স্পষ্ট বাদী
কিছু দিন আগে দেশের ব্যবসায়ীদের এক শীর্ষ সংগঠনের পক্ষ থেকে ব্যাংক ঋণের সুদের হার কমানোর প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের জন্য অর্থমন্ত্রীর নিকট অনুরোধ জানানো হলে অর্থমন্ত্রী তাদের দাবির বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার আশ্বাস দেন। ব্যাংক ঋণের সুদের হার কমানোর দাবি এবারই যে প্রথম উত্থাপিত হলো তা নয়। এর আগেও একাধিকবার ব্যাংক ঋণের বিদ্যমান সুদের হার কমানোর জন্য ব্যবসায়ী-উদ্যোক্তারা দাবি তুলেছেন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এই দাবি বিবেচনার আশ্বাস দিয়েছেন একাধিকবার। সাবেক দুই অর্থমন্ত্রী পরলোকগত এম.সাইফুর রহমান এবং এসএএমএস কিবরিয়া তাদের মেয়াদকালে একাধিকবার ব্যাংক ঋণের সুদের হার কমানোর জন্য ব্যাংক মালিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। তারা ব্যাংকারদের ঋণের সুদের হার কমানোর পরামর্শ দিলেও সেই পরামর্শ উপেক্ষিত হয়েছে। দেশের অর্থমন্ত্রী,যিনি ব্যাংক তো বটেই দেশের অর্থনীতির নিয়ন্ত্রক,তার আহ্বান বা পরামর্শ ব্যাংক মালিকগণ উপেক্ষা করছেন এটা কোনো সাধারণ কথা নয়। এটা কিছুটা হলেও বিস্ময়কর ঘটনা। যদি সম্ভব হতো ব্যাংক মালিকগণ নিশ্চয়ই অর্থমন্ত্রীর আহ্বানে সাড়া দিতেন। কারণ অর্থমন্ত্রীর পরামর্শ বা আহ্বান এক ধরনের নির্দেশের মতোই। কিন্তু একাধিক অর্থমন্ত্রী পরামর্শ দিলেও ব্যাংক মালিকগণ ঋণের উপর আরোপিত সুদের হার কমানোর মতো কোনো কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করেন নি। ব্যবসায়ি-উদ্যোক্তা হতে শুরু করে ব্যাংক মালিক সবাই এক বাক্যে স্বীকার করবেন যে,আমাদের দেশের ব্যাংকিং সেক্টরে ঋণের উপর যে সুদ আরোপ করা হয় তা অত্যন্ত উচ্চ মাত্রার এবং এটা যেকোনো ভাবেই হোক কমানো প্রয়োজন। তারা মনে করছেন, ব্যাংক ঋণের উচ্চ সুদের কারণে আমাদের দেশে বিনিয়োগ কার্যক্রম বিঘিœত হচ্ছে। কাজেই বিনিয়োগের ক্ষেত্রে স্বাভাবিক গতি ফিরিয়ে আনতে হবে আমাদের ব্যাংক ঋণের সুদের হার যে কোনো মূল্যেই হোক কমাতে হবে। ব্যাংক ঋণের সুদের হার অত্যধিক বেশি হবার কারণে বিভিন্ন পণ্যের উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি পায়। ফলে স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত পণ্য সামগ্রি আমদানিকৃত পণ্যের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় মার খাচ্ছে। এটা স্থানীয় বাজারে যেমন ঘটছে তেমনি রপ্তানির ক্ষেত্রেও বিষয়টি একইভাবে প্রযোজ্য। উৎপাদন খরচ বেশি হবার কারণে বাংলাদেশে তৈরি বিভিন্ন পণ্য আন্তর্জাতিক বাজারে সেভাবে স্থান করে নিতে পারছে না। এতে উৎপাদন ও রপ্তানিকারকগণ ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন। এ অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য যে কোনো মূল্যেই হোক আমাদের সুদের হার কমাতে হবে। ব্যাংক ঋণের সুদের হার কমানোর ব্যাপারে সরকারের আন্তরিকতার কোনোই অভাব নেই। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে ব্যাংক ঋণের সুদের হার এখনো অনেক বেশি।
আমরা যদি বিশ্লেষণ করি তাহলে দেখবো, সার্ক দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের ব্যাংকিং সেক্টরে সুদের সবচেয়ে বেশ। এমনকি বিশ্বে খুব কম দেশেই আছে যাদের ব্যাংকিং সেক্টরে ঋণের উপর এত উচ্চ হারে সুদারোপ করা হয়। এমন অনেক দেশ আছে যাদের ঋণের সুদের হার ২/৩ শতাংশ। আমাদের দেশে ব্যাংক রেট বর্তমানে ৫ শতাংশ। অর্থাৎ বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ঋণ গ্রহণের ক্ষেত্রে সিডিউল ব্যাংকগুলো ৫ শতাংশ হারে সুদ প্রদান করে। কিন্তু সেই ঋণের অর্থ উদ্যোক্তাদের নিকট বিনিয়োগের সময় ১৪/১৫ শতাংশ সুদারোপ করা হয়। এটা কোনোভাবেই স্বাভাবিক অবস্থা হিসেবে আখ্যায়িত করা যাবে না। দেশের অধিকাংশ ব্যাংকের আমানত এবং ঋণের মধ্যে স্পেড ৫ শতাংশের বেশি। অর্থাৎ ব্যাংকগুলো বাংলাদেশ ব্যাংক অথবা সাধারণ আমানতকারিদের নিকট থেকে যে সুদ প্রদানের শর্তে পুঁজি বা আমানত সংগ্রহ করে উদ্যোক্তাদের নিকট সেই অর্থ বিনিয়োগকালে ৫ শতাংশের বেশি লাভ বা মার্জিন রাখে। স্বাভাবিকভাবে এই স্পেড মার্জিন ২/৩ শতাংশের বেশি হওয়া উচিৎ নয়। এখন অর্থজগত হলো, স্থানীয় ব্যাংকগুলো এত উচ্চ হারে সুদারোপ করছে কেনো? তারা কি অতিরিক্ত লাভের আশায় এটা করছে নাকি বাধ্য হয়ে উচ্চ হারে সুদারোপ করছে?এখানে একটি বিষয় আমাদের মনে রাখতে হবে তাহলো, আগে বাংলাদেশ ব্যাংক উদ্যোগী হয়ে সুদের হার নির্ধারণ করে দিতো। অর্থাৎ স্থানীয় ব্যাংকগুলো আমানতকারিকে কত সুদ প্রদান করবে এবং উদ্যোক্তাদের নিকট পুঁজি বিনিয়োগকালে কত শতাংশ হারে সুদ আদায় করবে তা বাংলাদেশ ব্যাংক ঠিক করে দিতো। এতে ব্যাংকগুলো সুদের হার নির্ধারণের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের স্বেচ্ছাচারিতার পরিচয় দিতে পারতো না। তারা বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা মেনে চলতে বাধ্য থাকতো। কিন্তু মুক্তবাজার অর্থনীতি চালু হবার পর থেকে বাংলাদেশ ব্যাংক নিজে উদ্যোগী হয়ে সুদের হার নির্ধারণ করে দিচ্ছে না। এখন বাজার চাহিদার ভিত্তিতে সুদের হার নির্ধারিত হচ্ছে। বাজার চাহিদার ভিত্তিতে ব্যাংক ঋণের সুদের হার নির্ধারিত হলে বর্তমান পরিস্থিতিতে ব্যাংক ঋণের সুদের হার সবচেয়ে কম হবার কথা। কারণ ব্যাংকিং সেক্টরে বর্তমানে কোনো তারল্য সঙ্কট নেই। বরং প্রায় ১ লাখ কোটি টাকার মতো উদ্বৃত্ত তারল্য রয়েছে ব্যাংকিং সেক্টরে। এ অবস্থায় ব্যাংক ঋণের সুদের হার সর্বনি¤œ পর্যায়ে থাকা উচিৎ ছিল। কিন্তু কার্যত আমরা সে অবস্থা প্রত্যক্ষ করছি না। এর মূলে রয়েছে বেসরকারি ব্যাংক মালিকদের অলিখিত সিন্ডিকেট। বেসরকারি ব্যাংক মালিকদের একটি সিন্ডিকেট নেপথ্যে থেকে ব্যাংক ঋণের সুদের হার নিয়ন্ত্রণ করছে। ফলে বাজার এখানে তার স্বাভাবিক গতিতে চলতে পারছে না। যেসব কারণে আমাদের দেশের ব্যাংকিং সেক্টরে সুদের হার হ্রাস পাচ্ছে না তার মধ্যে মালিকদের এই অলিখিত সিেিন্ডকেট অন্যতম। এছাড়াও আরো কিছু কারণ রয়েছে ব্যাংক ঋণের সুদের কমতে না দেয়ার জন্য দায়ি। দ্বিতীয়ত, ব্যাংকিং সেক্টরে দীর্ঘ দিন ধরে পুঞ্জিভূত হয়ে থাকা খেলাপি ঋণ আদায়ের ক্ষেত্রে আমাদের রয়েছে সীমাহীন ব্যর্থতা। সামান্য সংখক উদ্যোক্তার নিকট বিপুল পরিমাণ খেলাপি ঋণ দীর্ঘ দিন ধরে পড়ে রয়েছে। কোনোভাবেই এই ঋণের অর্থ আদায় করা যাচ্ছে না। কয়েক মাস আগের পরিসংখ্যানে উল্লেখ করা হয়েছিল যে, ব্যাংকিং সেক্টরে খেলাপি ঋণের পরিমাণ হচ্ছে ৫৪ হাজার কোটি টাকা। এই ৫৪ হাজার কোটি টাকা হচ্ছে দৃশ্যমান খেলাপি ঋণ। এর সঙ্গে অবলোপনকৃত প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকা যোগ করলে মোট খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়াবে ৮৪ হাজার কোটি টাকার মতো। অনেকেই মনে করেন, কোনো ঋণ হিসাব অবলোপন করার অর্থই হচ্ছে সেই ঋণ মওকুফ করে দেয়া বা দাবি ত্যাগ করা। কিন্তু ঋণ হিসাব অবলোপন করা আর ঋণ মওকুফ করে দেয়া কখনোই এক বিষয় নয়। কোনো ঋণ হিসাব খেলাপি হিসেবে চিহ্নিত হবার পর তা যদি মন্দ ঋণ বা লোকসানে পরিণত হয় এবং ঋণ আদায়ের সব চেষ্টা ব্যর্থ হলে উদ্যোক্তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করার পর সেই ঋণ হিসাব অবলোপন করা হয়। কোনোভাবেই এই ঋণের অর্থ মওকুফ বা দাবি ত্যাগ করা হয় না। শুধু পাওনা অর্থ আলাদা লেজারে সংরক্ষণ করা হয় কিন্তু মূল লেজারে এই ঋণকে প্রদর্শন করা হয় না। অবস্থাটা অনেকটা এমন যে, কোনো এক ব্যক্তির তিন ছেলে। এর মধ্যে একজন প্রতিবন্ধি। বাইরে থেকে কোনো আত্মীয়-স্বজন বেড়াতে এলে শারিরিকভাবে ভালো এবং স্বাভাবিক ছেলে দু’টিকে তাদের সামনে এনে পরিচয় করিয়ে দেয়া হয়। কিন্তু শারিরিক প্রতিবন্ধি ছেলেটিকে ঘরের মাঝে আড়াল করে রাখা হয়। অতিথিদের সামনে না আনলেও যেমন প্রতিবন্ধি ছেলেটি অস্তিত্ববিহীন হয়ে যায় না। তেমনি অবলোপনকৃত ঋণ ব্যাংকের মূল লেজারে না দেখালেও তা অস্তিত্ববিহীন হয়ে যায় না। সহিংস রাজনৈতিক আন্দোলনের কারণে যেসব ব্যবসায়ি-উদ্যোক্তা ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছেন তাদের কিছুটা সুবিধা প্রদানের লক্ষ্যে বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রয়োজনীয় ডাউন পেমেন্ট ছাড়াই ঋণ হিসাব পুন:তফসিলিকরণের সুযোগ দেন। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে অনেকেই তাদের ঋণ হিসাব পুন:তফসিলিকরণ করে নিয়েছে। কিছু দিন আগে পত্রিকায় এ মর্মে খবর প্রকাশিত হয় যে, খেলাপি ঋণের পরিমাণ সাড়ে ১৬ হাজার কোটি টাকা কমেছে। এটা মূলত পুন:তফসিলিকরণের কারণেই হয়েছে। আবার কিছু দিন আগে অন্য এক খবরে জানা গেছে, ব্যাংকিং সেক্টরে খেলাপি ঋণের পরিমাণ সাড়ে ৭ হাজার কোটি টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। ঋণ হিসাব পুন:তফসিলিকরণের যে সুযোগ দেয়া হয় তা জুন, ২০১৪ পর্যন্ত বজায় থাকবে। এই সময় অতিক্রান্ত হলে ঋণ হিসাব পুন:তফসিলিকরণকারিদের সবাই তাদের ঋণের কিস্তি ফেরৎ দিতে শুরু করবে এটা ভাবার কোনোই কারণ নেই। বরং ঋণ হিসাব পুন:তফসিলিকরণ করার পর অনেকেই বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে নতুন করে ঋণ গ্রহণ করেছেন। ঋণ হিসাব পুন:তফসিলিকরণের মেয়াদ শেষ হবার পর দেশের ব্যাংকিং সেক্টরের অবস্থা আরো খারাপ হয়ে যাবে এটা নিশ্চিত ভাবেই বলা যেতে পারে। কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে খেলাপি ঋণ আদায় কার্যক্রম জোরদার করে খেলাপি ঋণের পরিমাণ যৌক্তিক পর্যায়ে নামিয়ে আনা না গেলে ব্যাংক ঋণের সুদের হারভাবেই কমানো যাবে না। খেলাপি ঋণের কারণে ব্যাংকগুলোকে বিপুল অঙ্কের অর্থ প্রভিশন রাখতে হচ্ছে। এতে ব্যাংকের ঋণদান ক্ষমতা কমে যাচ্ছে। খেলাপি ঋণ আদায় করা গেলে আমানতের উপর প্রদেয় সুদের হারও যৌক্তিক পর্যায়ে নেমে আসবে। আমাদের দেশের ব্যাংকিং ব্যবস্থায় আচরিত কিছু নীতিমালাও খেলাপি ঋণ বৃদ্ধির জন্য অনেকাংশে দায়ি বলে মনে করা হয়। যেমন, একজন নিয়মিত ঋণ পরিশোধকারি এবং ঋণ খেলাপির প্রতি ব্যাংকের আচরণ কোনোভাবেই একই রকম হওয়া উচিৎ নয়। কিন্তু আমাদের এখানে বরং নিয়মিত ঋণ পরিশোধকারির চেয়ে ঋণ খেলাপির প্রতি ব্যাংকের আচরণ অধিকতর নমনীয়। একজন ঋণ গ্রহীতা নিয়মিত ঋণ পরিশোধ করলে তাকে তেমন কোনো আর্থিক সুবিধা প্রদান করা হয় না। কিন্তু বছরের পর বছর যিনি ঋণের কিস্তি আটকে রাখছেন ব্যাংক থেকে তাকে নানা ধরনের মওকুফ সুবিধা প্রদান করা হয়। তাদের দন্ড সুদের শতভাগ এবং সাধারণ সুদের সিংহভাগ মওকুফ করে দেয়া হয়। নিয়মিত ঋণ পরিশোধকারি যখন দেখতে পান যে, একজন ঋণ খেলাপি বছরের পর বছর ব্যাংকের টাকা আটকে রেখে এক সময় কোটি কোটি টাকা সুদ মওকুফ সুবিধা পাচ্ছেন অথচ তিনি নিয়মিত ঋণ পরিশোধ করে কোনো আর্থিক সুবিধা পাচ্ছেন না তখন নিয়মিত ঋণ পরিশোধকারির মাঝে হতাশা নেমে আসতে বাধ্য। এক সময় তিনিও ঋণ খেলাপি হতে উদ্বুদ্ধ হতে পারেন। অথচ অবস্থাটা উল্টো হওয়াই ছিল বাঞ্ছনীয়। ঋণ খেলাপির প্রতি ব্যাংকের আচরণ অধিতকতর কঠোর হতে পারতো। একটা নির্দিষ্ট সময় অতিক্রান্ত হবার পর ঋণ খেলাপির বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি যিনি নিয়মিত ঋণ পরিশোধ করেন তাকে নানা ধরনের আর্থিক সুবিধা প্রদান করা যেতো। কয়েক বছরের ঋণ পরিশোধ রেকর্ড বিশ্লেষণ করার পর যদি উদ্যোক্তাকে ভালো বলে মনে হয় তাহলে তাকে তুলনামূলক স্বল্প সুদে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ঋণ দান করা যেতো। এ ছাড়া নিয়মিত ঋণ পরিশোধকারির জন্য জামানত প্রদানের শর্ত শিথিল করা যেতে পারে। এ ছাড়া ঋণ হিসাব পুন:তফসিলিকরণের সুবিধা কোনোভাবেই দু’বারের বেশি হওয়া উচিৎ নয়। কারণ দু’বার ঋণ হিসাব পুন:তফসিলিকরণের পরও যিনি ঋণের কিস্তি ফেরৎ দিতে ব্যর্থ হবেন তাকে তৃতীয় বার এই সুবিধা দেবার কোনোই মানে থাকতে পারে না। বাংলাদেশে ব্যবসায়রত বিদেশি কোম্পানিগুলোকে স্থানীয় ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ গ্রহণের অনুমতি প্রদান করা হয়েছে। কিন্তু আমাদের মনে রাখতে হবে বিদেশি কোম্পানি বা উদ্যোক্তারা এত উচ্চ সুদে স্থানীয় ব্যাংক থেকে ঋণ গ্রহণে আগ্রহী হবে না। বর্তমানে দেশে বেসরকারি খাতে বিনিয়োগের পরিমাণ ব্যাপকভাবে কমে গেছে। এ জন্য নানা কারণ দায়ি হতে পারে। তবে ব্যাংক ঋণের উচ্চ সুদহার এ ক্ষেত্রে কিছুটা হলেও প্রভাবক হিসেবে কাজ করছে। কারণ এত উচ্চ সুদে ঋণ নিয়ে কোনো পণ্য উৎপাদন করলে সেই পণ্যেও উৎপাদন ব্যয় পড়বে অনেক বেশি। ফলে সেই পণ্য বাজারে সম জাতীয় অন্যান্য পণ্যের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে পারবে না। বিশেষ করে পণ্যটি যদি আমদানিকৃত পণ্য হয় তাহলে তো কথাই নেই। বিনিয়োগ পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে হলে অবশ্যই ব্যাংক ঋণের বিদ্যমান হার কমাতে হবে। এ ছাড়া ব্যাংক ঋণের সুদের হার কত হবে তা বাজারকেই নির্ধারণ করতে দিতে হবে। পর্বত প্রমাণ খেলাপি ঋণ আদায় করতে হবে। খেলাপি ঋণের পরিমাণ যৌক্তিক পর্যায়ে নামিয়ে আনতে হবে। তাহলেই শুধু ব্যাংক ঋণের সুদের হার কিছুটা কমতে পারে। অন্যথায় হাজার চেষ্ট করেও কোনো লাভ হবে না। শুধু কারো মুখের কথায় ব্যাংক ঋণের সুদের হার কমবে না।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য