রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলো ক্ষুদ্র শিল্পে বিনিয়োগে আগ্রহ দেখাচ্ছে না। বরং এ খাতে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর বিনিয়োগ নেই বললেই চলে। গত ২০১৩-১৪ অর্থবছরের প্রথম ৯ মাসে ছোট শিল্প প্রতিষ্ঠানে সরকারি-বেসরকারি, বিদেশী ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান ২ হাজার ৭শ কোটি টাকা বিনিয়োগ করলেও এক্ষেত্রে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলো বিনিয়োগ মাত্র ২২ কোটি টাকা। অর্থ মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা যায়। সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, গত অর্থবছরের প্রথম ৯ মাসে জনতা ব্যাংক ক্ষুদ্র শিল্প প্রতিষ্ঠানে ২০ কোটি টাকা মেয়াদি ঋণ বিতরণ করে। আর এ খাতে সোনালী ব্যাংক ১ কোটি ৩৭ লাখ টাকা ও অগ্রণী ব্যাংক ৬৩ লাখ টাকা বিনিয়োগ করে। তবে রূপালী ব্যাংক এ খাতে কোনো ঋণই দেয়নি। যদিও সরকারের পক্ষ থেকে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের উন্নয়নে নানামুখী পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। কিন্তু রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর ক্ষুদ্র শিল্পে ঋণদানে অনীহা সার্বিক পরিস্থিতিকে হতাশাব্যঞ্জক করে তুলেছে। রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী, অগ্রণী ও জনতা ব্যাংক হাজার হাজার কোটি টাকার ঋণ অনিয়ম কওে এখন হাত গুটিয়ে বসে আছে। আর এর খেসারত দিচ্ছে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা। তারা ঋণ চেয়েও ঋণ পাচ্ছেন না।রাষ্ট্রায়াত্ত সোনালী ব্যাংকে হলমার্ক ও বিসমিল্লাহ গ্রুপের কেলেঙ্কারি পর রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোতে ঋণদান প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হয়েছে। ঋণ দেয়ার ক্ষেত্রে এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি যাচাই-বাছাই করা হয়। ফলে ঋণদান প্রক্রিয়ায় ধীরগতি বিরাজ করছে। একই সাথে ঋণ অনুমোদনের ক্ষেত্রে শাখা ব্যবস্থাপকের ক্ষমতা কমিয়ে দেয়া হয়েছে। এ কারণে ক্ষুদ্র শিল্পসহ সব ধরনের ঋণদান কমে এসেছে। তাছাড়া ক্ষুদ্র প্রতিষ্ঠানের ঋণ জেনারেল ক্রেডিট হিসাবে ধরা হয়। এ কারণে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর এ খাতে কোনো ঋণ নেই। তাছাড়া নানা কারণে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলো ঋণ দিতে পারছে না। ঋণদানের ক্ষেত্রে আগের চেয়ে কড়াকড়ি আরোপ করায় ব্যাংকিং খাতে এক ধরনের মন্দা চলছে। ফলে ঋণের তেমন কোনো চাহিদাও নেই। গত ২০১৩-১৪ অর্থবছরের প্রথম ৯ মাসে ক্ষুদ্র শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলো রাষ্ট্রায়ত্ত, বেসরকারি, বিদেশী ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ২ হাজার ৭১৪ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে। এর মধ্যে বেসরকারি ব্যাংক দিয়েছে ১ হাজার ৭৫০ কোটি টাকা, রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংক ৪৯৩ কোটি টাকা ও বিদেশী ব্যাংক ৫ কোটি টাকা। আর ২৮টি আর্থিক প্রতিষ্ঠান এ খাতে ঋণ দিয়েছে ৪৪২ কোটি টাকা। বেসরকারি ব্যাংকগুলোই ক্ষুদ্র প্রতিষ্ঠানে ঋণ দেয়ার ক্ষেত্রে এগিয়ে আছে। এসময়ে ইসলাম ব্যাংক ঋণ দিয়েছে ৯৬০ কোটি, আল আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক ২৮৪ কোটি, এক্সিম ১শ কোটি, দ্য সিটি ৮৬ কোটি ও প্রাইম ব্যাংক ৫৪ কোটি টাকা। আর ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ফার্স্ট লিজ ফিন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড ১৩৫ কোটি, ডেল্টা ব্র্যাক হাউজিং ১০৫ কোটি, আইডিএলসি ফিন্যান্স লিমিটেড ৯৩ কোটি, ইউনিয়ন ক্যাপিটাল ৬৬ কোটি ও ন্যাশনাল ফিন্যান্স ৩৫ কোটি টাকা ঋণ বিতরণ করে। আর রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ২৬৮ কোটি টাকা ঋণ দিয়েছে বেসিক ব্যাংক। ৯১ কোটি টাকা ঋণ দিয়ে এর পরের অবস্থানে রয়েছে কৃষি ব্যাংক।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য