দেশের বাইরে যাওয়ার অনুমতি পেলেন সিনাওয়াত্রাআন্তর্জাতিক ডেস্ক : থাইল্যান্ডের ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইংলাক সিনাওয়াত্রাকে দেশের বাইরে যাওয়ার অনুমতি দিয়েছে থাই সামরিক সরকার। সামরিক অভ্যুত্থানের পর এই প্রথমবারের মতো তাকে দেশ ত্যাগের অনুমতি দেয়া হলো। গতকাল বৃহস্পতিবার সামরিক মুখপাত্র একথা জানান।
সাবেক প্রধানমন্ত্রীর বড় ভাই পলাতক থাকসিন সিনাওয়াত্রার ৬৫তম জন্মদিনের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে আগামী সপ্তাহে ইংলাক প্যারিসে যাবেন বলে ধারণা করা যাচ্ছে।
জান্তা জানায়, সামরিক বাহিনী ক্ষমতা নেয়ার পর থেকে ইংলাক সব ধরনের রাজনীতি থেকে দূরে থাকায় তাকে এ অনুমতি দেয়া হয়। উল্লেখ্য, জান্তা সরকার ন্যাশনাল কাউন্সিল ফর পিস অ্যান্ড অর্ডার (এনসিপিও) নামে পরিচিত।
সামরিক মুখপাত্র কর্নেল উইনÑাই সুভারী বলেন, ‘সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইংলাক দেশত্যাগের যে আবেদন করেন এনসিপিও গতকাল তাদের অনুমতি দিয়েছে। কারণ সামরিক অভ্যূত্থানের পর থেকে তিনি এনসিপিও’র কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে কখনো অবস্থান নেননি।’
তিনি আরো বলেন, ‘ওই অভ্যুত্থানের পর থেকেই তিনি নিভৃতে ছিলেন ।’
থাইল্যান্ডের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী ইংলাক আদালতের বিতর্কিত আদেশে ক্ষমতাচ্যুত হন। আদালতের এই আদেশের পরপর তার নির্বাচিত সরকারকে সামরিক বাহিনী ক্ষমতা থেকে উৎখাত করে।
সামরিক অভ্যুত্থানের পর জান্তা সরকার সিনাওয়াত্রাসহ কয়েকশ’ জনকে ডেকে পাঠায় এবং তাদেরকে সাময়িকভাবে আটক করে।
উল্লেখ্য, ২০০৬ সালে এক সামরিক অভ্যুত্থানে তার ভাই থাকসিন সিনাওয়াত্রা ক্ষমতাচ্যুত হন এবং পরে দুর্নীতির দায়ে সাজা এড়াতে থাইল্যান্ড থেকে তিনি পালিয়ে যান।
সামরিক সূত্র জানায়, যে কোন দেশ সফরের সময় ইংলাক সিনাওয়াত্রাকে দূতাবাসের মাধ্যমে অবশ্যই থাই কর্তৃপক্ষকে জানাতে হবে।
থাইল্যান্ডে প্রায় সাত মাস ধরে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা চলার পর সেনা প্রধান জেনারেল প্রাউত চান-ওচা ক্ষমতা দখল করেন। ওই সময় এ সংক্রান্ত সহিংসতায় ২৮ জন নিহত হয়।
এদিকে গণতন্ত্র পুনঃপ্রবর্তনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের পক্ষ থেকে আবেদন জানানো সত্ত্বেও জান্তা সরকার ২০১৫ সালের অক্টোবরের আগে নতুন নির্বাচন অনুষ্ঠানের বিষয়টি নাকচ করে দিয়েছে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য