সৈয়দপুরে গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ (টিআর) উন্নয়ন কর্মসুচীর ১৪৭ প্রকল্পের অর্থ ফেরত চেয়ে নোটিশ দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। নোটিশ প্রদানের এক মাস অতিবাহিত হলেও প্রকল্প চেয়ারম্যানরা দিতে পারেননি তাদের ব্যয়িত অর্থের বিল ভাউচার।

সুত্রে জানা গেছে, ২০১০-২০১১ অর্থ বছরে প্রাক্তন সাংসদ কর্ণেল (অব.) মারুফ সাকলানের বিশেষ খাতে (দ্বিতীয় পর্যায়) সৈয়দপুর উপজেলায় ১৪৭টি প্রকল্পে ৪৬ মেট্রিক টন গম এবং ৪১লাখ টাকা প্রদান করা হয় উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসের মাধ্যমে (পিআইও) । টিআর প্রকল্পের বরাদ্দ দিয়ে ধর্মীয় ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ক্লাব, সংগঠনসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে প্রকল্প সভাপতির মাধ্যমে উন্নয়ন কাজ বাস্তবায়ন করা হয় কিন্তু ১৪৭টি প্রকল্পের কাজ শেষে বিল ভাউচার জমা দেওয়ার কথা থাকলেও গেল দুই বছরেও সংশ্লিষ্ট অফিসে বিল ভাউচার জমা করেন নি প্রকল্প সভাপতিরা। যার কারণে প্রকল্প চেয়ারম্যানদের গ্রামীণ অবকাঠামো নির্মাণ বা সংস্কার হিসাব নিয়ে সংশ্লিষ্ট অফিসে কোন কাগজ পত্র না আসায় গত ২জুন সৈয়দপুর উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তা ১৪৭ প্রকল্প চেয়ারম্যানকে নোটিশ প্রদান করেন। নোটিশ সুত্রে জানা যায়, প্রকল্প বাস্তবায়নে খাদ্য শষ্য ও নগদ অর্থ নেয়ার পর অর্থ বছর শেষ হলেও কোন ব্যয়ের প্রতিবেদন জমা না হওয়ায় প্রকল্প কাজের অর্থ কিংবা খাদ্যশষ্য অব্যয়িত ধরা হয়েছে। তাই প্রকল্প চেয়ারম্যানদের খাদ্যশষ্য কিংবা অর্থের দ্বিগুণ মূল্য সরকারি কোষাগারে জমা করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) শফিউল ইসলাম জানান, আমার যোগদানের আগে প্রকল্পগুলোতে বরাদ্দ দেওয়া হয়। আমি আসার পর কোন মাস্টার রোল কিংবা বিল ভাউচারের কাগজ পত্র হাতে পাইনি। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, প্রায় ১০টি নোটিশ ওইসব প্রকল্পের চয়োরম্যানদের বাসস্থানের হদিশ না পেয়ে ফেরত এসেছে। যোগাযোগ করা হলে সৈয়দপুর উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম জানান, প্রকল্পগুলির বিল ভাউচার দীর্ঘদিনেও জমা না দেয়ায় তা অব্যয়িত এবং আত্মসাত করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই সরকারী নির্দেশনা অনুযায়ী কেউ না মানলে তার বিরুদ্ধে সার্টিফিকেট মামলা করা হবে। উপজেলা প্রকল্প চেয়ারম্যানরা বিল ভাউচার জমা না দেওয়ার বিষয়টি প্রত্যাখান করে বলেছেন নিয়ম মোতাবেক সংস্কার বা পুনঃনির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার পর পরই বিল ভাউচার সংশ্লিষ্ট অফিসে জমা করা হয়েছে। সৈয়দপুর উপজেলার বোতলাগাড়ি ইউনিয়নের উত্তর তেলিপাড়া ঈদগাহ মাঠের প্রকল্প চেয়ারম্যান আলেফ উদ্দিন বলেন, আমার প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার সাথে সাথে মাস্টার রোল কপি সংশ্লিষ্ট অফিসে জমা করেছি, হয়ত তারা হারিয়ে ফেলেছেন। উপজেলা প্রকল্প অফিস সুত্র জানিয়েছে, উন্নয়ন কাজের জন্য কোথাও দেড় কিংবা দুই টন গম অথবা নগদ ১থেকে দেড় লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছিল।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য