02. india vs nzঅকল্যান্ডে অনুষ্ঠিত প্রথম টেস্ট নাটকীয়ভাবে সফরকারী ভারতকে ৪০ রানে পরাজিত করেছে নিউজিল্যান্ড। আর এমন জয়ে স্বাগতিক দলের হয়ে মুখ্য ভূমিকা পালন করেছেন বোলার নেইল ওয়াগনার। দুই ইনিংসেই দ্রুত উইকেট শিকার করে ভারতের কাছ থেকে ম্যাচ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে এনেছেন নিউজিল্যান্ডের গো-টু ম্যান ওয়াগনার।
প্রথম ইনিংসে ৫০৩ রানের পর দ্বিতীয় ইনিংসে মাত্র ১০৫ রানে গুটিয়ে যায় কিউইরা। জবাবে প্রথম ইনিংসে ২০২ রান করার পর জয়ের জন্য ৪০৭ রানের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে খেলতে নেমে ৩৬৬ রানে গুটিয়ে যায় ভারত।

টেস্ট র‌্যাংকিংয়ের অষ্টম স্থানে থাকা নিউজিল্যান্ড এবং দ্বিতীয় স্থানে থাকা ভারতের মধ্যকার ম্যাচে সফরকারী দল মাত্র ৯৮ রানে তাদের শেষ পাঁচ উইকেট হারালে চতুর্থ দিনেই টেস্টের মীমাংসা হয়ে যায়। প্রথম ইনিংসে নিউজিল্যান্ডের বিশাল সংগ্রহে মুখ্য ভূমিকা পালন করা অধিনায়ক ব্রেন্ডন ম্যাককালাম গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে ব্রেকথ্র“ এনে দেয়ার জন্য ওয়াগনারের প্রশংসা করেন। ম্যাককালাম বলেন, ‘নির্দিষ্ট করে বলতে গেলে ওয়াগনারই আজ আমাকে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে ভূমিকা রেখেছে। আমাদের দলগত নৈপূণ্যের জন্য যা দরকার ছিল তার সবকিছুই তিনি দিয়েছেন এবং একইভাবে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তেই তিনি সঠিক কাজটি করেছেন।’
‘আমি কেবল মাত্র তার ভূয়সী প্রশংসা করতে পারি না। অবশ্যই আমাদের দুই পেস তারকা ট্রেন্ট বোল্ট ও টিম সাউদির কথাও বলতে হবে। তবে আমাদের এ সুন্দর মুহূর্তের পিছনে অবশ্যই সঠিক সময় ওয়াগনারের ভূমিকা বিশেষভাবে উল্লেখ করতে হবে।’ রোববার চা বিরতি পর্যন্ত জয়ের জন্য ভারতের দরকার ছিল ১৩৭ রান। আর নিউজিল্যান্ডের প্রয়োজন ছিল পাঁচ উইকেট। লক্ষ্যমাত্রা যত ছোট হয়ে আসছিল এবং উইকেট শেষ হচ্ছিল প্রতিদ্বন্দ্বী দুই অধিনায়ক ম্যাককালাম ও মহেন্দ্র সিং ধোনি ততই তাদের কৌশল পরিবর্তন করছিলেন।

চা বিরতির পর প্রথম ওভারেই ১৯ রানে রোহিত শর্মা আউট হলে ভারত আক্রমণাত্মক হয়ে খেলা শুরু করে। মাত্র সাত ওভারে ধোনি ও রবীন্দ্র জাদেজা ৫৪ রান যোগ করে। নিউজিল্যান্ডকে চাপে ফেলতে ধোনি ভাষায় যা ছিল ‘ঝুঁকিপূর্ণ ক্রিকেট।’ কিন্তু তাদের সে পরিকল্পনা কাজে আসেনি। ২১ বল থেকে ২৬ রান করা জাদেজাকে বিদায় করেন বোল্ট। ধোনি বলেন, ‘আমরা দ্রুতগতিতে খুব বেশি রান করতে পারিনি। হতে পারে আরো ২০ রান হলে হয়তোবা আমরা মনোভাবের পরিবর্তন করতে পারতাম।’ জহির খান এবং ধোনি ২৫ রানের জুটি বাঁধলে ম্যাককালাম তার সিনিয়র বোলার সাউদিকে বাদ দিয়ে ওয়াগনারের হাতে বল তুলে দিতে বাঁধ্য হন।

ওয়াগনার তাৎক্ষণিকভাবে জুটি ভাঙ্গতে সক্ষম হওয়ায় ভারতের স্কোর দাঁড়ায় ৩৪৯-৮। কিছুক্ষণ পরই ভারতীয় অধিনায়ক ৩৯ রানে ওয়াগনারের শিকারে পরিণত হন। চার রান করা ইশান্ত শর্মাকে আউট করে ইনিংসের সমাপ্তি টানেন বোল্ট।
ওয়াগনার ৬২ রানে ৪টি এবং সাউদি ও বোল্ট ৩টি করে উইকেট নেন। আগের দিনের ৮৭ রানে ১ উইকেট হারানো ভারত সকলের শেসনে কেবল মাত্র চেতেশ্বর পুজারার (২৩) উইকেট হারিয়ে ২ উইকেটে ১৮০ রান সংগ্রহ করে। মূলত মধ্যাহ্ন বিরতির পর ওয়াগনার তার প্রথম স্পেলে শিখর ধাওয়ান ও বিরাট কোহলিকে আউট করলে নিউজিল্যান্ড ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয়।

স্কোর কার্ড :
নিউজিল্যান্ড প্রথম ইনিংস-৫০৩ (বি ম্যাককালাম ২২৪, কে এন্ডারসন ১১৩, সি এন্ডারসন ৭৭, আই শর্মা ৬-১৩৪, জেড খান ২-১৩২)
ভারত প্রথম ইনিংস : ২০২ (আর শর্মা ৭২, এন ওয়াগনার ৪-৬৪, টি সাউদি ৩-৩৮, টি বোল্ট ৩-৩৮)।
নিউজিল্যান্ড দ্বিতীয় ইনিংস : ১০৫ (টেইলর ৪১, আই শর্মা ৩-২৮, এম শামি ৩-৩৭)।
ভারত দ্বিতীয় ইনিংস (আগের দিন ৮৭-১) এম বিজয়
স্কোর বোর্ড
এম বিজয় সি ওয়াটলিং বি সাউদি ১৩
এস ধাওয়ান সি ওয়াটলিং বি ওয়াগনার ১১৫
সি পুজারা সি ওয়াটলিং বি সাউদি ২৩
ভি কোহলি সি ওয়াটলিং বি ওয়াগনার ৬৭
আর শর্মা সি ওয়াটলিং বি সাউদি ১৯
এ রাহানে এলবিডব্লিউ ব বোল্ট ১৮
এম ধোনি বি ওয়াগনার ৩৯
আর জাদেজা সি সোধি বি বোল্ট ২৬
জেড খান সি টেইলর বি ওয়াগনার ১৭
আই শর্মা সি ওয়াটলিং বি বোল্ট ৪
এম শামি নট আউট ০
অতিরিক্ত (বা-১২, লেবা-৭, ও-২, নোব-৪) ২৫
মোট (অলআউট; ৯৬.৩ ওভার) ৩৬৬
উইকেট পতন : ১-৩৬, ২-৯৬, ৩-২২২, ৪-২৪৮, ৫-২৬৮, ৬-২৭০, ৭-৩২৪, ৮-৩৪৯, ৯-৩৬২, ১০-৩৬৬
বোলিং : বোল্ট ২৩.৩-২.৮৬-৩ (নোব-২), সাউদি ২৩-৪-৮১-৩, ওয়াগনার ২৫-৮-৬২-৪ (নোব-২), আন্ডারসন ৭-১-২২-০ (ও-২), সোধি ১৫-২-৭৮-০, উইলিয়ামসন ৩-০-১৮-০
ফলাফল : নিউজিল্যান্ড ৪০ রানে জয়ী।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য