05 Jukta rajjaযুক্তরাষ্ট্রের সমুদ্রসীমার দিকে অগ্রসর হওয়ার জন্য ইরানের উত্তরাঞ্চলীয় নৌবহরকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে বলে ইরানি নৌবাহিনীর এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, পারস্য উপসাগরে যুক্তরাষ্ট্রিয় যুদ্ধজাহাজের অবস্থানের প্রতিক্রিয়ায় এই পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। গতকাল শনিবার ইরানি বার্তা সংস্থা ফারস্ এ খবর জানিয়েছে।
ইরানি নৌবাহিনীর কর্মকর্তা অ্যাডমিরাল আফশিন রেজায়ি হাদ্দাদ বলেছেন, ইরানি সামরিক নৌবহর যুক্তরাষ্ট্রের সমুদ্রসীমার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে, এই পদক্ষেপের মধ্যে একটি বার্তা আছে। বার্তাটি ‘সতর্ক বার্তা’ বলে জানিয়েছে রেডিও তেহরান। ইরানের উত্তরাঞ্চলীয় নৌবহরের কমান্ডার হাদ্দাদ জানিয়েছেন, নৌবহর দক্ষিণ আফ্রিকার নিকটবর্তী আটলান্টিক মহাসাগরীয় জলসীমা দিয়ে যাত্রা শুরু করেছে। ফারস্ বলেছে, পারস্য উপসাগরে ওয়াশিংটনের নৌ-শক্তির উপস্থিতির ইরানি প্রতিক্রিয়ার অংশ হিসেবে এ পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের দিকে রওয়ানা হওয়া যুদ্ধজাহজগুলো কী ধরনের বা তাদের ক্ষমতা কেমন, তা ফারসের প্রতিবেদনটিতে উল্লেখ করা হয়নি বলে জানিয়েছে রয়টার্স। প্রতিবেদনটি নিরপেক্ষ কোনো সূত্রের মাধ্যমে যাচাই করা সম্ভব হয়নি বলেও জানিয়েছে রয়টার্স। যুক্তরাষ্ট্রের সমুদ্রসীমার দিকে ইরানি যুদ্ধজাহাজ এগিয়ে আসছে, এমন খবরে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক যুক্তরাষ্ট্র প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা। তবে মন্তব্যে বলেছেন, “যে কোনো জাহাজ আন্তর্জাতিক জলসীমায় মুক্তভাবে চালচল করতে পারে।”
পারস্য উপসাগরে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্র দেশগুলো নিয়মিত নৌমহড়ার আয়োজন করে থাকে। যুক্তি হিসেবে বলা হয়, বিশ্বের তেল সম্পদের ৪০ শতাংশ যে জলসীমা দিযে রপ্তানি করা হয়, তার অবাঁধ চলাচল নিশ্চিত করতেই এসব নৌমহড়া চালানো হয়। পারস্য উপসাগরের দ্বীপদেশ বাহরায়েনে যুক্তরাষ্ট্রের পঞ্চম নৌবহরের ঘাঁটি আছে। আক্রান্ত হলে পারস্য উপসাগর থেকে বের হওয়ার একমাত্র পথ হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেয়া হবে বলে ইরানি কর্মকর্তারা প্রায়ই বলে থাকেন। পশ্চিমা নৌমহড়াগুলো ইরানি এই হুমকি থেকে হরমুজ প্রণালীকে মুক্ত রাখার প্রত্যয়েই আয়োজন করা হয়। ফারস্ জানিয়েছে, ২০১০ থেকেই ইরানি যুদ্ধজাহাজগুলো আন্তর্জাতিক নৌসীমায় টহল দিয়ে আসছে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য