গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে বন্যা কবলিত এলাকায় শ্রমজীবি মানুষ বেকার হয়ে পড়ায় অনাহারে-অর্ধাহারে মানবেতর জীবন যাপন করছে। চরাঞ্চলের বন্যা কবলিত এলাকার অর্ধেকই প্রায় শ্রমজীবি মানুষ। এই শ্রমজীবি মানুষের অর্ধেকই বেকার হয়ে পড়েছে। এরা দেশের বিভিন্ন প্রান্তে গিয়ে শ্রম বিক্রি করে থাকে। কিন্তু বন্যার পানিতে বাড়িঘর নিমজ্জিত হওয়ায় ভেসে যাওয়ার হাত থেকে রক্ষা পেতে শ্রমিকরা বাড়িঘরে অবস্থান নিয়েছে। প্রায় ১০ দিন ধরে বন্যা অবস্থান করায় শ্রমিকদের হাতের গচ্ছিত খাবার ও অর্থ শেষ হয়েছে। তাই বাধ্য হয়ে অনাহারে-অর্ধাহারে দিন কাটাচ্ছে এসব শ্রমিক। অনেকেই চেয়ারম্যান ও মেম্বরদের দ্বারে দ্বারে ঘুরছে ত্রাণের আশায়। জীবন বাঁচার তাগিদে ধার-দেনা করছে অনেকেই। অনেকেই ঘুরছেন সুদখোর মহাজনের পিছে। এপর্যন্ত যে ত্রাণ দেয়া হয়েছে, তা প্রয়োজনের তুলনায় একেবারেই নগণ্য। গত ১০ দিন ধরে বন্যার পানি অবস্থান করায় বানভাসি মানুষজনের জীবন যাত্রা একেবারে দুর্বিসহ হয়ে পড়েছে। বন্যার পানিতে ভাসছে ৭টি ইউনিয়নের প্রায় ৪০টি গ্রাম। পানি বেড়ে যাওয়ায় নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হয়েছে। ডুবে গেছে সদ্য রোপন করা প্রায় ৫০০ হেক্টর আমন ক্ষেত। পাশাপাশি বিভিন্ন এলাকায় ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। বন্যার পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় ১৭টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে রয়েছে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে ১০ হাজার পরিবার। বানভাসি ও পানিবন্দি পরিবারগুলো বন্যা আশ্রয় কেন্দ্র, বেড়িবাঁধ, শিক্ষা-প্রতিষ্ঠান এবং উচুঁ স্থানে আশ্রয় নিয়ে খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করছে। সরেজমিন দেখা গেছে, নতুন করে দহবন্দ এবং শান্তিরাম ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এছাড়া তারাপুর, বেলকা, হরিপুর, চন্ডিপুর, কঞ্চিবাড়ি, শ্রীপুর ও কাপাশিয়া ইউনিয়নের প্রায় ৪০টি গ্রামের মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। পানিবন্দি পরিবারগুলো অনেকে ঘরের ভিতর ও বাইরে উচু করে মাচা পেতে বসবাস করছেন। বন্যার কারণে নানাবিধ রোগব্যাধি দেখা দিয়েছে। যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় ৭টি ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় ইঞ্জিন চালিত নৌকা, ডিঙ্গি নৌকা এবং কলার গাছের ভেলায় চড়ে বানভাসি মানুষজন চলাচল করছে। এদিকে গৃহ-পালিত পশু-পাখি, বৃদ্ধ-বৃদ্ধা, শিশু ও প্রসুতি মায়েদের নিয়ে অসহনীয় কষ্টে দিনাতিপাত করছেন বন্যা কবলিত এলাকার মানুষ। বন্যা কবলিত এলাকায় স্যানিটেশন ও বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা জহিরুল ইসলাম জানান-এ পর্যন্ত ৪৫ মেট্রিক টন চাল ও ৪০ হাজার টাকা বিতরণ করা হয়েছে। নতুন করে বরাদ্দ পেলে বিতরণ করা হবে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য