তারেকের পিএস অপুর জামিন নামঞ্জুরবিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পিএস মিয়া নুরুদ্দীন অপুর জামিন নামঞ্জুর করেছেন আদালত। গতকাল সোমবার মহানগর বিশেষ জজ-৩ এর বিচারক বাসু দেব রায়ের আদালতে জামিন আবেদন করলে তা নামঞ্জুর করা হয়। এর আগে মিয়া নুরুদ্দীন অপুকে আদালতে হাজির করা হলে তার পক্ষে জামিন আবেদন করেন এডভোকেট মাসুদ আহমেদ তালুকদার। অন্য দিকে এ জামিনের বিরোধিতা করেন দুদকের আইনজীবী এডভোকেট মোশারফ হোসেন কাজল। পরে আদালত শুনানি শেষে জামিন নামঞ্জুর করেন।
এর আগে দেশে ফিরে দুর্নীতি দমন কমিশনের একটি মামলায় ১৮ জুন আত্মস¤র্পণ করে অপু।
আদালতের নথিপত্র থেকে জানা যায়, ২০০৭ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে করা দুটি মামলার অভিযোগপত্রভুক্ত আসামি অপু। এর মধ্যে চাঁদাবাজির অভিযোগে একটি মামলা হয়েছে রাজধানীর গুলশান থানায়। অপর মামলাটি হয়েছে বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহানের ছেলেকে সাব্বির হত্যা মামলা থেকে বাঁচাতে ঘুষ-লেনদেনের অভিযোগে, যেটি তদন্ত করেছে দুদক। দুটি মামলায়ই তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ছিল।
বসুন্ধরার আইটি বিশেষজ্ঞ সাব্বির হত্যা মামলার আসামিদের বিদেশ পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দিতে ২১ কোটি টাকা ঘুষ লেনদেনের অভিযোগে মামলাটি করা হয়। মামলার অন্য আসামিরা হলেন- সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, বসুন্ধরার চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহান শাহ আলম, তার দুই ছেলে সাফিয়াত সোবহান, সাদাত সোবহান, খালেদা জিয়ার বড় ছেলে তারেক রহমান, আবু সফিয়ান, ও কাজী সলিমূল হক কামাল।
গত ১৮ জুন অপু গোপনে দেশে ফিরে ঢাকার মহানগর ২ নম্বর দ্রুত বিচার আদালতে আত্মস¤র্পণ করলে জামিন আবেদন নাকচ করে তাকে জেলহাজতে পাঠান ওই আদালতের বিচারক মোহাম্মদ আতাউল হক। পর দিন অপুর আইনজীবী দুদকের এ মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদনের সঙ্গে জামিনের আবেদনও করেন। আদালত গ্রেপ্তারের আবেদন মঞ্জুর করে জামিনের শুনানির জন্য ২৬ জুন দিন রাখে।
মামলার নথি থেকে জানা গেছে, অপুর আইনজীবী হিসেবে চারজনের নাম রয়েছে। তারা হলেন নুরে আলম (নবেল), তারেকুল ইসলাম, খান মোহাম্মদ মঈনুল হাসান ও শামসুল কবির। অপুর দেয়া ওকালতনামায় সই করেছেন নুরে আলম। ২৬ জুন দুদকের আইনজীবী এডভোকেট মোশাররফ হোসেন কাজল জামিন বিষয়ে শুনানির জন্য প্রস্তুত নন উল্লেখ করে সময়ের আবেদন করলে আদালত পরবর্তী তারিখ রাখেন ১৪ জুলাই। বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকারের আমলে বিতর্কিত হাওয়া ভবনের অন্যতম ক্ষমতাধর ব্যক্তি ছিলেন এই অপু। ২০০৭ সালে ক্ষমতার পালাবদলের সময় নিরুদ্দেশ হয়ে যাওয়া অপু মালয়েশিয়ায় ছিলেন।
গত ১২ জুন তারেক রহমানের মালয়েশিয়া সফরের সময় অপুই তাকে কুয়ালালামপুর বিমানবন্দরে অভ্যর্থনা জানান। ১৩ জুন তারেক রহমান মালয়েশিয়া থেকে ফিরে যান লন্ডনে এবং ১৭ জুন ঢাকায় আসেন অপু। আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন আইনজীবী কাছে দাবি করেছেন, আওয়ামী আইনজীবীদের একটি অংশের সঙ্গে গোপন সমঝোতার মাধ্যমে অপু সিএমএম আদালতে আত্মস¤র্পণ করেছিলেন। কিন্তু পরে বিষয়টি সরকারের উচ্চ পর্যায়ে জানাজানি হয়ে গেলে সমঝোতার মাধ্যমে জামিনের পরিকল্পনা ভেস্তে যায়।
অপু কীভাবে সরকারের বিভিন্ন সংস্থা ও মিডিয়ার চোখ ফাঁকি দিয়ে একেবারে আদালতে এসে আত্মস¤র্পণ করলেন সে বিষয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন তারা। ঢাকা বারের সাবেক সভাপতি ও আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক আইন বিষয়ক সম্পাদক আবু সাঈদ সাগর বলেন, অপুকে বিমানবন্দরেই গ্রেপ্তার করা উচিত ছিল। এটা না করার নিশ্চয়ই গোপন কোনো কারণ রয়েছে। প্রায় এক মাস আগে অপু গোপনে দেশে ফিরে আদালতে আত্মস¤র্পণ করলেও বিষয়টি অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে চেপে রাখা হয়, বলেন এই আইনজীবী।

 

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য