দ্বিতীয়বারের ত্রাণসামগ্রী ফেলো মার্কিন বিমান  ইরাকে জিহাদি যোদ্ধাদের হাত থেকে বাঁচতে পার্বত্য এলাকায় আশ্রয় নেয়া হাজার হাজার বাসিন্দাদের উদ্দেশে গতকাল শনিবার দ্বিতীয়বারের মতো বিমান থেকে খাদ্য ও পানি ফেলেছে যুক্তরাষ্ট্র।
ইসলামিক স্টেটের (আইএস) জঙ্গিদের বিরুদ্ধে নতুন করে মার্কিন বিমান হামলা শুরুর কয়েক ঘন্টার মধ্যে বিমান থেকে এসব প্রয়োজনীয় সামগ্রী ফেলার ঘটনা ঘটলো।
আইএস সম্প্রতি ইরাকের উত্তরাঞ্চলের নতুন এলাকা দখল করেছে এবং কুর্দি অধ্যুষিত আরবিল নগরীও তাদের দখলে যাওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র জিহাদিদের মোকাবেলা করতে সক্ষম একটি ঐকমত্যের সরকার গঠনে ইরাকি নেতৃবৃন্দকেও চাপে রেখেছে।
সুন্নী মুসলিম সংগঠন আইএস ইরাক ও সিরিয়ার বিস্তীর্ণ এলাকা এবং ইরাকের একটি বৃহত্তম জলাধার নিয়ন্ত্রণ করছে।
পেন্টাগনের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সি-১৭ ও সি-১৩০ বিমান থেকে মোট ৭২ বান্ডিল সামগ্রী ফেলা হয়েছে। মার্কিন রণতরী ইউএসএস জর্জ এইচডব্লিউ বুশের দুটি যুদ্ধ বিমান এফ/এ-১৮ মালবাহী ওই দুটি বিমানের প্রহরায় নিয়োজিত ছিল।
সিনজার শহরের চারপাশের পার্বত্য এলাকায় বিমান থেকে এ ত্রাণসামগ্রী ফেলা হয়। এক সপ্তাহ আগে আইএস জঙ্গিদের অগ্রসরের মুখে ইয়াজিদি সম্প্রদায়ের কমপক্ষে ৫০ হাজার সদস্য এখানে আশ্রয় নিয়েছে।
জাতিসংঘও জানিয়েছে, ইরাকে আটকে পড়াদের কাছে জরুরীভিত্তিতে মানবিক সহায়তা পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে সংস্থাটি।
আইএস যোদ্ধারা চলতি সপ্তাহে ইরাকের বৃহত্তম খ্রীস্টান শহর কারাখোশ দখল করে নেয়। ফলে হাজার হাজার লোক শহর থেকে পালিয়ে যায়।
শুক্রবার আরবিল শহরের সুরক্ষায় নিয়োজিত বাহিনীর বিরুদ্ধে ব্যবহৃত আইএস যোদ্ধাদের গোলন্দাজ ইউনিট লক্ষ্য করে প্রথম মার্কিন বিমান হামলা চালানো হয়। পরে পেন্টাগন দ্বিতীয় দফা হামলার কথাও জানায়।
পেন্টাগন জানায়, মার্কিন চালকবিহীন বিমান ও যুদ্ধবিমান আইএস যোদ্ধাদের একটি মর্টার অবস্থান ও জঙ্গি বহনকারী সাতটি গাড়িতে হামলা করে।
তবে আইএস মার্কিন হামলাকে গ্রাহ্য করছে না। এক যোদ্ধা বলেন, মার্কিন হামলা কোন প্রভাব ফেলবে না।
ইরাকের সামরিক বাহিনী প্রধান বলেছেন, তাদের বাহিনী ও পেশমেরগা যোদ্ধারা আগামী কয়েক ঘন্টার মধ্যে বিস্তীর্ণ এলাকার নিয়ন্ত্রণ নিতে পারবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করছেন। তিনি এও বলেন, আইএস নিয়ন্ত্রিত অন্যান্য শহরেও যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালাবে বলে তিনি মনে করেন। তবে কোন শহরের নাম নির্দিষ্ট করে বলেননি।
এর আগে ইরাকের স্বৈরশাসক সাদ্দাম হোসেনকে উৎখাতে মার্কিন নেতৃত্বাধীন যৌথ বাহিনী ইরাকে ২০০৩ সালের ২০ মার্চ হামলা চালায়। ওই যুদ্ধে ইরাকের অন্তত ৫৫ হাজার বেসামরিক মানুষ নিহত হয়। উৎখাত হন সাদ্দাম হোসেন। ২০১১ সালের ১৫ ডিসেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে ইরাক যুদ্ধের সমাপ্তি ঘোষণা করে ওবামা প্রশাসন। এরপর তিন দিনের মাথায় ১৮ ডিসেম্বর ইরাক থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার সম্পন্ন করা হয়। সেই থেকে বিভিন্ন সময়ে জাতিগত লড়াইয়ে ইরাক রক্তাক্ত হলেও যুক্তরাষ্ট্র কখনো হস্তক্ষেপ করেনি।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য