প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের কর্মকর্তার আশ্বাসের পরিপ্রেক্ষিতে রংপুর মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের ডাকা অনির্দিষ্টকালের পরিবহন ধর্মঘট ৭২ ঘণ্টার জন্য স্থগিত করা হয়েছে। সোমবার দুপুরে জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক এম.এ মজিদ। তিনি বলেন, ৭২ ঘণ্টার মধ্যে দায়ী সহকারী পুলিশ সুপার আবু নাসেরের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিলে পুনঃরায় ধর্মঘট শুরু করা হবে।

সংবাদ সম্মেলনে মজিদ অভিযোগ করে বলেন, রোববার রাতে রংপুর নগরীর মাহিগঞ্জ আমতলী এলাকায় অটো চালকরা বৃহস্পতিবার এক বাস চালককে মারধর করেন। ঘটনার বিচারের দাবিতে শ্রমিক রংপুর পীরগাছা সড়কে বাস চলাচল বন্ধ করে দেয়। রোববার রাতে তারাবির নামাজ শেষে শ্রমিকদের সাথে কথা বলার জন্য আমি ঘটনাস্থলে যাই। এর পর পুলিশ সেখানে এসে কোনো কারণ ছাড়াই সহকারী পুলিশ সুপার আবু নাসেরের নির্দেশে শ্রমিকদের ওপর লাঠিচার্জ ও গুলিবর্ষণ করেন। এতে ৫ শ্রমিক আহত হয়। তাদের গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

এছাড়াও শ্রমিক ফিরোজ, শাহজাহান, সাইফুল ও লিটন নামের চার শ্রমিক নিখোঁজ রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। শ্রমিককের উপর গুলিবর্ষণের প্রতিবাদে তারা অনির্দিষ্টকালেরি এ জন্য ধর্মঘটের ডাক দেন। পরে প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম বুলবুলের আশ্বাসের পরিপ্রেক্ষিতে এবং রমজানের কথা চিন্তা করে ৭২ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়ে পরিবহন ধর্মঘট স্থগিত করেন তারা। গুলিবর্ষণের হুকুমদাতা আবু নাসেরের ৭২ ঘণ্টার মধ্যে বিচার না হলে ধর্মঘট পুনঃরায় শুরু হবে বলে হুশিয়ারি উচ্চারণ করেন মজিদ।

রংপুর কোতোয়ালি থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুল কাদের জিলানী জানান, আর্ম পুলিশের একটি গাড়ি ওই রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের লোকজন গাড়িটি আটকানোর চেষ্টা করে। এর ফলে আর্ম পুলিশ সদস্যরা তাদের ডাকাত ভেবে ধাওয়া করে। এক পর্যায়ে লাঠিচার্জ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ধর্মঘটের কারণে রংপুর-ঢাকা-দিনাজপুর, কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট সড়কে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। রংপুর মডার্ন মোড় থেকে গোবিন্দগঞ্জ পর্যন্ত, রংপুর মেডিকেল মোড় থেকে তারাগঞ্জ পর্যন্ত, মাহিগঞ্জ সাতমাথা থেকে তিস্তা পর্যন্ত হাজার হাজার যানবহন আটকা পড়ে। ভোগান্তির শিকার হন সাধারণ মানুষ ও বাসযাত্রীরা।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য