নীলফামারীর জলঢাকায় উপজেলা প্রকৌশলীর যোগসাজশে ছয় কোটি এক লাখ টাকার কাজ স্থানীয় টেন্ডার সেন্ডিকেটের ঠিকাদারদের মাঝে ভাগাভাগি করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার দরপত্র ফেলাকে কেন্দ্র করে উপজেলা পরিষদের ক্যাম্পাসের ভিতরে তুমূল শোরগোল শুরু হয়। এসময় শামীম নামে এক ঠিকাদারের প্রতিনিধি সিডিউল জমা দিয়ে অফিস থেকে যাওয়ার পথে তাকে মারধর করে উপজেলা টেন্ডার সিন্ডিকেটের লেলিয়ে দেওয়া বাহিনীরা। অপর দিকে এ অনিয়মের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করে উপজেলা প্রকৌশলীকে নিজ কার্যালয় কিছু সময় অবরুদ্ধ করে রাখে স্থানীয় স্বেচ্ছা সেবক লীগের কর্মীরা। পরে অতিরিক্ত পুলিশ এলে পরিস্থিতি শান্ত হয়। উপজেলা প্রকৌশলী দপ্তর সূত্রে জানা যায়, তৃতীয় প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচি (পিইডিপি-৩ অধিনে) গত ১ জানুয়ারি/১৪ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে দরপত্র দুই ভাগে ৬ কোটি ১ লাখ টাকার দরপত্র আহবান করা হয়। প্রথম পর্যায়ে দরপত্র জমা দানের শেষ দিন ছিল ৪ফেব্র“য়ারি এবং দ্বিতীয় দফার শেষ দিন ছিল ৬ ফেব্র“য়ারি বৃহস্পতিবার। প্রতিটি সিডিউল ক্রয় মূল্য ধরা হয় ৩ হাজার টাকা। প্রথম ও দ্বিতীয় দফায় প্রতিটি গ্র“পের ৩টি করে প্যাকেজের বিপরীতে সিডিউল বিক্রি হয় ৪৯টি ও ৫২টি। পরে ঠিকাদার সিন্ডিকেট ও স্থানীয় প্রকৌশলী যোগসাযেসে রফাদফার মাধ্যমে সেই সিডিউল জমা পরে ৪৯টির স্থলে ১২টি এবং ৫২টির বিপরীতে ১০টি। নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন ঠিকাদার জানান, কোথাও সরকারি দরের অনেক উর্ধে দরপত্র দাখিল করেছে,আবার কোথাও সরকারি দরের অনেক নিচে দরে দরপত্র দাখিল করে সরকারি রাজস্ব ফাঁকি দেওয়ার চেষ্টায় লিপ্ত হয়েছে এ সিন্ডিকেট। এখানে দেখা গেছে প্রথম দফার প্রথম গ্র“পে সিডিউলে সরকারি দর ১কোটি ২৮ লক্ষ ৬হাজার টাকা দেওয়া আছে। তার স্থলে আজিজার রহামান নামের দরপত্রে দেখা গেছে ১ কোটি ১৭লাখ ৬৩হাজার ৮৫৬ টাকা.২০পয়সায় কাজটি নেয়ার প্রক্রিয়ায় এগিয়ে আছেন অপরদিক ৩৩লাখ ৮৮হাজার টাকা সরকারি দরে থাকলেও সেখানে উর্ধ দরে প্রায় ৪৯ লাখ টাকায় দরপত্র দাখিল করেছে এই সিন্ডিকেটের ঠিকাদাররা। এদিকে ঠিকাদার রশিদুল ইসলাম বলেন,“আমি একটা সিডিউল কিনেছি এমকো এন্টার প্রাইজ (কিশোরগঞ্জ) নামে। সেটি নিকো (সমযোতা)- এর মধ্যে আছে”। তবে উপজেলা প্রকৌশলী হারুন অর রশিদ কাজ ভাগাভাগির বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে বলেন কেউ যদি সিডিউল জমা না দেয় আমি কি করতে পারি। আর তার যোগসাযোসে উর্ধ দরের বিষয়টিতে তিনি কোন মন্তব্য করেননি। এদিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রোকন উল হাসান টেন্ডার কমিটিতে আছেন কিনা, থাকলেও কোন পদে আছেন তিনি জানেন না বলে জানান। অভিযোগের বিষয়টি নিয়ে কথা হয় নীলফামারী এল জি ই ডি নির্বাহী প্রকৌশলী হক মাহমুদের সাথে তিনি সমকালকে বলেন,“স্থানীয় টেন্ডার কমিটিকে বিষয়টি অবগত করেন। আর অভিযোগ পেলে বিষয়টি তদন্ত পূর্বক ব্যবস্থা নেওয়া হবে”।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য