সাহাব উদ্দিন মন্ডল একাত্তরের পাক-হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধে সরাসরি অংশ গ্রহনকারীদের মধ্যে একজন। ভারত সহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় যুদ্ধের প্রশিক্ষন নিয়ে ৭নং সেক্টরের আওতায় যুদ্ধ করেন তিনি। সাহাব উদ্দিন মন্ডল প্রশিক্ষন শেষে ৭নং সেক্টরের আঞ্চলিক কমান্ডার আবুল মজিদ এর অধীনে পাকহানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে সরাসরি যুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়েন। তার এফএফ নং ৮০২৯, কল্যান ট্রাষ্ট নং ৩৯৫৩, স্বাধীনতা সনদ নং ১২৪০২৭। অন্য সঙ্গীদের মধ্যে ছিলেন আকবর আলী, আবুল মোক্তার, সাইদুজ্জামান সহ আরো অনেকে। এতো কিছু থাকার পর ও সাহাব উদ্দিন এর পরিবার বিভিন্ন অফিসের দ্বারে দ্বারে ঘুরছে তাদের সন্তানেরা বাবার মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতির জন্য। তার বড় মেয়ে জানায় আমার বাবা মারা গেছে এই স্বীকৃতির মাধ্যমেই তার আত্মার শান্তি মিলবে এবং আমরা গর্ববোধ করবো মুক্তিযোদ্ধার সন্তান হিসেবে।  মুক্তিযোদ্ধা সাহাব উদ্দিন ১৯৫২ সালে বগুড়া জেলার সোনাতলা উপজেলার আচারেরপাড়া গ্রামে জন্ম গ্রহন করেন। পুলিশ বাহিনীতে চাকুরি করার সুবাদে দেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৮৩ সালে রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার বালাপাড়া ইউনিয়ানের সাহাবাজ গ্রামে পরিবার পরিজন নিয়ে স্থায়ী ভাবে বসবাস শুরু করেন। ৬ সেপ্টেম্বর ১৯৯৯ সালে সাহাব উদ্দিন ইন্তেকাল করলে। তার মৃত্যুর পর পরিবারের খোজ আর কেউ রাখেনি । হালিমার সংসারের আয় বলতে প্রতি মাসে স্বামীর পেনশনের যে কটা টাকা পায় তাই দিয়ে দুই মেয়ের পড়া লেখার খরচ সহ সংসার চালায় অতি কষ্টে। সাহাব উদ্দিনের সহ-ধর্মিনী হালিমা বেগম দুঃখ করে বলেন, সব ধরনের প্রমান সহ বিভিন্ন সময় সরকারের মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক অধিদপ্তরে আবেদন করেও স্বীকৃতি না পাওয়ায় তার ছেলে মেয়েরা মুক্তিযোদ্ধার গর্বিত সন্তান হিসেবে পরিচয় দিতে পাচ্ছে না । তিনি আরো বলেন যুদ্ধের সময় এবং পরবর্তীতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান বাংলাদেশের মানুষকে সুখী দেখতে চেয়েছিলেন, তিনি মুক্তিযোদ্ধাদের মূল্যায়ন করেছিলেন। তার বিশ্বাস বর্তমান সরকার প্রধান বঙ্গবন্ধুর কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা মুক্তিযোদ্ধাদের মূল্যায়ন করবে এবং আমার স্বামীকে মুক্তিযোদ্ধর স্বীকুতি দিবে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য