রংপুরের বদরগঞ্জের লোহানীপাড়া ইউনিয়নের কমিউনিটি ক্লিনিকের সিএইচসিপি ওবায়দুল ইসলাম ডিসির বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা হয়েছে। আর ওই মামলা করেছেন ওই ইউনিয়নের মোছলমারী এলাকার স্বামী পরিত্যক্তা এক নারী। বর্তমানে ওই নারী প্রায় ৯মাসের অন্তঃসত্ত্বা। ১৩আগস্ট বদরগঞ্জ থানায় মামলাটি দায়ের করা হয়। তবে এখন পর্যন্ত পুলিশ ওই চেয়ারম্যান পুত্রকে গ্রেফতার করতে পারেনি। পুলিশ বলছে, ভিকটিমের স্বাস্থ্য পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। তবে মেডিকেল রিপোর্ট হাতে আসেনি।

মামলা সূত্রে জানা গেছে, ওই নারী চিকিৎসার জন্য কমিউনিটি ক্লিনিকে গেলে তাকে বিয়ের প্রলোভন দেখান ক্লিনিকের দায়িত্বে থাকা সিএইচসিপি ওবায়দুল ইসলাম ডিসি। ক্লিনিকে যখন কেউ থাকেননা তখন তিনি ওই নারীকে ডেকে নেন এবং একই প্রলোভন দেখিয়ে তার সাথে শারীরীক সম্পর্ক স্থাপনের চেষ্টা চালান। নানা প্রলোভনের এক পর্যায়ে ওই নারী ডিসির প্রতি দুর্বল হয়ে পড়েন এবং তাদের মাঝে শারীরীক সম্পর্ক গড়ে উঠে।

এরই ধারাবাহিকতায় ওই নারী অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন। এরপর ডিসিকে ওই নারী বিয়ে করার জন্য চাপ দিলে তিনি নানা টালবাহানা করতে থাকেন। বর্তমানে ওই নারী প্রায় ৯মাসের অন্তঃসত্ত্বা। আর মাত্র ক’দিন পরেই তিনি সন্তান প্রসব করবেন। তারপরও তাকে বিয়ে না করায় ১৩আগস্ট ডিসির বিরুদ্ধে তিনি বদরগঞ্জ থানায় ধর্ষণ মামলা করেন। কিন্তু এতদিনেও পুলিশ ডিসিকে গ্রেফতার করতে পারেনি।

এব্যাপারে মামলার তদন্ত অফিসার এসআই কমল মোহন চাকীর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। এছাড়া ওই নারীর স্বাস্থ্য পরীক্ষা সম্পন্ন হলেও মেডিকেল রিপোর্ট হাতে পৌঁছেনি। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ওবায়দুল ইসলাম ডিসিকে গ্রেফতার করতে সম্ভাব্য সব স্থানে অভিযান চালানো হয়েছে। কিন্তু তিনি আত্মগোপন করায় তাকে গ্রেফতার করা সম্ভব হচ্ছেনা।

তবে পুলিশের ভূমিকায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন অন্তঃসত্ত্বা নারীর বাবা। তিনি বলেন, ডিসি প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ালেও রহস্যজনক কারণে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করছেনা। এছাড়া তার অবস্থান নিশ্চিত হয়ে পুলিশকে ফোন করলে ব্যস্ততার কথা বলে বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়া হয়।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য