Ballo bibahoবিরামপুর (দিনাজপুর) প্রতিনিধি : দিনাজপুরের বিরামপুরে শিশু সুরক্ষা কার্যক্রমে নিয়োজিত বেসরকারী স্ংস্থা ডেভেলপ দ্যা ভিলেজ ডিভি’র হস্তক্ষেপে বাল্য বিয়ে থেকে রক্ষা পেল ১২ বছরের শিশু রূপালী কর্মকার (১১) ও স্মৃতি মনি (১২)।

জোতবানী ইউনিয়নের কেটরা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৪ র্থ শ্রেণীর ছাত্রী ও চাকুল নাওয়া ডাংগা গ্রামের অধির কর্মকারের মেয়ে রূপালী কর্মকার এবং ইসলামপাড়া মহল্লার এমদাদুল হকের কন্যা বিরামপুর সরকারী বালিকা বিদ্যালয়ের ৬ষ্ঠ শ্রেণীর ছাত্রী স্মৃতি মনি।

৮ আগস্ট রাতে কণ্যা শিশুটির বিবাহ সম্পন্ন হবে এমন আগাম সংবাদ পেয়ে ৭ আগস্ট রাতে ডেভেলপ দ্যা ভিলেজ (ডিভি)’র নির্বাহী পরিচালক এ্যাডভোকেট মোরশেদ মানিক, সংস্থাটির শিশু সুরক্ষা বিষয়ক প্রকল্প কর্মকর্তা হুমায়ারা বেগম ও সহযোগী আরেকটি এনজিও প্রতিনিধিকে সাথে নিয়ে শিশুটির বাড়ীতে যায়।

সেখানে কন্যা শিশুটির মাতা নেপালী রাণীকে বাল্য বিয়ের কুফল সম্পর্কে অবগত করে শিশু সুরক্ষার স্বার্থে এ ধরনের সর্বনাশা পদক্ষেপ থেকে বিরত থাকার অনুরোধ করেন। শিশুটির স্বাভাবিক চলাচলে কোন বাধা সৃষ্টি হলে সরকারী প্রশাসনও পদক্ষেপ নেবে বলে পরিবারটিকে আশ্বস্ত করেন।

৯ আগস্ট রাতে শহরের ইসলামপাড়া এলাকারএমদাদুল হকের মেয়ে বিরামপুর সরকারী বালিকা বিদ্যালয়ের ৬ষ্ঠ শ্রেণীর ছাত্রী স্মৃতি মনির বিয়ের আগাম সংবাদ উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট এস.এম মনিরুজ্জামান আল-মাসউদকে দেয়া হলে তিনি দ্রুত ব্যবস্থা নিতে পুলিশ প্রশাসনকে নির্দেশ দেন। থানার সেকেন্ড অফিসার এস.আই মফিজুল হক সংগীয় ফোর্স তাৎক্ষিক ভাবে কন্যার বাবাকে বাল্য বিয়ে বন্ধ না করলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে এমন পরিস্থিতিতে তার কন্যার বয়স ১৮ বছর না হওয়া পর্যন্ত বিয়ে দিবেন না। এতে রক্ষা পেল কন্যা শিশু স্মৃতি মনির বাল্য বিয়ে।

এনজিও প্রতিনিধিদের হস্তক্ষেপের ফলে শিশু রূপালীর মা নেপালী কর্মকার ও বাবা অধীর কর্মকার অঙ্গিকার করেন তাদের মেয়ের সুরক্ষার স্বার্থেই প্রাপ্ত বয়স্ক না হওয়া পর্যন্ত বিয়ে দিবেন না। ডেভেলপ দ্যা ভিলেজ (ডিভি)’র নির্বাহী পরিচালক এ্যাডভোকেট মোরশেদ মানিক বলেন, শিশু সুরক্ষায় প্রধান বাধা বাল্য বিয়ে। বাল্য বিয়ে বন্ধে সরকারী প্রশাসনের সহযোগি হিসেবে তারা সরাসরি পরিবারের সদস্যদের এর কুফল সম্পর্কে অবগত করে কার্যক্রম বন্ধের অনুরোধ করেন। পরিবারটি বাল্য বিয়ে দিতে অনড় থাকলে সেক্ষেত্রে তারা প্রশাসনকে অবগত করেন এবং প্রশাসন দ্রুত বাল্য বিয়ে বন্ধসহ আইনগত ব্যবস্থা নেন। তিনি আরো বলেন, অনেক সময় আগাম সংবাদ না পাওয়ায় বাল্য বিয়ে সম্পাদন হয়ে যায়। তখন আর করার কিছুই থাকেনা। ০১৯১৫-০৫০৩৫৮ মুঠোফোনে বাল্য বিয়ে সম্পাদনের আগাম সংবাদ দিলে জিও-এনজিও’র সমন্বয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেয়া সম্ভব হবে। বাল্য বিয়ে বন্ধে তিনি সচেতন নাগরিকদের তথ্য দিয়ে সহযোগিতার আহবান জানান।

রূপালী বলেন, আমি ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশের আইডি শিশু ও শিশু ফোরামের সদস্য। বিয়ে নয়, উজ্জ্বল ভবিষতের স্বপ্ন দেখি। ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ বিরামপুর এডিপি ম্যানেজার লিটন মন্ডল বলেন, রূপালী সহ সকল আইডি প্রাপ্ত শিশুর পরিবারকে শিশু সুরক্ষায় বাল্য বিয়ের কুফল সম্পর্কে বিস্তারিত জানানোর পরও বাল্য বিবাহের আয়োজনের সংবাদ খুবই দুঃখজনক। তিনি শিশুদের সুস্বাস্থ্য নিশ্চিতের স্বার্থেই এ বিষয়ে সকল শিশুর পরিবারকে দায়িত্বশীল হওয়ার অনুরোধ করেন।

উল্লেখ্য, বিরামপুর উপজেলার পলিপ্রয়াগ ইউনিয়নের দুর্গাপুর গ্রামের মদন কর্মকারের মেয়ে ও ৭ ম শ্রেণীর ছাত্রী মৌসুমী কর্মকার (১২) কে বিবাহ দেওয়ার সকল প্রস্ততি সম্পন্নের আগাম সংবাদ পেয়ে ডিভির নির্বাহী পরিচালক এ্যাডভোকেট মোরশেদ মানিক একদিন আগে গিয়েই বাল্য বিয়ে বন্ধের অনুরোধ করেন। শিশুটির পিতা বাল্য বিয়ে দিতে অনড় থাকায় বিষয়টি তারা বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট এস.এম মনিরুজ্জামান আল-মাসউদকে অবগত করেন।

তিনি বাল্য বিয়ে বন্ধে তাৎক্ষনিক ব্যবস্থা নিতে পুলিশ প্রশাসনকে নির্দেশ দেন। থানা পুলিশের পক্ষে এস.আই শামছুল আলম সঙ্গিয় ফোর্স সহ বাল্য বিয়ের তোরন ও  ডেকোরেশন ভেঙ্গে দিয়ে মৌসুমীর পিতা মদন কর্মকারকে আটক করে ৩ জুলাই ভ্রাম্যমান আদালতে হাজির করেন। বিজ্ঞ বিচারক উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট এস.এম মনিরুজ্জামান আল-মাসউদ এর আদালতে বাল্য বিয়ে দিবে না মদন কর্মকার লিখিত মুচলেকা দিলেও অপরাধমূলক কর্মকান্ড প্রস্তুতির দায়ে তার এক হাজার অর্থদন্ড দেন। বাল্য বিয়ে বন্ধে জিও-এনজিওদের সম্বন্বিত উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন সচেতন মহল।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য