সম্মুখ যুদ্ধের ক্ষমতা নেইভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি কাশ্মিরের এক সভায় অভিযোগ করে বলেছেন, “সম্মুখ যুদ্ধের ক্ষমতা পাকিস্তানের নেই, তাই তারা প্রক্সি যুদ্ধ চালাচ্ছে। মোদির জম্মু-কাশ্মীর সফরের আগে সোমবার রাতে বিএসএফ কনভয়ের ওপর হামলা চালায় সন্ত্রাসীরা। এতে সাত জওয়ান আহত হন।  এই সন্ত্রাসী হামলাকে ইঙ্গিত করে লেহ’র পোলো গ্রাউন্ডে সেনা জওয়ানদের উদ্দেশে ভাষণদানকালে তিনি পাকিস্তানকে হুঁশিয়ার করে দেন। গত মে মাসে শপথ নেয়ার পর ৩৮ দিনের মধ্যে এই নিয়ে দ্বিতীয়বার জম্মু-কাশ্মীর সফর করছেন মোদী। বিমানবন্দরে তাঁকে স্বাগত জানান গর্ভনর এনএন ভোরা এবং মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহ। লেহতে সেনা ও বিমানবাহিনীর সদস্যদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রতিবেশী দেশ প্রচলিত যুদ্ধের ক্ষমতা হারিয়েছে তাই জঙ্গিদের সামনে রেখে লুকিয়ে হামলা চালাচ্ছে। এ সময় তিনি সেনা জওয়ানদের যুদ্ধস্মারক তৈরির আশ্বাস দেন। পরে তিনি লেহ থেকে শ্রীনগর পর্যন্ত প্রায় ৩৪৯ কিলোমিটার বিদ্যুৎ প্রকল্পের উদ্বোধন করেন। এ সময় তিনি বলেন, “একটা সময় ছিল যখন প্রধানমন্ত্রীরা এই রাজ্যে আসতেন না। ইতিমধ্যেই আমি দু’বার এলাম। আপনাদের ভালবাসা আমাকে টেনে আনে। এরপর প্রধানমন্ত্রী কাশ্মিরের উন্নয়নে তাঁর তিনটি পরিকল্পনার কথা ঘোষণা করেন। তিনটি ‘প’-এর উপর নিভর্র করে গড়ে উঠবে সেই উন্নয়ন- প্রকাশ (বিদ্যুৎ), পর্যভরণ (পরিবেশ) এবং পর্যটন।  তিনি বলেন, “প্রকৃত উন্নয়ন সাধারণ মানুষের জীবনযাপনের মানে পরিবর্তন আনে। এই সরকার অটলবিহারী বাজপেয়ীর স্বপ্নকে বাস্তবায়িত করতে চলেছে। গত লোকসভা নির্বাচনে লাদাখ আসনে বিজেপির প্রার্থী জয়ী হন। কাশ্মীরের তিনটি আসনে জয় পেয়েছে তারা। আগামী বছরেই রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন। মোট ৮৭টি আসনের মধ্যে বিজেপি’র লক্ষ্য অন্তত ৪৪টি। মোদীর ঘন ঘন কাশ্মীর সফর এবং প্রকল্প উদ্বোধন বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখেই বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছে। লেহ সফরের পর বিশ্বের সর্বোচ্চ যুদ্ধক্ষেত্র সিয়াচেন গ্ল্যাসিয়ার ও কারগিলের রণক্ষেত্র পরিদর্শনে যান মোদী। ১৯৯৯ সালের যুদ্ধের পর এই প্রথম কোনো প্রধানমন্ত্রী কারগিল গেলেন। সেখানেও একটি প্রকল্প উদ্বোধন করেন মোদী। সেখানে তিনি আহত কয়েকজন সেনা সদস্যের সঙ্গে কথা বলেন।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য