Dinajpur Madical collageমাহবুবুল হক খান, দিনাজপুর প্রতিনিধি ॥ দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ইন্টার্ণ চিকিৎসক কর্তৃক কর্তব্যরত এক নার্সকে লাঞ্চিত করায় ঘটনায় জড়িত ওই ইন্টার্ণ চিকিৎসকের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে নার্সরা হাসপাতালের পরিচালক বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছে। অন্যাথায় নার্সরা আন্দোলনের কঠোর কর্মসূচী ঘোষণা করবে বলে আল্টিমেটাম দিয়েছে। ওই অভিযোগের কপি হাসপাতাল পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও জাতীয় সংসদের হুইপ ইকবালুর রহিম এমপি, স্বাস্থ্য সচিব, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, রংপুর স্বাস্থ্য বিভাগের পরিচালক, দিনাজপুর মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষসহ বিভিন্ন দপ্তরে দাখিল করেছে।

হাসপাতালের পরিচালক বরাবর দায়ের করা লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, গত ১০ আগস্ট বিকেল আনুমানিক ৩টায় হাসপাতালের নার্সিং সুপারভাইজার শিরিন আক্তারের সামনে হাসপাতালের এক ইন্টার্ণ চিকিৎসক কর্তব্যরত সিনিয়র স্টাফ নার্স (ব্রাদার) সুমন বিশ্বাসকে অকারণে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে। এক পর্যায়ে ওই ইন্টার্ণ চিকিৎসক ব্রাদার সুমন বিশ্বাসকে চর-থাপ্পর ও কিল-ঘুষি এবং লাথি মেরে গুরুতর আহত করে। তার চিৎকারে অন্যান্য নার্সরা এগিয়ে এসে তাকে ওই ইন্টার্ণ চিকিৎসকের হাত থেকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য সার্জারী ওয়ার্ডে নিয়ে যায়। কিন্তু চিকিৎসকরা তাকে কোন চিকিৎসা প্রদান করেনি। ফলে ব্রাদার সুমন বিশ্বাসকে কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে তার নিজ বাসায় নিয়ে যাওয়া হয়।

অভিযোগে নার্সরা আরো জানায়, এ ঘটনায় দিমেক হাসপাতালের সুস্থ পরিবেশ বিঘিœত হয়েছে এবং হাসপাতালের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ব্যথিত হয়েছেন। এ অবস্থায় ইন্টার্ণ চিকিৎসকের বিরুদ্ধে নিয়ম অনুযায়ী প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহনসহ তাকে হাসপাতাল হতে বহিষ্কার ও তার রেজিস্ট্রেশন বাতিল করার দাবী জানিয়েছেন তারা। অন্যথায় হাসপাতালের নার্সরা দাবী আদায়ে কর্মবিরতিসহ কঠোর কর্মসূচী দিতে বাধ্য হবে এবং এর ফলে যে কোন ধরনের অবাঞ্চিত ঘটনার সৃষ্টি হলে তার দায়দায়িত্ব হাসপাতালের পরিচালককে বহন করতে হবে বলে হুশিয়ারী দেয়া হয়েছে।

ওই অভিযোগের কপি হাসপাতাল পরিচালনা কমিটি সভাপতি ও জাতীয় সংসদের হুইপ ইকবালুর রহিম এমপি, স্বাস্থ্য সচিব, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, সেবা পরিদপ্তরের পরিচালক, বাংলাদেশ মেডিকেল এন্ড ডেন্টাল কাউন্সিলের পরিচালক, রংপুর স্বাস্থ্য বিভাগের পরিচালক, দিনাজপুর মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ, দিনাজপুর জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, সিভিল সার্জন, দিনাজপুর কোতয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন দপ্তরে দাখিল করেছে।

উল্লেখ্য, গত এক বছরে দিমেক হাসপাতালের ইন্টার্ণ চিকিৎসকের হাতে হাসপাতালের নার্সসহ একাধিক রোগি ও তাদের স্বজনরা লাঞ্চিত এবং শারিরিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন।

চলতি বছরের ১৭ এপ্রিল হাসপাতালের চতুর্থ তলার ৪৫৯ নম্বর কক্ষে ইন্টার্ণ চিকিৎসকদের হাতে এক রোগির স্বজন লাঞ্চিত হন। এ সময় ইন্টার্ণ চিকিৎসকরা রোগির ওই স্বজনকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে। জনৈক ইন্টার্ণ চিকিৎসক রোগির স্বজনকে রোগি নিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেয়। অন্যথায় রোগিকে পয়জনিং ইনজেকশন দিয়ে মেরে ফেলার হুমকি দেয়।

একই বছরের ২২ এপ্রিল হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটারে কাজ করার সময় প্রিন্স নামে এক ইন্টার্ণ চিকিৎসক কর্তব্যরত এক নার্সকে গালিগালাজ করে ও লাথি মেরে নিচে ফেলে দেয়ার হুমকি দেয়। এ ঘটনার পর ওই নার্স হাসপাতালের পরিচালক বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করলে ওই ইন্টার্ণ চিকিৎসক ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করে পার পেয়ে যায়।

দিমেক হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগিদের স্বজনরা জানায়, ইন্টার্ণ চিকিৎসকরা প্রতিদিনই কোন না কোন রোগির সাথে অথবা রোগির স্বজনদের সাথে দুর্ব্যবহার করে। গ্রাম-গঞ্জ হতে চিকিৎসা নিতে আসা দরিদ্র-অসহায় এসব মানুষ রোগির চিকিৎসা হবে না বা রোগিকে হাসপাতাল থেকে বের করে দেয়া হবে এমন আশঙ্কায় তারা ইন্টার্ণ চিকিৎসকদের দুর্ব্যবহারের কোন প্রতিবাদ করেন না। অনেকেই মানসম্মানের ভয়ে কারো কাছে কিছু বলেন না।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য