লিমা রায়রতন সিং দিনাজপুর ॥ অপহরণের পর দীর্ঘ আড়াই মাস অতিবাহিত হবার পরেও দিনাজপুর কোতয়ালী থানাধীন পারগাঁও গ্রাম অধিবাসী দরিদ্র কৃষক হরিশ চনদ্র রায়ের কলেজপড়–য়া কন্যা লিমা রায় অপহরণ মামলার কোন সুরাহা করতে পারেনি কোতয়ালী থানা পুলিশ। পরিবারের অভিযোগ, একপ্রকার নিষ্ক্রিয় ভূমিকা পালন করছে পুলিশ।

থানায় দায়ের করা মামলা সূত্রে জানা যায়, হরিশ চন্দ্র রায়ের মেয়ে লিমা রায় (১৭) পূর্ব পারগাঁও প্রাণ কুমার উচ্চ বিদ্যালয় হতে এ বছর এস এস সি পাশ করে রাণীগঞ্জ এহিয়া হোসেন এন্ড কলেজে প্রথম বর্ষে ভর্তি হয়।  কলেজ যাতায়াতের পথে কয়েকজন মাস্তান তাকে অকথা, কুকথা বলতে থাকে এবং কু প্রস্তাব দিতে থাকে। লিমা রায় তাদের কথায় কর্ণপাত না করায় তারা বিভিন্ন প্রকার হুমকী দিতে থাকে। লিমা রায় এ কথা তার পিতামাতাকে জানালে তারা আসামীদের অভিভাবকদের তা অবহিত করে।

আসামীরা এতে আরো বেশী ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে এবং লিমার কলেজ ও প্রাইভেট পড়তে যাবার পথে তাকে আরো বেশী করে উত্যক্ত করতে থাকে। গত ১০ জুন সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে  লিমা রায় রাণীগঞ্জনিবাসী তার মামার বাড়ীর আঙিনায় দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় আসামী নূর আলম, নূরনবী ও মোঃ জসিম মোটর সাইকেলযোগে সেখানে হাজির হয়। তারা জোর করে মোটর সাইকেলযোগে লিমাকে অপহরণ করে নিয়ে যায়। তাকে অপহরণ করে নিয়ে যেতে দেখে হরিশ চন্দ্র রায়ের শ্যালকের স্ত্রী ও তার সম্বন্ধীর মেয়ে। তারা দ্রুত বাড়ীতে গিয়ে বিষয়টি জানায়। এ অঘটন জানতে পেরে লিমার অভিভাবকেরা অপহরণকারীদের বাড়ীতে গেলে অপহরণকারীরা জানায়, অপহৃতা তাদের কাছেই আছে। ফেরত দেয়া হবে না। এরপর অভিভাবকেরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজ খবর করে লিমার সন্ধান না পেয়ে কোতয়ালী থানায় একটি মামল দায়ের করেন। মামলা নং ২৫, তারিখ ১৩-০৬-১৪।

মামলার আসামীরা হলো, পূর্ব পারগাঁও নিবাসী নূর আলম (২১) ও মোঃ নূর নবী (২৫), মোঃ জসিম (২০) সাং হরিরামপুর, মোঃ আজিজুর রহমান (৪৭) মোসাম্মৎ নূর জাহান বেগম (৪২)। এ ব্যাপারে আলাপ হয় তদন্ত কর্মকর্তা এস আই দিপেন সিংহ এর সাথে। তিনি বলেন, একজন আসামীকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। তবে সে জামিনে থাকায় তাকে ছেড়ে দেয়া হয়। অপরাপর আসামীদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য