পাঁচবিবি উপজেলা সদরের খুচরা মার্কেট গুলো ঈদ উপলক্ষ্যে জমে উঠলেও ভারতীয় পণ্যের দাপট কয়েকগুণ বেশি। মূলত খুচরা মার্কেটগুলো পুরোটাই চলে গেছে ভারতীয় পণ্যের দখলে। পোশাক, কসমেটিক্স, গার্মেন্টস্, মসলা, খুচরা যন্ত্রাংশ থেকে শুরু করে ঔষধ সামগ্রী পর্যন্ত অবৈধ পথে আসা নি¤œমানের ভারতীয় পণ্য। এগুলো প্রকাশ্যে বেচাকেনা হলেও দেখার কেউ নেই। নিরব হয়ে গেছে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা। সরকার হারাচ্ছে কোটি কোটি টাকার রাজস্ব।

উত্তরাঞ্চলের ছোট্ট জেলা জয়পুরহাটের সীমান্তবর্তী উপজেলা পাঁচবিবির ১০ কিলোমিটার এলাকা ভারতীয় সীমান্ত ঘেঁষা। এই সীমান্ত এলাকার কয়েকটি বহুল আলোচিত চোরালানের পয়েন্টের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো চেঁচড়া, কাঁচনা, ভুঁইডোবা, ঘোনাপাড়া, লকমা, কড়িয়া ও বুড়ির বাগান। ঈদ উপলক্ষ্যে এই পয়েন্টগুলো দিয়ে ২৪ ঘন্টা অবৈধ ভারতীয় পণ্য ¯্রােতের পানির মত এদেশে ঢুকছে। এ অবৈধ পণ্যগুলির একটা ক্ষুদ্র অংশ পাঁচবিবির মার্কেটগুলোতে সাপ্লাই দেওয়ার পর অবশিষ্টটা নিয়ে যাচ্ছে দেশের বড় বড় শহরগুলোতে। পাঁচবিবি বাজারে আলো ঝলমলে বড় বড় শো-রুমগুলোতে চাইলেই যে কোন ভারতীয় পণ্য সহজেই পাওয়া যাচ্ছে। বিশেষ করে ঈদ-উল-ফিতরকে কেন্দ্র করে পাঁচবিবি বাজারের মার্কেটগুলি ভারতীয় মার্কেটে পরিণত হয়েছে। দোকানগুলোতে ভারতীয় পণ্য বেচাকেনাও হচ্ছে প্রচুর। মেয়েদের শাড়ী ও থ্রি-পিস, ভারতীয় না হলে চলছেই না। ভারতীয় ফিল্ম ষ্টারদের নামে ব্রান্ডের পণ্যগুলির চাহিদা বেশি। নাম প্রকাশ করা শর্তে পাঁচবিবির জনৈক কাপড় ব্যবসায়ী জানালেন ‘‘ভারতীয় আইটেমগুলোর চাহিদা অত্যাধিক। বিক্রি করে লাভও ভাল হয়। আমরা বেঁচেও আরাম পাই। দোকান সাঁজানোর জন্য দেশী কাপড় কিছু রাখতেই হয়। তবে সংশ্লিষ্ট আইন প্রয়োগকারী সংস্থার লোকদেরকে খুশি রাখেই ব্যবসা করতে হয়।’’ ‘‘অন্য আর একজন ব্যবসায়ী জানালের অবৈধ পথে এসব ভারতীয় কাপড়চোপড়ের মান অত্যাধিক খারাপ। কিন্তু ক্রেতারা এগুলি চায়। বিধায় আমরাও বিক্রি করি। এসব কাপড় চোপড় বিক্রি করে দু’পয়সা রুজিও হয়।’’ গত দু’দিন আগে সীমান্তের উল্লেখিত রুটগুলির পাশ দিয়ে যাওয়ার পথে অভিনব দৃশ্য চোখে পড়ে। দেখা যায়, শত শত নারী পুরুষ ও শিশু পিঠের মধ্যে একটি করে বিশাল পোটলা নিয়ে ক্ষেতের মধ্যে দিয়ে দৌড়াচ্ছে। পোটলার মধ্যে অবৈধ ভারতীয় পণ্য। শেফালী নামের একজন পোটলাবাহী মহিলাকে কেন অবৈধ ব্যবসায় জড়িয়ে পড়েছে জিজ্ঞেস করলে সে বলে স্বামী ছেড়ে গেছে এখন কি করি। পেট চালানোর জন্য চোরাচালান ব্যবসা করি।

এব্যাপারে সংশ্লিষ্ট আইন প্রয়োগকারী সংস্থার লোকদের ভূমিকা রহস্যজনক। অনেক সময় দেখা যায় পুলিশ বিজিবির সামনে দিয়ে চোরাকারবারীরা মালামাল নিয়ে যাচ্ছে। বর্তমান চোরাচালানে ব্যবহৃত মোটর সাইকেলগুলোকে ভারতীয় মসলা ও কাপড়সহ পাঁচবিবি থানা রোড দিয়েই যেতে বেশি দেখা যায়। অনেক সময় অবৈধ চোরাকারবারীদের চলাচলের জন্য থানা রোড দিয়ে সাধারণ ভদ্রলোক চলাচল করতে পারে না। এ সড়কটি যেন চোরাকারবারীদের জন্য অভয় রাস্তা। আইন প্রয়োগকারীরা যদি যথাযথ দায়িত্ব পালন করতো তাহলে দেশের শিল্প কারখানাগুলো যেমন বাঁচতো, পাশাপাশি দেশ পেত বড় অংকের রাজস্ব। অবৈধ চোরাচালানের জন্য সরকার কোটি কোটি টাকা হারাচ্ছে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য