আমশাহ্ আলম শাহী,দিনাজপুর থেকেঃ ধানের জেলা দিনাজপুরে বানিজ্যিকভাবে আম চাষ শুরু হওয়ায় ব্যবসায়ীরা অধিক লাভের আশায় অসৎ পথে ঝুকে পড়েছেন। আম ব্যবসায়ী ও বাগান মালিকরা আমের ফলন বৃদ্ধিতে বাগানেতেই ব্যবহার করছেন বিভিন্ন কীটনাশক.ফরমালিনসহ প্রাণঘাতি নানান বিষাক্ত পদার্থ। আর এসব বিষাক্ত পদার্থ মিশ্রিত আম খেয়ে মানব দেনে নানান জটিল রোগ সৃষ্টি সহ মৃত্যুর মুখে ঝুকে পড়ছে মানুষ। চিকিৎসক বিশেষজ্ঞরা ছাড়াও এ কথা স্বীকার করেছেন জেলা প্রশাসন।

গাছে গাছে থোকা থোকা ঝুলছে আম। আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় দিনাজপুরে চলতি মৌসুমে আমের বাম্পার ফলন হয়েছে। ধানের জেলা দিনাজপুরে বানিজ্যিকভাবে আম চাষ হচ্ছে। এ বছর জেলায় ২ হাজার ১৯৬ হেক্টর বাগান ও ৯৪৪ হেক্টর বসতবাড়ী মিলে মোট ৩ হাজার ৩ হাজার ১৪০ হেক্টর জমিতে আম চাষ হয়েছে।

দিনাজপুরে প্রায় ২০/২৫ প্রজাতির আমচাষ হয়। এর মধ্যে ফজলি, গোপালভোগ,মিশ্রিভোগ,সূর্যাপুরী, ল্যাংড়া, আ¤্রপালি, আশ্বিনা, কালাপাহাড়ী, গুটি, মিষ্টিমধু, মধুচুষি, খিরশাপাতি উল্লেখযোগ্য। সদর, বিরল, কাহারোল , চিরিরবন্দর  বোচাগঞ্জ, বীরগঞ্জ ,পার্বতীপুর এলাকার বাগানগুলোতে এবার আম হয়েছে বেশী।

তবে নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেটের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমান আদাল আম বাগানে অভিযান চালিয়ে এর গোমড় ফাস হয়ে পড়েছে। আম ব্যবসায়ী ও বাগান মালিকরা অধিক লাভের আশায় অসৎ পথে ঝুকে পড়েছেন। আমের ফলন বৃদ্ধিতে বাগানেতেই ব্যবহার করছেন বিভিন্ন কীটনাশক.ফরমালিনসহ প্রাণঘাতি নানান বিষাক্ত পদার্থ। বাগান মালিকরা বাগানে অন্যান্য ওষুধের চেয়ে পোকামাকড় দমনে বিষাক্ত কীটনাশক বেশী করে প্রয়োগ করে থাকেন।

বাজারে এসব দেখতে সুন্দর আম দেখে ক্রেতারা আকৃষ্ট হচ্ছেন। কিনছেন। কিন্তু আমে কি আছে তারা জানছেন না। ফল দোকানগুলোতে ফরমালিন ও বিষাক্ত পদার্থ মিশ্রিত মেশানো সুন্দর চেহারার আম জায়গা দখল করে নিয়েছে। তবে আমে ফরমালিন  কিংবা বিষাক্ত পদার্থ মিশ্রিত আছে কি না তা বলতে নারাজ ব্যবসায়ীরা।

আর এসব ফরমালিন  যুক্ত বা বিষাক্ত পদার্থ মিশ্রিত আম খেয়ে স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পড়েছে জনজীবন।মানব দেনে নানান জটিল রোগ সৃষ্টি সহ মৃত্যুর মুখে ঝুকে পড়ছে মানুষ।এমটাই জানালেন,দিনাজপুর জেলার ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডা.মারতুরা বেগম।

ফরমালিন মেশানোর বা বিষাক্ত পদার্থ মিশ্রিত আম বাজারজাত করণে প্রতিরোধ গড়তে কঠোর হস্তক্ষেপ দেয়ার কথা জানিয়েনে দিনাজপুর জেলা প্রশানক আহমদ শামীম আল রাজী।

বাগান থেকে বিষ মিশ্রিয় হয়ে বাজারে আসছে এসব আম। আর এসব আম খেয়ে মানব দেহে নানান জটিল রোগসহ মৃত্যুর মুখে ঝুঁকে পড়ছে মানুষ। তাই শুধু লোক দেখানো ভেজাল বিরোধী অভিযান নয়,এসব আমের সাথে বিষ মিশ্রিত অসাধূ ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে স্থানীয় প্রশাসন কঠোর হস্তক্ষেপ নিবেন-এমনটাই প্রত্যাশা সাধারণ মানুষের।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য