Image Dhumnodiকাউনিয়া (রংপুর) থেকে আফজাল হোসেন॥ উত্তরাঞ্চলের রংপুর বিভাগের কাউনিয়া উপজেলাধীন প্রাচীন জনপদ হারাগাছ। হারাগাছের উত্তরে তিস্তা নদী, পশ্চিমে ধুমনদী ঘেঁষে অবস্থিত। হারাগাছ পৌরসভার পূর্বপ্রান্তে ধুমনদীর অবস্থান। নদীটি সারাই ও হারাগাছের মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত। ধুমনদী কিংবদন্তির নিদর্শন হিসেবে আজও নিক্কন তোলে। মুলতঃ ধুমনদী কোন নদী নয় পরিখা বিশেষ। তিস্তা ও মানস নদীর সঙ্গে এর যোগসূত্র ছিল। লোকজন ধুমের বিশালতা দেখে নদী হিসেবে ডেকে থাকে। ধুমনদী দেখতে অশ্বখুরাকৃতি বিল বা খাল। প্রায় তিন চার বর্গমাইল এলাকা জুড়ে বৃত্তাকারে মাঝের এক উঁচু খন্ডকে ঘিরে রেখেছে। মাঝের ভুখন্ডকে ধুমগড় ও চার পাশের পরিখাকে ধুমনদী বলা হয়। বিলের আয়তন বর্ষা মৌসুমে ১৮৭.৩৮ একর/৭৫.৮৬ হেক্টর ও শুষ্ক মৌসুমে ১৪৪.১৩ একর/৮৫.৩৫ হেক্টর। পানির গভীরতা বর্ষা মৌসুমে ৪-২০ ফুট শুস্ক মৌসুমে ২-১৫ফুট। নদীতে মাছের প্রজাতি চাঁদা, পুটি, চিংড়ি, টেংরা, দারকানা, সাঠী, মাগুর সিংগী এবং প্রচুর পরিমাণে চাপিলা (কর্ত্তি) মাছ পাওয়া যায়। চাপিলা মাছ এই বিল ছাড়া আশে পাশের কোন জলাশয়ে পাওয়া যায় না। নদীতে রুই কাতলা মৃগেল সিলভার কার্প, গ্লাস কার্প চাষ করা হয়। সুফলভোগী মৎস্যজীবির সংখ্যা ১১৫ জন পুরুষ। উপদলের সংখ্যা ৬টি। জালের সংখ্যা ৪টি। নৌকার সংখ্যা ৮টি। আগে ধুমনদীর পানি পান করা হতো। বর্তমানে ধুমনদী কচুরি পানায় ভর্তি। মাছ উৎপাদন ৩ বছর ধরে বন্ধ রয়েছে। মৎস্যজীবিরা কষ্টে দিনাতিপাত করছে। মৎস্যজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক নুর মোহাম্মদ জানান সরকারের কোন স্থায়ীত্ব সিদ্ধান্ত না থাকায় ৩ বছর ধরে লীজ বন্ধ রয়েছে। নানা জটিলতায় মৎস্য চাষ হচ্ছে না। ধুমনদীতে মাছ নেই। কচুরিপানা ও জলজ আগাছায় ধুমনদী ছেয়ে গেছে। এপাড় থেকে ওপারে যাওয়ার সড়ক যোগাযোগ নেই। ধুমেরকুঠি, বাহির কুঠির প্রায় ৫ হাজার লোকজন বাঁশের বাতা দিয়ে তৈরি সাঁকো দিয়ে সচরাচর এপাড় ওপারে যাতায়াত করে। এ জনপদের লোকজনের দাবী বাঁশের সাঁকো তুলে দিয়ে ব্রীজ নির্মাণের। ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের নেতা ভবানী পাঠক, নবাব নুরউদ্দীন বাকের জঙ্গ, দেবী চৌধুরাণীর গোপন আস্তনা ছিল হারাগাছের এই ধুমনদী ধুমগড়ে। দেবী চৌধুরাণী, ভবানী পাঠকের কাছে যুদ্ধ বিদ্যার কৌশল এখানে রপ্ত করেন। প্রাচীন কালের কিছু ইমারত থাকার চিহ্ন পরিলক্ষিত হয়। বহু ইটের টুকরো যত্রতত্র ছড়িয়ে আছে। পতিত জমি চাষ করে কৃষি জমিতে রূপান্তরিত হচ্ছে। বিস্তীর্ণ এলাকা খনন ব্যাতীত পুরাতাত্ত্বিক বিষয়ে সমখ্য পরিচয় জানা সম্ভব নয়। ধুমনদী দখল হয়ে যাচ্ছে। ধুমনদীর সংস্কার ধুমের দুপাড় দিয়ে বনায়ন কর্মসূচী গ্রহণ, সর্বোপরি ধুমনদীর সীমানা নির্ধারণ সময়ের কঠিনতম প্রয়োজন হয়ে দাড়িয়েছে। ধুমনদীর জমি কতিপয় লোভী মানুষ দখল করছে। সরকারী উদ্যোগে তা উদ্ধার হওয়া প্রয়োজন। নদী অবলম্বন করে নগর সভ্যতার শুরু। নদী দখল চলছে সারা দেশে। নদী সভ্যতাকে হত্যা করা হচ্ছে। কতিপয় লোভী মানুষের স্বীকার হচ্ছে নদ, নদী, খাল-বিল, জলায়শ। নদী হত্যা হলে, না বাঁচলে আমরা বাঁচবোনা এ কারণে নদীকে বাঁচাতে হবে। বেঁচে থাকার স্বার্থে সবাইকে নদীর পাশে দাঁড়াতে হবে। নদী দখল রোধে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত প্রকৃত মৎস্যজীবিদের ধুমনদী লীজ দিয়ে ধুমের পূর্বের রূপযৌবন ফিরিয়ে আনা। সকলে চেষ্টা করলে এখানে একটি পর্যটন কেন্দ্রও হতে পারে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য