২০০৪ সালের ২১আগষ্ট ঢাকায় বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লাীগের জনসভায় গ্রেনেড হামলায় প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের সহধর্মীনি আইভি রহমানসহ ২২জন নেতাকর্মী নিহত হন। সেই গ্রেনেড হামলায় নিহত রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার রিজিয়া বেগমের পরিবারের খবর এখন আর কেউ রাখেনা। প্রধান মন্ত্রীর অনুদান পেয়েও অর্থ অভাবে বিনাচিকিৎসায় মারা গেছে রিজিয়ার বৃদ্ধ পিতা । হত্যার ১০ বছরেও মেয়ে হত্যার বিচার দেখে যেতে পারলেন না বলে এলাকাবাসী ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ।
রিজিয়ার পারিবারিক সুত্রে জানা গেছে, ঢাকার আগারগাঁও পাসর্পোট অফিসে ফুটফরমায়েশ খেটে রিজিয়া বেগম (৩৫) বাবা-মা আর দু’সন্তানসহ পাঁচ জনের সংসার মোটামুটি ভালই চলছিলো। কাজ করে আয় হতো ১০০ টাকা থেকে ২০০ টাকা। তার মনে ছিল চরম সাহস। অল্প কোন কিছুতেই সে কখনও ভেঙ্গে পড়ত না। সেই আতœবিশ্বাসী রিজিয়া একদিন অকালেই ঝড়ে যাবে এটা এখনো বিশ্বাস করতে পাচ্ছেনা তার পরিবার। রিজিয়া বেগম প্রতিদিনের মত অফিসের কাজ সেড়ে ২০০৪ সালের ২১ আগষ্ট আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার জনসভা স্থলে এসে ট্রাক মঞ্চের কাছাকাছি দাঁড়ায় তার প্রিয় নেত্রীর দু’টি কথা শুনতে এবং কাছে থেকে তাঁকে একনজর দেখতে। কিন্তু কোন কিছু বুঝে ওঠার আগেই গ্রেনেডের স্প্রিন্ডার এসে তার শরীর ক্ষত-বিক্ষত করে দেয় তখনেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নাকের ফুল ও মাথায় সাদা ওড়না জড়ানো দেখে আওয়ামীলীগের দু’জন কর্মী ও তার ছোট ছেলে নুর নবী নিহত রিজিয়াকে শনাক্ত করে। গ্রামের বাড়ী কাউনিয়া উপজেলার বালাপাড়া ইউনিয়নের গঙ্গানারায়ণ গ্রামে তার লাশ দাফনের কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত তাকে আজিমপুর কবর স্থানে দাফন করা হয়েছে। রিজিয়া গ্রেনেড হামলায় মারা যাওয়ার পর তার পিতা-মাতা সন্তানেরা ঢাকা ছেড়ে গ্রামের বাড়ীতে চলে আসেন।
সম্প্রতি রেজিয়া বেগমের বাড়ীতে গিয়ে জানাযায়, তার বৃদ্ধ পিতা আফাজ উদ্দিন দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পর ১০২বছর বয়সে অনেকটা বিনা চিকিৎসায় গত ১২রমজান মৃত্যু বরণ করেছে। সাংবাদিক পরিচয় দিলে তার ছোট বোন আনোয়ারা বেগম বেড়িয়ে এসে জানান, রিজিয়া নিহত হওয়ার পর আওয়ামীলীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার দেয়া এক লাখ টাকায় তিনি কাউনিয়ায় গঙ্গাণারায়ন গ্রামে ২৫ শতাংশ জমি কিনেছেন এবং সামান্য কিছু টাকা শেষ সম্বল হিসেবে ব্যাংকে রেখেছিলেন সে টাকাও বৃদ্ধ আফাজ উদ্দিনের চিকিৎসার করাতে শেষ হয়েছে। আর মা রিজিয়ার মৃত্যুর শোকে চার বছর আগে মৃত বরণ করেছে। রিজিয়া বেঁচে থাকতে সংসারের জন্য কোন প্রকার চিন্তা ভাবনা করতে হয়নি তাদের। তিনি বলেন, স্বামীর অত্যাচার সইতে না পারায় রিজিয়ার সঙ্গে তার স্বামীর ডির্ভোস হয়ে যায় অনেক দিন আগে।
হারুন ও নুর নবী নামের তার দুইটি পুত্র সন্তান আছে। রিজিয়ার ছোট ছেলে নুর নবী জানায়, তার মাকে নিয়ে তাদের গর্ব হয়। বিভিন্ন দপ্তরে দৌড় ঝাপের পর তার নামে ৯শতক এবং বড় ভাই হারুনকে ৩শতক জমি ফেরত দেয়। এর পর গত কোরবানীর ঈদের আগে প্রধানমন্ত্রীর অনুদান হিসেবে আট লাখ টাকা পেয়েছে। সেই টাকা দিয়ে কিছু আবাদি জমি কিনেছে বাকি টাকা ব্যাংকে জমা আছে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য