7সিরিয়ায় উগ্রপন্থী ইসলামিক স্টেট (আইএস) আরো এলাকা দখল করায় এবং গোষ্ঠীটির হাতে সরকারি বাহিনীর বহু সেনা নিহত হওয়ায় উদ্বিগ্ন হয়ে উঠেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদের ঘনিষ্ঠ মিত্ররা। বিদ্রোহী জঙ্গিদের দমনে সরকারের ব্যর্থতার জন্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে সরকারের কড়া সমালোচনা করেছেন তারা।

গত সপ্তাহে রাক্কা প্রদেশে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ তাবকা বিমানঘাঁটি দখল করে নেয় আইএস জঙ্গিরা। ওই বিমান ঘাঁটি থেকে বন্দি আড়াইশ’ সরকারি সেনাকে মরুভূমিতে নিয়ে গুলি করে হত্যার দৃশ্য ইন্টারনেটে প্রচার করে আইএস। এতে দেশটির গৃহযুদ্ধে প্রেসিডেন্ট আসাদের পক্ষ নেওয়া মিত্ররা উদ্বিগ্ন হয়ে উঠেছেন। এদের মধ্যে অন্যতম আসাদের চাচাতো ভাই দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করেছেন। তাবকা বিমান ঘাঁটির পতনের জন্য প্রতিরক্ষামন্ত্রীকে দায়ী করেছেন তিনি।

রাক্কা প্রদেশের তাবকা ঘাঁটি এলাকাটিই শুধু সরকারি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে ছিল। প্রদেশের বাদবাকি প্রায় পুরোটাই আইএস’র দখলে ছিল। ওই ঘাঁটিটির পতনের পর পুরো প্রদেশেটিই আইএস’র নিয়ন্ত্রণে চলে গেছে। নিজের ফেইসবুক পেইজে দুরাইদ আল আসাদ লিখেছেন, ‘আমি প্রতিরক্ষামন্ত্রী, চিফ অব স্টাফ, বিমানবাহিনী প্রধান, তথ্যমন্ত্রী ও অন্যান্য যারা তাবকা সেনা বিমানবন্দর পতনের জন্য দায়ী তাদের পদত্যাগ দাবি করছি।’ তার এই দাবির প্রতি হাজারেরও বেশি ফেইসবুক ব্যবহারকারী সমর্থন জানিয়েছেন। বহু ব্যবহারকারী তাদের মন্তব্যও পেশ করেছেন।

১৯৮০ সালে সিরিয়ার প্রয়াত প্রেসিডেন্ট হাফেজ আল আসাদের বিরুদ্ধে অভ্যুত্থান প্রচেষ্টার অভিযোগে সিরিয়া থেকে নির্বাসিত রিফাত আল আসাদের ছেলে দুরাইদ। ফেইসবুকের মাধ্যমে বার্তা সংস্থা রয়টাসের্র সঙ্গে যোগাযোগে তিনি এখন সিরিয়ায় বসবাস করছেন বলে জানিয়েছেন।

গত রোববার আইএস’র জঙ্গিরা তাবকা বিমান ঘাঁটি দখলে নেয়ার আগে সিরিয়ার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে ঘাঁটিটি রক্ষা করার প্রত্যয় জানানো হয়েছিল। রোববার ঘাঁটির পতন হলে বলা হয়েছিল, ঘাঁটি ছেড়ে সরকারি বাহিনী সফলভাবে পশ্দাৎপসরণ করেছে।  কিন্তু ইউটিউবে এবং আরব নিউজ চ্যানেলগুলোতে আইএস জঙ্গিকর্তৃক বন্দি সিরীয় সেনাদের হত্যার দৃশ্য প্রচারিত হলে সরকারি প্রোপাগান্ডার অসারতা প্রমাণিত হয়।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য