অভাগীনি যে দিকে যায় সাগর শুকিয়ে যায়। প্রবাদ বাক্যটি একটি পরিবারের জন্য সত্য হয়ে উঠেছে। স্বামী পরিত্যক্তা মা তার মেয়েকে নিয়ে সুখে ঘর বাঁধতে গিয়ে মেয়ের ভাগ্যে জুটেনি স্বামীর সংসার। পরবর্তীতে মা মেয়েকে বিদেশে পাঠায়। চার মাস পরে মৃত্যুর ৭দিন পর আজ রবিবার মেয়ের মৃত্যু খবর পেয়ে শোকাতরে নির্বাক হয়ে শয্যাশায়ী। ঘটনাটি ঘটেছে জয়পুরহাটের পাঁচবিবি পৌর এলাকার হারানপট্টিতে (দানেজপুর)। পরিবারের লোকজন জানায়, স্বামী পরিত্যক্তা নারী শ্রমিক বুলি বেগম তার মেয়ে তানিয়া বেগমকে (২৪) ২০০৬ সালে দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলার পান্নাথপুর গ্রামের আব্দুল গফুরের ছেলে গাড়ী চালক সহিদুল ইসলামের সাথে বিয়ে দেয়। দুই বছর পরে সহিদুল তার স্ত্রী তানিয়া ও একবছরের ছেলে তানভিরকে রেখে চলে গেলে তানিয়া তার মায়ের কাছে আশ্রয় নেয়। এ বছরের এপ্রিলে আদম ব্যাপারী পাঁচবিবির উচাই গ্রামের নয়নের মাধ্যমে তানিয়া গৃহ পরিচালিকার কাজ নিয়ে আবুধাবীতে যায়। সেখান থেকে দু’বার তার মায়ের কাছে টাকা পাঠিয়েছে। দিনমজুর বুলি তার মেয়ের সাথে সর্বশেষ ১৭ জুলাই কথা বলে। এরপর থেকে বহুবার চেষ্টা করেও সে তার মেয়ে তানিয়ার সাথে কথা বলতে পারেনি। আজ রবিবার তানিয়ার বাড়ীর মালিক গৃহকর্তৃ তার (তানিয়া) মৃত্যুর সংবাদটি বুলিকে নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, ২৫ জুলাই তানিয়া অসুস্থ্য হলে তাকে স্থানীয় হাসপাতালে (আবুধাবীস্থ) ভর্তি করা হলে সেখানেই তার মৃত্যু হয়েছে। লাশ হাসপাতালের হিমাগারে রয়েছে। এ মৃত্যু রহস্যজনক বলে পরিবারের লোকজন দাবী করেন। তানিয়ার লাশ দেশে পাঠানো হবে বলে তার গৃহকর্তৃ জানান। আদম ব্যাপারী নয়নের সাথে মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে তার মোবাইল বন্ধ পাওয়া যায়।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য