মিশরের প্রেসিডেন্টের আকস্মিক সৌদি আরব সফরমিশরের প্রেসিডেন্ট আব্দেল ফাত্তাহ আল-সিসি সৌদি আরব সফরে গেছেন। গাজায় দখলদার ইসরাইলের নৃশংস সামরিক অভিযান চলার একই সময়ে যখন ইরাক ও সিরিয়ায় আইএসআইএল’র তৎপরতা বেড়েছে ঠিক তখন মিশরের প্রেসিডেন্টের রিয়াদ সফর সবার নজর কেড়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীও সৌদি আরব সফরে গেলেও সবার দৃষ্টি এখন মিশরের প্রেসিডেন্টের দিকে। কারণ ইসরাইল ও হামাসের মধ্যে যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠার জন্য মিশর সরকার মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করায় প্রেসিডেন্ট আল-সিসি’র সৌদি আরব সফরকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যের ঘটনাবলীতে রিয়াদ ও কায়রোর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। হামাস ও ইসরাইলের মধ্যেকার যুদ্ধ অবসানের জন্য কায়রো গত কয়েকদিন ধরে ব্যাপক চেষ্টা চালাচ্ছে এবং এ ক্ষেত্রে দেশটির সরকার বেশ কিছু প্রস্তাব তুলে ধরেছে। যদিও দখলদার ইসরাইলের স্বার্থে মিশর সরকার যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব তুলে ধরেছিল এবং প্রথমদিকে হামাস যুদ্ধবিরতির বিরোধিতা করেছিল। কিন্তু পরবর্তীতে ইসরাইল ও হামাসের মধ্যে পরোক্ষভাবে আলোচনার পর এ পর্যন্ত কয়েক বার গাজায় যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হয়েছে। প্রথম দফা তিন দিনের যুদ্ধবিরতি শেষ হয়ে যাওয়ার পর আজ থেকে আবারো ৭২ ঘণ্টার যুদ্ধবিরতি শুরু হয়েছে। গাজা সংকটের ব্যাপারে মিশর সরকারের বিশেষ পরিকল্পনা রয়েছে এবং দেশটি বর্তমানে গাজায় স্থায়ী যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চালাচ্ছে। বিষয়টি এতই গুরুত্বপূর্ণ যে প্রেসিডেন্ট আল-সিসি তার ওই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের মাধ্যমে এ অঞ্চলে নিজের গ্রহণযোগ্যতা তৈরির চেষ্টা করছেন। একই সঙ্গে তিনি সৌদি আরবকেও এটা দেখিয়ে দিতে চান যে, মিশর এখনো আরব বিশ্বের একটি গুরুত্বপূর্ণ ও প্রভাবশালী দেশ। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, আরেকটি বিষয় ভুলে গেলে চলবে না যে, গাজা ইস্যুতে পাশ্চাত্যের বিশেষ দৃষ্টিভঙ্গি ও লক্ষ্য উদ্দেশ্য রয়েছে এবং মিশর সরকার মধ্যস্থতার মাধ্যমে যতটা সম্ভব পাশ্চাত্যের ওই লক্ষ্য বাস্তবায়নের চেষ্টা করছে। এই সমস্ত দিক বিবেচনা করে মিশরের প্রেসিডেন্ট আল-সিসি হামাস ও ইসরাইলের মধ্যে নতুন করে ৭২ ঘণ্টার যুদ্ধবিরতিকে মোক্ষম সুযোগ হিসেবে কাজে লাগানোর চেষ্টা করছেন এবং এ ব্যাপারে সৌদি বাদশাহর সঙ্গে পরামর্শ করার জন্যই তিনি রিয়াদ সফরে গেছেন। মিশরের প্রেসিডেন্ট ও সৌদি বাদশাহ রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেছেন। আর এ থেকেই গাজা ইস্যুতে স্পর্শকাতরতার বিষয়টি ফুটে উঠেছে। এ ছাড়া, সৌদি আরব ও মিশরের শীর্ষ নেতাদের মধ্যেকার আলোচনায় ইরাকে আইএসআইএল’র তৎপরতাসহ মধ্যপ্রাচ্যে সন্ত্রাসবাদের বিস্তারের বিষয়টিও প্রাধান্য পেয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। কারণ যেসব আরব দেশ আইএসআইএল’কে অস্ত্র ও অর্থ দিয়ে সহযোগিতা করেছে সেসব দেশগুলোই এখন চিন্তিত হয়ে পড়েছে। যদিও মধ্যপ্রাচ্যের অনেক ইস্যুতে মিশর ও সৌদি আরবের মধ্যে মতের অমিল রয়েছে কিন্তু অন্তত সন্ত্রাসবাদ ইস্যুতে তারা ঐক্যবদ্ধ অবস্থান নিয়েছে। গত কয়েক মাসে খোদ মিশরে সন্ত্রাসীদের তৎপরতা বেড়ে যাওয়ায় দেশটির সরকার চিন্তিত। সৌদি আরবও আইএসআইএল’র অনুপ্রবেশ ঠেকানোর জন্য ইরাক সীমান্ত বন্ধ করে দিয়েছে। আইএসআইএল বর্তমানে উত্তর ইরাকে এবং সিরিয়ায় তৎপর রয়েছে। বিভিন্ন খবরে জানা গেছে এ গোষ্ঠীর তৎপরতা মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য অঞ্চলেও বৃদ্ধি পাচ্ছে। -আইআরআইবি

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য