দর্জিপ্রতি সপ্তাহে কাজের মুজুরি, ওয়াল্টার কাজের উপযুক্ত মুজুরি প্রদান ও ঈদ উপলক্ষে অতিরিক্ত ডিউটির জন্য অতিরিক্ত ১৫ ভাগ মুজুরি প্রদানের দাবিতে দিনাজপুর জেলা দর্জি শ্রমিক ইউনিয়ন অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট শুরু করেছে। দর্জি শ্রমিক ইউনিয়নের ডাকা ধর্মঘটে অচল হয়ে পড়েছে দিনাজপুরের সব দর্জির দোকান। দিনাজপুর জেলা দর্জি শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি আমিনুল ইসলাম জানান, আমরা দর্জি কারিগররা একত্রিত হয়ে মালিকদের কয়েক বার অনুরোধ জানিয়েছি।

সমস্যা নিরসনে আমাদের পক্ষ থেকে পর পর তিন বার লিখিত চিঠি প্রদান করা হয়েছে। এরপরও বিষয়টি নিয়ে দর্জি দোকান মালিক সমিতি অনেকটা উদাসীন ভূমিকা পালন করে। তারা শ্রমিকদের ন্যায্য দাবির প্রতি কোন প্রকার ভ্রুক্ষেপ না করে শ্রমজীবি মানুষ ও শ্রমের প্রতি অবজ্ঞা প্রদর্শন করেছে। শুধু তাই নয়, অনেক মালিক নিরীহ শ্রমিকদের নানাভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে কাজে যোগ দেয়ার অপচেষ্টা করছে।

কিন্তু আমরা শ্রমিকেরা আমাদের দাবির ব্যাপারে সজাগ ও সচেতন। ঐক্যবদ্ধভাবে আমাদের ন্যায্য দাবি আদায় করে ছাড়বো। শ্রমিক নেতা আমিনুল আরো বলেন, একটি প্যান্ট সেলাই করতে মালিকের মোট খরচ হয় ৫৬ টাকা। আর শ্রমিকদের দেয়া হচ্ছে ১০০ টাকা। সব মিলে একটি প্যান্টে মোট খরচ হচ্ছে সর্বসাকুল্যে ১৫৬ টাকা। একইভাবে শার্ট সেলাই করতে মোট খরচ হয় ৩৫ টাকা। আর শ্রমিকদের দেয়া হয় ৭০ টাকা।

সবমিলে একটি শার্টে মোট খরচ হচ্ছে ১০৫ টাকা। আমাদের দাবি ওই রেটের কোন পরিবর্তন বা বৃদ্ধি নয়। আমরা চাই অতিরিক্ত ডিউটি করার জন্য প্রত্যেক শ্রমিকের খাওয়া-দাওয়াসহ আনুসাঙ্গিক অতিরিক্ত খরচ করতে হয়। তাই মানবিক কারণেই ওই সময়ে অতিরিক্ত ১৫ ভাগ মুজুরি দাবি করা যৌক্তিক। মালিক পক্ষ অপপ্রচার চালাচ্ছে-আমরা শ্রমিকেরা মুজুরি বৃদ্ধির জন্য ধর্মঘট করছি। প্রত্যেক ঈদে এমনটা করা আমাদের অভ্যাসে পরিণত হয়েছে।

আমরা দৃঢ়ভাবে সকল গ্রাহকসহ সর্বসাধারণকে জানাতে চাই-আমাদের এ ধর্মঘট মুজুরি বৃৃদ্ধির জন্য নয়। অতিরিক্ত ডিউটির অতিরিক্ত মুজুরিসহ সুনির্দিষ্ট ৩টি দাবিতে আমাদের এ ধর্মঘট চলছে। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত ধর্মঘট অব্যাহত থাকবে বলে তিনি জানান। মানবিক কারণে তাদের যৌক্তিক দাবিগুলোর সাথে সকলকে একাত্মতা ঘোষণা করে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান তিনি।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য