gass_crices_dhaka_bengaline_33919রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় গ্যাসের সংকট আরো তীব্র আকার ধারণ করেছে। বেশ কিছু দিন ধরে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় গ্যাসের সংকট চললেও গত কয়েক দিন ধরে তা অসহনীয় মাত্রায় পৌঁছে গেছে। কোথাও সকালেই গ্যাস উধাও; কোথাও সরবরাহ স্বাভাবিক হতে হতে দুপুর গড়িয়ে বিকেল; কোথাও বা রাত।

রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে ও এলাকার বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মন্ত্রীপাড়া ও দু’একটি অভিজাত এলাকা ছাড়া অন্যান্য এলাকার দৃশ্য একই রকম। রাজধানী এলাকার গৃহবধূ নাসিমা জানান, রাত জেগে রান্না করি আর দিনের বেলায় ছেলে-মেয়েদের স্কুলে আনা-নেয়াসহ সংসারের অন্য কাজ সামলাতে গিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েছি। গোলাপবাগ এলাকার রুবি আকতার জানান, চাকরি করি। তাই রাত জেগে রান্না করা সম্ভব হয় না। চিড়া-মুড়িসহ শুকনা খাবার কিংবা হোটেলের খাবারই এখন একমাত্র ভরসা।

সিএনজি স্টেশনসহ অন্যান্য শিল্প-কারখানাতেও গ্যাসের সংকট অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে এখন বেশি। শিল্প মালিকদের দাবি, আমাদের দেশের বেশিরভাগ শিল্প-কারখানাই গ্যাসভিত্তিক। এমনিতেই সরকার শিল্প-কারখানাগুলোতে নতুন গ্যাস সংযোগ বন্ধ রেখেছে। তারপর এখন দিনের বেলায় পুরনো কারখানাগুলোতে চাহিদা অনুযায়ী গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না। কোথাও কোথাও পাওয়া গেলেও সেখানে প্রেসার থাকে না। ফলে শিল্প উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। মালিকরা জানান, গ্যাস সংকটের কারণে আমাদের চলমান শিল্প উৎপাদন ইতোমধ্যেই তিন ভাগের একভাগ কমে গেছে।

শীতকালে তিতাস গ্যাস কোম্পানির এলাকায় প্রতিদিন প্রায় ১৯৫ কোটি ঘনফুট চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ করা হয় ১৫০ কোটি ঘনফুট গ্যাস। এছাড়া ঠাণ্ডায় পাইপলাইনে গ্যাসের উপজাত জমে যায়, এতে বাঁধা পায় গ্যাস সরবরাহ। তবে এই ঘাটতি আর সরবরাহে বাঁধার চেয়েও অবৈধ সংযোগকে সবচেয়ে বড় সমস্যা বলে জানান পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান অধ্যাপক হোসেন মনসুর।

তিনি বলেন, শীতে গ্যাসের চাহিদা বাড়ার পাশাপাশি সঞ্চালন ও বিতরণ লাইনে গ্যাসের উপজাত কনডেনসেট জমে। সঞ্চালন লাইন পরিষ্কার করা গেলেও আমাদের সরবরাহ লাইন পরিষ্কার করা সম্ভব হয় না। এ  পাইপলাইন পরিষ্কার করারও কোনো ব্যবস্থা নেই। পাইপলাইন পরিষ্কার করা গেলে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হতো।

 তিনি জানান, সবচেয়ে বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে অবৈধ সংযোগগুলো। সরবরাহ পাইপলাইন বসানোর সময় এলাকার একটি হিসাব অনুযায়ী পাইপ বসানো হয়েছে। কিন্তু অবৈধ যত্রতত্র অবৈধ সংযোগের কারণে সরবরাহ লাইন ভারসাম্যহীন হয়ে পড়েছে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য