মিঠাপুকুরের বৈরাগীগঞ্জ চুহর উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ও এর আশপাশের বাড়িতে ব্যাপক হারে মাদক ব্যবসা হলেও নজর নেই প্রশাসনের। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের ছত্রছায়ায় মাদক ব্যবসায়ীরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। এছাড়া পুলিশ প্রশাসনের আর্শিবাদ থাকায় স্কুল কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় সচেতনমহলও অনেকটা অসহায়। প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে, রংপুর জেলার মিঠাপুকুর উপজেলাধীন বৈরাগীগঞ্জে দু’দশক ধরে মাদক ব্যবসা চলে আসছে। মূলত চুহর উচ্চ বিদ্যালয়ের তিন পাশেই মাদকের সাম্রাজ্য বিস্তার রয়েছে। মাদক বিক্রি ও সেবনের জন্য স্কুল মাঠটি নিরাপদ স্থান হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। দিনের বেলা বাড়িতে কেনাবেচা চললেও সন্ধ্যার পর থেকে সকাল পর্যন্ত স্কুল মাঠ সরগম থাকে। শত শত মাদকসেবীর আনাগোনায় বৈরাগীগঞ্জ মুখরিত থাকলেও স্থানীয় জন প্রতিনিধিদের চোখে তা ধরা পড়ে না। অথচ পায়রাবন্দ ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডে অবস্থিত মাদক ঘাঁটির ১০০গজের মধ্যে বসবাস করেন ইউপি সদস্য শাহজাহান ও মহিলা সদস্য হাছিনা বেগম। এছাড়া ইউপি চেয়ারম্যান রেজাউল হকের বাড়িও খুব সন্নিকটে। আলোড়ন সৃষ্টিকারী বৈরাগীগঞ্জের মাদক ব্যবসা বন্ধে তারা কোন পদক্ষেপ নেয়নি। উল্টো মৃতঃ নুরু মিয়ার পুত্র মাদক সম্রাট রাজু মিয়াকে প্রত্যক্ষভাবে সহযোগিতাকারী হিসেবে মহিলা সদস্য হাছিনার নাম চাউর হয়ে পড়েছে। এ বিষয়ে কথা হলে হাছিনা বেগম অভিযোগগুলো অস্বীকার করেন। তিনি ইউপি সদস্য শাহজাহানের দোষ দেন। এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, পুলিশ টাকা খেয়ে চুপ থাকে আর আমরা দোষী হই। ইউপি সদস্য শাহজাহান, মাদক বন্ধে পুলিশ কোন ভূমিকা না রাখায় আমরা অনেকটা অসহায়। এদিকে চুহর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোতালেব হোসেন ভয়ে কিছু বলতে চায়নি। তিনি বলেন, আমাদের জীবন রক্ষা করে চলতে হয়। ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি আমিনুল ইসলাম বলেন, যেখানে প্রশাসন কিছু বলে না সেখানে আমি কি বলবো। নিজের মান-সম্মান নিয়ে অসহায়ের মত বেঁচে আছি। পারলে আপনারা কিছু করেন। এছাড়াও স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলে, পুলিশ আর পেশী শক্তি আছে রাজুর কাছে। তার নেতৃত্বেই ৬/৭ জন ফেন্সিডিল, গাঁজা, ইয়াবা ও মদের ব্যবসা চলছে। ইউপি মহিলা সদস্যই রাজুর, হয়ে প্রশাসনে দেন দরবার করেন। মিঠাপুকুর থানার অফিসার মোয়াজ্জেম হোসেন প্রতিবেদকের সাথে কথা বলেন আমি সব দারোগাকে বলেছি রাজুকে ধরে নিয়ে আসতে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য