ইবোলার ভয়াবহতায় লাইবেরিয়ায়লাইবেরিয়ায় ইবোলা ভাইরাস ভয়াবহ আকারে ছড়িয়ে পড়ায় দেশটিতে ৯০ দিনের জরুরি অবস্থা জারি করেছেন প্রেসিডেন্ট এলেন জনসন সারলিফ। গত বুধবার সারলিফ এ ঘোষণা দেন। ঘোষণাটি লিখিত আকারে গতকাল বৃহস্পতিবার পার্লামেন্টে উপস্থাপন করা হয়।
সারলিফ তাঁর দেয়া ভাষণে এই ভাইরাসের বর্তমান ঝুঁকি সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা দেন। তিনি বলেন, রাষ্ট্রকে বাঁচাতে এই বিশেষ পদক্ষেপ নেয়া প্রয়োজন ছিল।
এরই মধ্যে লাইবেরিয়ায় ইবোলা ভাইরাসে ৩০০ জন আক্রান্ত হয়েছে। চলতি বছরের শুরুর দিকে পশ্চিম আফ্রিকার বনাঞ্চল থেকে এ ভাইরাসটি ছড়িয়ে পড়ে। এই ভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের অর্ধেকই মারা গেছে। সতর্কতা জারি করে সারলিফ জানান, এই ঝুঁকি আরো বাড়ছে। অজ্ঞতা ও দারিদ্র্যের কারণে এই ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ছে।
প্রেসিডেন্ট তাঁর জরুরি ভাষণে জানান, ভাইরাসটি বর্তমানে যে ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে, তা নিয়ন্ত্রণ করা সরকারের কোনো সংস্থা বা মন্ত্রণালয়ের নিয়ন্ত্রণের বাইরে। লাইবেরিয়ার এ নেতা ইবোলার ভয়াবহতা কমাতে প্রার্থনাসহ ধর্মীয় আচার পালনের আহ্বান জানিয়েছেন।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার এক হিসাবে দেখা যায়, চলতি বছরে এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে পশ্চিম আফ্রিকায় ৯৩২ জন মারা গেছে। এছাড়াও এক হাজার ৭১১ জন এ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে। তাদের বেশিরভাগই গিনিয়া, লাইবেরিয়া ও সিয়েরালিওনের নাগরিক। বর্তমানে এটি আফ্রিকার সবচেয়ে জনবহুল রাষ্ট্র নাইজেরিয়ায় ছড়িয়ে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সম্প্রতি পশ্চিম আফ্রিকায় দ্রুত ছড়িয়ে পড়া ইবোলা রোগ নিয়ন্ত্রণে ২০ কোটি ডলার বরাদ্দ দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে বিশ্বব্যাংক। গিনি, লাইবেরিয়া ও সিয়েরালিওনে বিশ্বব্যাংক এই অর্থ বরাদ্দ দেবে।

 

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য