DSCN7955আজহারুল আজাদ জুয়েল, দিনাজপুরঃ উম্মে হুমায়রার বিয়ে হয়েছিল ৯ বছর আগে।  কিন্তু তার গর্ভে সন্তান আসছিলনা। অনেক চেষ্টা, তদবির, দোয়া-তাবিজ করছিলেন একটি সন্তানের জন্য।  অবশেষে গর্ভবতী হলেন বিয়ের ৯বছর পর।

সন্তান ধারণে খুশি হলেন বাড়ির সবাই। কিন্তু এই খুশি বেশিদিন স্থায়ী হলোনা উম্মে হুমায়রার বিভিন্ন ধরনের শারিরিক জটিলতার কারণে। রক্তশুন্যতা, শরীরের বিভিন্ন স্থান ফুলে যাওয়া, বমি, জ¦র, মুখে ঘা সহ বহুমুখি সমস্যায় পড়ে গর্ভবতী হওয়ার ২ মাসের মধ্যে তাকে নিয়ে যাওয়া হলো রংপুর মেডিক্যালে। সেখানে বেশ কিছুদন ব্যয়বহুল চিকিৎসা ও পরীক্ষা-নীরিক্ষা শেষে চিকিৎসকরা জানালেন যে, তার ব্লাড ক্যান্সার হয়েছে। যদি তাকে বাঁচাতে চায় তাহলে পেটের সন্তান নষ্ট হবে, সন্তানকে রক্ষা করতে হলে মায়ের জীবন নষ্ট হবে। উম্মে হুমায়রাসহ তার পরিবারের সকলের মাথায় যেন বাজ পড়ল। ৯বছর পর সন্তান ধারণ করে এই পরিণতি?

উম্মে হুমায়রার স্বামী মোঃ আসলাম একজন দর্জী মাত্র। তার বাড়ি ফুলবাড়ী উপজেলার নিমতলী মোড়ে। স্ত্রীর চিকিৎসা চালাতে গিয়ে হিমসিম খাচ্ছিলেন। তাকে জানানো হলো যে, চিকিৎসার জন্য তিন লাখ টাকা লাগবে। কিন্তু এত টাকা পাবেন কোথায়? উপায়ন্তর না পেয়ে স্ত্রীকে তিনি বাড়িতে নিয়ে এলেন। পরিবারের সকলের সাথে আলোচনা করে  সিদ্ধান্ত নিলেন যে, স্ত্রীর  চিকিৎসা এলোপ্যাথির পরিবর্তে হোমিওপ্যাথি করাবেন। তারা খবর পেলেন যে, দিনাজপুর  জেলা শহরের সুইহারীতে চিকিৎসারত হোমিও চিকিৎসক ডাঃ এস এম খলিলুর রহমান সরকার ক্যান্সার চিকিৎসা করে থাকেন। অনেকে তার চিকিৎসায় আরোগ্য লাভ করেছে।

আসলাম তার স্ত্রীকে ১০মার্চ-২০১৪ তারিখে নিয়ে যান ডাঃ খলিলের চায়না হোমিও হল’এ। ডাঃ খলিল সমস্ত বিবরণ শুনে আশ^াস দিয়ে বলেন যে, নিয়ম মেনে হোমিও ঔষধ খেলে মা আরোগ্য লাভ করবেন এবং বাচ্চাও সুষ্ঠুভাবে প্রসব হবে।

তিনি প্রায় ছয় মাস চিকিৎসা করেন উম্মেনাহারের। অবশেষে উম্মেনাহার ৩আগষ্ট-২০১৪ তারিখে সন্ধায় ফুলবাড়ীর একটি ক্লিনিকে  পুত্র সন্তান প্রসব করেন। বিয়ের ৯বছর পর সন্তান পেয়ে খুশি উম্মেনাহার ও আসলাম। পুত্র ভাল আছে। তবে উম্মেনাহার এখনো দুর্বল। গত ১১ আগষ্ট এই প্রতিনিধি তার সাথে কথা বলেন সুইহারীস্থ চায়না হোমিও হলে। তখন তিনি তীব্র দুর্বলতায় ও পেটের ব্যাথায় ভুগছিলেন। ভালমত কথা বলতে পারছিলেন না। তার স্বামী আসলাম বলেন, সন্তান হওয়ায় আমি খুব খুশি। কিন্তু স্ত্রীর চিকিৎসা চালাতে গিয়ে অনেকের কাছে আর্থিক সহায়তা নিতে হয়েছে।

ডাঃ খলিলুর রহমান বলেন, রংপুর মেডিকেলের পরীক্ষায় রোগীর ব্লাড ক্যান্সার ধরা পড়ে। এ অবস্থায় সন্তান হওয়া মা ও সন্তান দুজনের জন্যই ঝুঁকিপুর্ণ ছিল। আল্লাহর রহমতে সন্তান ভাল আছেন। আশা করা যায়, মাও সুষ্ঠু হয়ে উঠবেন। তবে আরোগ্যের জন্যে দীর্ঘ চিকিৎসার প্রয়োজন ।

এখানে উল্লেখ্য, ডাঃ খলিল দীর্ঘদিন ধওে ক্যান্সার রোগীদেও চিকিৎসা করছেন। চিকিৎসায় সফলতার জন্য তিনি একাধিক পদক লাভ করেছেন।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য