4-Mমোবাইল ফোন ব্যবহার করলে অনভিপ্রেত প্রেমে জড়িয়ে পড়তে পারেন মেয়েরা। এ প্রেমের সূত্র ধরে তারা ঘর ছেড়ে পালিয়েও যেতে পারেন। আবার বিবাহ-বহির্ভূত সম্পর্কে জড়িয়ে পড়তে পারেন। এ সব অনাকাঙিক্ষত ঘটনা এড়াতে স্থানীয় প্রতিনিধিরা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন সুন্দববাড়ী গ্রামের মেয়েরা মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে পারবে না।

শুধু অনাকাঙিক্ষত ঘটনাই নয়, নারীরা মোবাইল ফোন ব্যবহার করে ‘সামাজিক পরিবেশ খাটো’ করছে বলেও মনে করেন ভারতের বিহার রাজ্যের কিষাণগঞ্জ জেলার সংখ্যালঘু মুসলিম অধ্যুষিত সুন্দরবাড়ী গ্রামের পঞ্চায়েত৷ তবে যে সব যুক্তি দেখিয়ে নারীদের মোবাইল ফোন ব্যবহার করা নিষিদ্ধ করা হয়েছে, তেমন যে দু-একটা ঘটনা ঘটেনি তাও কিন্তু নয়।

সুন্দরবাড়ি গ্রামের পঞ্চায়েত প্রধান মানুয়ার আলম জানান, মোবাইল ফোনের ব্যাপক ব্যবহারের ফলে সম্প্রতি গ্রামের ছেলে-মেয়েদের একসঙ্গে পালানোর ঘটনা বৃদ্ধি পেয়েছে। গত কয়েকমাসে কমপক্ষে ছয়জন নারী বাড়ী ছেড়ে পালিয়েছে৷ এদের মধ্যে বিবাহিত নারীও আছেন।

তিনি আরো বলেন, সম্প্রতি সুন্দরবাড়ী গ্রামে পালিয়ে যাওয়া এবং বিবাহ-বহির্ভূত প্রেমের সম্পর্ক বেড়েছে। আর যে সকল মেয়েরা মোবাইল ফোন ব্যবহার করে, তাদের মধ্যে এ সব বেশি ঘটছে।  এ সব বিবেচনায় নিয়ে সুন্দরবাড়ী গ্রামের পরিবেশ ‘সন্দুর’ রাখতে মেয়েদের মোবাইল ব্যবহার নিষিদ্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে যদি কোনো মেয়ে মোবাইল ফোন ব্যবহার করে তাকে জরিমানা গুনতে হবে। জরিমানার ধরনও ভিন্ন। রাস্তায় যদি মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে গিয়ে হাতে-নাতে ধরা পড়ে, তাহলে তার জরিমানা ১০ হাজার টাকা। এ ক্ষেত্রে বিবাহিত নারীদের জন্য জরিমানা দুই হাজার টাকা৷

অবশ্য যাদের স্বামীরা বাইরে থাকে, তারা নিজ বাড়ীর অন্দরমহল থেকে স্বামীর সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারবেন। পরিবেশ অসুন্দর করার জন্য ছেলেদের দায়ী করেনি গ্রাম পঞ্চয়েত। আর এ জন্য তাদের মোবাইল ফোন ব্যবহারে কোনো বিধি-নিষেধও আরোপ করা হয়নি।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য