Hili Birampur Fulbariমোঃ আফজাল হোসেন, ফুলবাড়ী (দিনাজপুর) প্রতিনিধিঃ দিনাজপুরের ফুলবাড়ী ৪০ বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ বিজিবির সীমান্ত এলাকায় টহল দেওয়ার পরেও দিনাজপুর সীমান্ত দিয়ে আসছে বানের পানির মতো ভারতীয় মাদক, অস্ত্র ও বিভিন্ন মালামাল। বিজিবির টহল সীমান্ত থেকে ৫ কিলোমিটারের মধ্যে হলেও সোর্সের মাধ্যমে খবর নিয়ে তার পরে চোরাকারবারী ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে মাদকসহ বিভিন্ন ভারতীয় পন্য আটক করছে। এদিকে ফুলবাড়ী ৪০ বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ বিজিবি জানিয়েছে গত ৬ মাসে প্রায় ১৬ কোটি টাকার অধিক পরিমাণ মালামাল আটক করলেও গত কয়েক মাসে তার ৩গুন পরিমাণ ভারতীয় মাদক সহ পণ্য চোরা পথে সীমান্তের ওপার থেকে বাংলাদেশের ভিতরে প্রবেশ করে।
Hili Birampur Fulbari1
শুধু ভারতীয় মাদকই না আসছে আগ্নেয়াস্ত্র ও গোলাবারুদ এবং গান পাউডার। মাঝে মধ্যে বিজিবি ও পুলিশের হাতে অস্ত্র আটক হলেও বড় অস্ত্রের চালান চলে যাচ্ছে রাজধানী সহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে। ফুলবাড়ী ৪০ বিজিবির আওতায় বিরামপুর উপজেলা সীমান্ত ঘেষা ঘাসুড়িয়া, মংলা, কাটলা, দাউদপুর, ভাইগড়, অচিন্তপুর সীমান্ত এলাকা দিয়ে প্রতিদিন কোটি কোটি টাকার মাদকসহ অন্যান্য পণ্য এবং অস্ত্র ঢুকছে। সীমান্তের ওপার থেকে যে সব পণ্য আসছে তার মধ্যে যুব সমাজকে ধ্বংস করার জন্য ফেনসিডিল, ইয়াবা ট্যাবলেট, প্যাথেডিন ট্যাবলেট, মোটাতাজা করার ট্যাবলেট ও ইনজেকশন, ভারতীয় মদ, ভারতীয় আতশবাজী, গান পাউডার, বিভিন্ন প্রকার কসমেটিক্স, ষ্টীলের থালাবাসন, সার, গরু, বাইসাইকেল, মটর সাইকেলের পার্স, টিউব, টায়ার, কাপড়, মটর যানের যন্ত্রাংশ, বিভিন্ন ধরনের মশলা ইত্যাদি। সীমান্তের এপার থেকে যাচ্ছে চামড়া, ইলেকট্রিক সামগ্রী, ইলিশ মাছ, বাংলাদেশী সিগারেট, সোনা, তামা ইত্যাদি।  এই এলাকা নিরাপদ রুট হওয়ায় চোরাকারবারীর সর্ন ব্যবসায়ীরা এই রুট দিয়ে সুযোগ মতো ভারতে হুন্ডির টাকা ও সর্ন পাচার করছে। ফুলবাড়ী শহরে সিরাজগঞ্জ, পাবনা থেকে আসা বেশ কয়েকজন সর্ন ব্যবসায়ী এবং বিরামপুরের প্রভাবশালী ১০/১২ জন সর্ন ব্যবসায়ী তারা এই রুটের মাধ্যমে তাদের ব্যবসা চালিয়ে আসছে।
Hili Birampur Fulbari2
মাঝে মধ্যে তাদেরকে সীমান্ত এলাকায় ঘুরা ফেরা করতে দেখা যায়। শুধু তাই নয় জয়পুরহাট সীমান্ত এলাকার কয়েকটি রুটের মধ্যে কয়া, কড়িয়া, পাঁচবিবি, আটাপাড়া, বাংলা হিলিসিপি ও বাসুদেবপুর সীমান্ত দিয়ে চোরাচালান হলেও এর মালামাল বহনে বেশিরভাগ বিরামপুর ও ফুলবাড়ীর রুট ব্যবহার করা হচ্ছে। এই রুটে উঠতি বয়সের যুবক, মধ্য বয়সের যুবতী এবং বয়ষ্ক স্বামী পরিত্যাক্ত মহিলারাই বেশিরভাগ এই ব্যবসায় জড়িয়ে পড়েছে। তারা এমন কোন দিন নেই সীমান্ত এলাকা থেকে ভারতীয় মালামাল আনছে না। নিম্ন মানের মাল ভারত থেকে এনে বিরামপুর ও ফুলবাড়ীর কাপড়ের ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করছে। ঈদ সামনে হওয়ায় চোরা কারবারীর ব্যবসায়ীরা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। ফুলবাড়ীতে মাদকে ছেয়ে গেছে। প্রতিটি ফেনসিডিল বিক্রি হচ্ছে ৪ হতে ৫ শত টাকায়। এভাবে ফুলবাড়ী, বিরামপুর, পার্বতীপুর এলাকায় মাদক দ্রব্য মজুদ করে খুব সহজেই বিক্রি করছে। সীমান্ত এলাকায় বিভিন্নি গোয়েন্দা সংস্থার লোক জনের নামে লাইনম্যান টাকা তুলছে চোরা কারবারীদের ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে। বিরামপুর, ফুলবাড়ী,হাকিমপুর, ঘোড়াঘাট ও নবাবগঞ্জ উপজেলা চোরাকারবারীর ব্যবসা থাকায় প্রতি মাসে ডাক দেওয়া হচ্ছে। ডাকে যে বেশি টাকা দিচ্ছে তাকেই লাইন ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে। আর এই অবৈধ ব্যবসার সঙ্গে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার পুলিশসহ অন্যান্য লোকজনও জড়িয়ে পড়ছে। সীমান্ত এলাকায় সীমান্ত রক্ষীদের মদদে কোটি কোটি টাকার ভারতীয় পণ্য চোরাই পথে আসছে। আবার ঐ বিজিবি সদস্যরাই সোর্সের মাধ্যমে খবর পেয়ে মালামাল আটক করছে। এতে বুঝা যায় চোরাকারবারীরা কতিপয় বিজিবির সদস্যদের সাথে হাত মিলিয়ে তাদের ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। সীমান্ত ঘেষা এলাকাগুলিতে যুব সমাজেরা তৎপর হয়ে উঠেছে মাদক ব্যাবসায়। এখনই এই ভয়ঙ্কর মাদক ব্যবসাসহ চোরাচালান বন্ধ করা না গেলে দিনের পর দিন আরো চোরা চালান বেড়ে যাবে। বর্তমান যুব সমাজকে ধ্বংস করার জন্য ভারতীয় মাদকব্যবসায়ীরা উঠে পড়ে লেগেছে। এই যুব সমাজ একদিন যে, কর্ণধার হবে তারা তা বুঝে মেধাকে নষ্ট করার জন্য এই মাদক বাংলাদেশে ঢুকে দিচ্ছে। এই ভয়ানক মাদক বন্ধ করতে হলে সীমান্তে বিজিবিকে আরো কঠোর হতে হবে। অপরদিকে অনেককে আটক করে আইনের হাতে তুলে দিলেও আইনের ফাঁক ফোকরে বের হয়ে এসে আবারো চোরাচালান ব্যবসায় জড়িয়ে পড়ছে। এ ব্যাপারে বিভিন্ন রাজনৈতিক মহল, সাংবাদিক, সুধিজন মাদকসহ চোরাচালান ব্যবসা বন্ধ করার জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য