নীলফামারীর ডিমলায় নির্বাহী কর্মকর্তার পদ খালি থাকার সুযোগে বিভিন্ন দাপ্তরিক কর্মকর্তাদের চলছে অফিস ফাঁকির প্রতিযোগিতায়। উপজেলার বেশকিছু গুরুত্বপূর্ন দাপ্তরিক কর্মকর্তার দির্ঘদিন যাবত পদশুন্য থাকায় অতিরিক্ত দায়িত্ব পালনের নির্দেশ ও সে অনুযায়ী কর্মবন্ঠন থাকলেও ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাগন তাদের দায়িত্ব পালন করে আসছেন নিজ খেয়াল খুশি অনুযায়ী। মাসের বেশিরভাগ সময় অনুইপস্থিত থেকে হাজিরা খাতায় পুরো মাসের স্বাক্ষর করেন যে কোন একদিন। আর দাপ্তরিক কর্মকান্ড নিয়ন্ত্রন করেন মুঠোফোনের মাধ্যমে বাড়িতে বসে থেকে। মাস শেষ হতেই সরকারী বেতন উত্তোলনে অবশ্য কোন অনিয়ম করছেন না সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

নিয়ম মাফিক তাদের কর্মস্থলে অনুপস্থিত থেকেও বেতন ভাতা উত্তোলন করে যাচ্ছেন নিয়মিত। উপজেলার জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী, সমাজসেবা, সমবায়, মহিলা বিষয়ক, কৃষি, আনছার ভিডিপি, ভূমিসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ন দাপ্তরিক কর্মকর্তার পদ খালি থাকায় বছরের পর বছর এইসব দপ্তর পরিচালনা করা হচ্ছে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা দিয়ে। আর ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাগণ নিজ খেয়ালখুশি অনুযায়ী তাদের দাপ্তরিক কর্মকান্ড পরিচালনা করে আসছেন। গত ৬ জুলাই ২০১৪ইং ডিমলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ডিমলা হতে অন্যত্র বদলি হওয়ার কারনে ওই দিনেই এ উপজেলায় অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে পাশ্ববর্তি ডোমার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে।

বর্তমানে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হিসেবে তিনি ডিমলা উপজেলার অতিরিক্ত দায়িত্বে রয়েছেন। আর সেই সুযোগে অভিভাবকহীন ভাবে চলছে বেশকিছু দপ্তরের দাপ্তরিক কর্মকান্ড। ব্যাহত হচ্ছে সরকারী কর্মকান্ড প্রতিনিয়ত হয়রানীর শিকার হচ্ছে উপজেলার সাধারন জনসাধারন। তারা সামান্য একটু কাজ অথবা শংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তার স্বাক্ষর অথবা সিদ্ধান্তের জন্য ধর্না দিচ্ছে দিনের পর দিন। দপ্তর যথারিতী খোলা থাকলেও কর্মকর্তারা থাকছেন না স্ব-স্ব দপ্তরে। আর সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে কর্মচারীরাও অফিস খুলে দিয়ে সরকারী কর্ম ফাঁকি দিয়ে সময় কাটাচ্ছেন ব্যক্তিগত কাজে। যেন দেখার কেউ নেই।

এ ব্যাপারে ডিমলা উপজেলার অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা ডোমার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শফিউল রহমান বলেন, দু উপজেলার দায়িত্ব পালন করা আসলে কষ্টকর তবুও যথাস্বাধ্য চেষ্টা করছি বিভিন্ন দাপ্তরিক কর্মকর্তাগনের অফিস ফাঁকি দেয়ার বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। এ বিষয়ে নীলফামারী জেলা প্রশাসক মোঃ জাকির হোসেন বলেন, ডিমলা উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তার বিষয়ে শংশ্লিষ্ট মনত্রনালয়ে যোগাযোগ করা হয়েছে আশা রাখি আগামী সপ্তাহের মধ্যেই এ সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। তিনি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাদের অনুপস্থিত থেকে সরকারী কাজে ফাঁকি দেওয়ার বিষয়টি তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজীয় ব্যবস্থা করবেন বলে জানান।

স্থানীয় সংসদ সদস্য মুক্তিযোদ্ধা আফতাব উদ্দিন সরকার বলেন, ডিমলায় উপজেলা র্বিাহী কর্মকর্তার বিষয়ে ঢাকায় যোগাযোগ করা হয়েছে আশা রাখি ক’দিনের মধ্যেই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা যোগদান করবেন। তিনি সরকারী কর্মকর্তাদের অফিস ফাঁকির বিষয়ে জেলা প্রশাসক কে বলে ব্যবস্থা গ্রহন করার আশ্বাস প্রদান করেন।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য