05_hand--দশ বছর আগে এক দুর্ঘটনায় হাত হারানো ডেনমার্কের ডেনিস আবো কৃত্রিম হাতটি লাগিয়েই বলে উঠলেন ‘অবিশ্বাস্য! এটা ম্যাজিক! যেন হারানো হাতকে অনুভব করছি!” ৩৬ বছর বয়সী আবো বিশ্বের প্রথম ব্যক্তি যার শরীরে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে পরীক্ষামূলকভাবে হাতটি লাগানো হয়েছে। চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা তার হাতের ওপরের বাহুর স্নায়ুকোষের সঙ্গে সংযোগ ঘটিয়ে দিয়েছেন কৃত্রিম হাতটির। চোখ বন্ধ থাকা অবস্থায় হাতে ধরে আবো বলতে পারছেন তিনি কোন আকারের জিনিস স্পর্শ করছেন। এটির নমনীয়তাও অনুভব করতে পারছেন তিনি।

ইতালি, সুইজারল্যান্ড ও জার্মানির একদল বিশেষজ্ঞ দীর্ঘ পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর এই সাফল্য দেখাতে পেরেছেন। রোমে আবোর শরীরে এই কৃত্রিম হাতটি লাগানো হয়েছে বলে বিবিসি জানিয়েছে। এই গবেষকদের একজন অধ্যাপক সিলভেস্ত্র মিসেরা বললেন, এটাই প্রথম গবেষণা, কোন ব্যক্তি কৃত্রিম হাতদিয়ে স্পর্শের অনুভূতি পাবেন। যন্ত্র ও সফটওয়্যারের মাধ্যমে অনুভূতি পৌঁছে যাবে ওই ব্যক্তির মস্তিষ্কে। মিসেরার গবেষক দল জানিয়েছে, আবোকে অস্ত্রপচারের সময় তার বাহুতে চারটি বৈদ্যুতিক সংযোগ স্থাপন করা হয়েছে, যা তার কৃত্রিম হাতের আঙ্গুলের সঙ্গে যোগাযোগ রাখবে। আর এর মাধ্যমেই সেটি পৌঁছে যাবে তার মস্তিষ্কে। ফলে তিনি যা ধরবেন তা অনুভব করতে পারবেন।

গবেষণাগারে আবোকে নিয়ে দীর্ঘ একমাসের প্রচেস্টার পর এ সাফল্য এসেছে। আর এই সময় পুরোটাই গবেষণাগারে ছিলেন তিনি। অন্ধকারের মধ্যেও এখন কাজ করতে পারছেন বলে জানিয়েছেন পেশায় প্রপার্টি ডেভলপার আবো। আরেক গবেষক মস্তিষ্ক বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক পাওলো রোসিনি বলেছেন, এরইমধ্যে দুটি অস্ত্রোপচার হয়ে গেছে। পুরোপুরি সাফল্যর জন্য আরো এক দফা অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হবে। রোসিনি আরো বলেন, নিশ্চিত না হয়েই ডিভাইসটি পরীক্ষার জন্য নিজের একমাস তিনি (আবো) আমাদের দিয়েছেন। এ জন্য আমরা তার কাছে কৃতজ্ঞ।

তবে, আবোর বাহুতে হাতটি লাগানোর আগে শুকরছানা ও মৃতদেহে পরীক্ষা করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন অধ্যাপক মিসেরা। তিনি আরো জানান, এভাবে আমরা পরীক্ষা করে নিশ্চিত হয়েছি, কোন প্রক্রিয়ায় কোষের সঙ্গে বৈদ্যুতিক সংযোগ লাগানো হবে। সাফল্যটিকে চরম উত্তেজনাপূর্ণ মুহূর্ত বলেই মনে করছেন আরেক গবেষক ড. স্তেনিসা রেসপোপোভিক।
নিঃসন্দেহে অত্যন্ত ব্যয়বহুল এই হাত। স্পর্শের অনুভূতি পেয়ে আর কাটা হাতে থাকতে চাননা আবো। তিন বলছেন, তারা যদি এটি আমাকে স্থায়ীভাবে দিতে চায় তবে আমি অবশ্যই এটি নিতে প্রস্তুত।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য