05. chinaআন্তর্জাতিক ডেস্ক : চীনের মোট জনসংখ্যার বড় একটা অংশই ব্দ্ধৃ-বৃদ্ধা। ২০৩০ সাল নাগাদ সংখ্যাটা বেড়ে যাবে অনেক। তখন দেখা দেবে ভয়াবহ সংকট। প্রবীণদের মাঝেও এ নিয়ে দুশ্চিন্তার শেষ নেই। হি শিয়াংগিং। বেইজিংয়ের এক বৃদ্ধা। কিন্তু বৃদ্ধা হলে কি হবে, নিজের আয় থেকে প্রতিমাসে কিছু টাকা পাঠান ছেলের কাছে। ছেলের সংসার চালানোর জন্য নয়, টাকাটা পাঠান অন্যের এক শিশুসন্তানকে পেলেপুষে বড় করার জন্য।হি জানেন, যখন বয়সের কাছে হার মানবে শরীর, কাজ করার ক্ষমতা আর থাকবে না, তখন আজকের এ শিশুটিই হবে তার অবলম্বন। এখন টাকা-পয়সা দিয়ে বড় করছেন বলেই ছেলেটি বড় হয়ে তাকে দেখবে।নিজের ছেলে থাকতেও কেন অন্যের ছেলের দিকে তাকিয়ে আছেন হি শিয়াংগিং? প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক। তবে এক সন্তান নীতির কারণে ধীরে ধীরে পরুষ এবং বৃদ্ধের সংখ্যা ভারসাম্যহীনভাবে বেড়ে চলা চীনের সচেতন প্রতিটি মানুষ জানেন কেন নিজের সন্তানের ওপর ভরসা রাখতে পারছেন না হি।আধুনিকতার ছোঁয়ায় এমনিতেই দেশের সংস্কৃতি বদলে যাচ্ছে। তাই আগের মতো সন্তানেরা আর বুড়ো বাবা বা বুড়ি মা-কে সেবা করে ‘সময় নষ্ট’ করতে চায় না। সবাই ব্যস্ত ক্যারিয়ার গড়ার কাজে। তারওপর গ্রামের বাড়িতে বেকার ছেলেটি নিজের জীবন চালাতেই হিমশিম খাচ্ছেন, বার্ধক্যে মা-কে দেখবেন কী! সে আশা করাই যে ভুল তা হিও জানেন। তাই দুঃখ নিয়েই বললেন, যে সন্তান নিজেই গরীব, আমি বেঁচে থাকি বা মরে যাই, আমার জন্য সে কী করতে পারবে! কল্যাণমূলক রাষ্ট্রে সকল নাগরিকের পাশে সবসময় থাকে সরকার। চীনের সরকারও চেষ্টা করছে প্রবীণদের পাশে দাঁড়াতে। কিন্তু পরিসংখ্যান বলছে ২০৩০ সালের মধ্যে চীনে মোট বৃদ্ধ-বৃদ্ধার সংখ্যা ৩৫ কোটি ছাড়িয়ে যাবে। সে কথা ভেবে বৃদ্ধাশ্রম স্থাপনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। কিন্তু জনসংখ্যার চাপে আবাসন সমস্যা এত বেড়েছে যে বৃদ্ধাশ্রম করার জায়গা পাওয়াও মুশকিল। এ পরিস্তিতিতেই কাজ চলছে। এ পর্যন্ত যে কয়টি বৃদ্ধাশ্রম তৈরি হয়েছে প্রয়োজনের তুলনায় তা খুবই সামান্য। এখন পর্যন্ত গড়ে এক হাজার প্রবীণের জন্য মাত্র ২৫টি শয্যার ব্যবস্থা করতে পেরেছে সরকার। বেসরকারিভাবেও চলছে শেষ জীবনে প্রবীণদের একটু স্বস্তি দেয়ার চেষ্টা। বেইজিংয়ের অদূরে একটি তিন তারকার হোটেলের সাইনবোর্ড বদলে ফেলাও তেমন একটি উদ্যোগ। সেই হোটেলে এখন থাকেন প্রায় তিনশ প্রবীণ। ঝৌ চুয়ানসুন সেখানে আছেন দু বছর ধরে। নিজের বাড়ি থাকতেও সমবয়সিদের সঙ্গে থাকতে পেরে তিনি খুশি।খুশির কারণ জানাতে গিয়ে বললেন, ‘‘নিজের বাড়িতে থাকলে তো সারাক্ষণ একা একা লাগতো। আমার এক ছেলে, এক মেয়ে। দুজনই ভালো চাকরি করে। কিন্তু আমাকে দেখার তো তাদের সময় নেই। তাই এখানে ভালোই আছি। এখানে সময় খুব দ্রুত কেটে যায়।কিন্তু তেমন কোনো জায়গায় থাকতে হলে আবার মোটা অঙ্কের টাকা খরচ করতে হয়। সে সাধ্য কম লোকেরই আছে। আবার বাড়িতে থাকবেন, দেখাশোনা করার জন্য কাউকে ঠিক করবেন সে উপায়ও নেই। প্রবীণদের সেবা করে জীবিকা নির্বাহ করা তাদের কাছে সম্মানজনক পেশা নয়।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য