নিত করবার দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গেছেন তারা। চক্রটির কর্মকান্ডের প্রচুর পরিমাণ আলোকচিত্র, ভিডিও, ভিডিও তৈরির যন্ত্র, হার্ডডিস্ক, দলিলপত্র এবং অন্যান্য তথ্য উদ্ধার করেছে পুলিশ।

এগুলো বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে বিভিন্ন দেশে এই চক্রটির ‘ক্লায়েন্ট’ বা গ্রাহক ছিল। এর মধ্যে আটটি দেশের ১৩ জন লোককে চিহ্নিত করা হয়, যারা এই সব ভিডিও পাবার জন্য গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিদের ওয়েস্টার্ন ইউনিয়নের মাধ্যমে অর্থ দিয়েছে। এই গ্রাহকদের সনাক্ত করার জন্য ইন্টারপোলে সাহায্য নেয়া হচ্ছে বলেও পুলিশে এই কর্মকর্তা জানিয়েছেন। দুই মাস ধরে তদন্তের পর তারা জানতে পেরেছে টিপু কিবরিয়া- যার আসল নাম টি আই এম ফখরুজ্জামান, তার নেতৃত্বে ওই চক্রটি গত নয় বছরে অন্তত ৫শ ছেলেশিশুকে নানা প্রলোভন অথবা ভয়ভীতি দেখিয়ে পর্ণোগ্রাফিতে যুক্ত হতে বাধ্য করে। এদের অধিকাংশই পথশিশু বলে পুলিশ মনে করছে। কর্মকর্তারা বলছেন, প্রতি মাসে বা সপ্তাহই এক-দুজন নতুন শিশু তাদের শিকার হতো। টিপু কিবরিয়া নিজেও আদালতে দেয়া জবানবন্দিতে এই ব্যবসায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন।

গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছেন পুলিশ কর্মকর্তারা। এরকম আরো কোন চক্র বাংলাদেশের ভেতর থেকে কাজ করছে কিনা- তাও তদন্ত করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তারা।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য