Hiliকুরবান আলী, দিনাজপুর ॥ দীর্ঘদিন ধরে দুই দেশের আইনী প্রক্রিয়া শেষে ভারতে আটক থাকা ১১ কিশোর চার বছর পর দেশে ফিরেছে। মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৭টায় ভারতের হিলি অভিবাসন পুলিশ বাংলাদেশের দিনাজপুরের হিলি চেকপোষ্ট অভিবাসন পুলিশের কাছে তাদের হস্তান্তর করে। এ সময় জাতীয় মহিলা আইনজীবি সমিতি ও ভারতের বালুরঘাট স্পারের কর্মকর্তারাসহ গণমাধ্যম কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। পরে তাদের এ দুটি সংস্থার মাধ্যমে পরিবারের স্বজনদের কাছে তুলে দেওয়া হয়।

ফিরে আসা কিশোরেরা হলো, চট্টগ্রামের ইলিশা গ্রামের হাফেজ আহমদের ছেলে জুনাইদ (১৩), বি.বাড়িয়ার নবিনগর উপজেলার লৌহফতেপুর গ্রামের আজিজুল হকের ছেলে আবু কাউছার (১৫), ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলার গোসাইল গ্রামের সেকেন্দার আলীর ছেলে আকাশ হোসেন (১৩), বগুড়া শহরের খন্দর বাজার এলাকার শামসুল শেখের ছেলে সোহেল শেখ (১৭), দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলার অচিন্ত্যপুর গ্রামের হানিফ মন্ডলের ছেলে হামিদুল ইসলাম (১৫) এবং একই জেলা শহরের ছোট্ট গুড়গোলা এলাকার নজরুল ইসলামের ছেলে রবিউল ইসলাম (১১), কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার মাষ্টারপাড়ার মিরাজ খানের ছেলে সুমন হোসেন খান রাজ (১৭), নাটোর সদরের উত্তরবারগাছি-পালপাড়া গ্রামের ফাউজুর রহমানের ছেলে হাবিবুল হাসান পারভেজ (১৮), সিলেট সদরের মন্ডলকাটা গ্রামের মৃত অরফত আলীর ছেলে ছেলে রুবেল হোসেন (১৬), ঢাকার তালতলা থানার খিলগাও রেলগেট এলাকার মিরাজ হোসেনের ছেলে শাওন হোসেন (১২), রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার লালদীঘি গ্রামের সুধীর মার্ডির ছেলে বিকাশ মার্ডি (১২)।

দিনাজপুরের হিলি অভিবাসন কর্মকর্তা খাজা মুদ্দিন জানান, দেশের বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে এসব শিশু-কিশোরদের ভারতে পাচার করা হলে সেখানকার আইনশৃংখলা বাহিনী তাদের আটক করে। পরে তাদের জেল-হাজতের পরিবর্তে বালুরঘাট শুভায়ন অবজারভেশন হোমে (শিশু কল্যাণ আবাস) আটক রাখা হয়। এদের মধ্যে অনেকেই ২ থেকে চার বছর পর্যন্ত সেখানে আটক ছিল।

বালুরঘাট শুভায়ণ অবজারভেশন হোমের এক কাউন্সিলর অরিজিৎ দত্ত জানান, ভারতে বিনা পাসপোর্টে প্রবেশের অপরাধে বৈদেশিক আইনে তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হলে আদালত তাদের বয়স ১৮ বছরের নীচে হওয়ায় বালুরঘাট শুভায়ণ অবজারভেশন হোমে রাখার নির্দেশ দেয়। সেখানে দীর্ঘ প্রক্রিয়া শেষে তাদের আজ দেশে ফেরত পাঠানো হলো।

কলকাতা ভিত্তিক এনজিও সোসাইটি ফর পার্টিসিপেটরি এ্যাকশন এন্ড রিফ্লেকশন (স্পার) মালদা ও দক্ষিণ দিনাজপুর কো-অডিনেটর সুরজ দাস বলেন, আটককৃতদের ফেরত পাঠাতে দুদেশের আইনী প্রক্রিয়াকরণ বিলম্বিত হয়। আমরা এ সোসাইটির উদ্যোগে দুদেশে যোগাযোগাগের মাধ্যমে তাদের মুক্তির বিষয়টি দ্রুত করেছি। দেশে ফেরত যাবার আগে চেকপোষ্ট গেটে তাদের অভ্যর্থনার আয়োজন করা হয়।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য