রুহুল কবীর রিজভী আহমেদবৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিতব্য নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের উপ নির্বাচন বর্জন ও বয়কটের আহ্বান জানিয়েছেন দপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবীর রিজভী আহমেদ।

তিনি বলেন, বর্তমান সরকারই তো অবৈধ, সেখানে এ উপ নির্বাচনও অবৈধ। যেহেতু এ নির্বাচনে বিএনপি নেই সেহেতু এ উপ নির্বাচনও অবৈধ।

মঙ্গলবার দুপুরে মোবাইল ফোনে সঙ্গে উপ নির্বাচন নিয়ে কথা বলেন রিজভী আহমেদ।

এক প্রশ্নের জবাবে রিজভী বলেন, ইতোমধ্যে আমাদের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া জয়পুরহাটে জনসভাতে বক্তব্য দিয়েছেন। সেখানে তিনি সুস্পষ্ট বলেছেন, এ সরকার অবৈধ সরকার। নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন হতে হবে। এ সরকার যা করছে তার সবই অবৈধ।

তিনি আরও বলেন, তাছাড়া যে সংসদ নির্বাচন ও সরকার পতনের আন্দোলন নিয়ে এত হানাহানি, রক্ত ঝরেছে সেই সরকারের অধীনে উপ নির্বাচন মেনে নেওয়া যায় না। আর নারায়ণগঞ্জের উপ নির্বাচনে তো ধানের শীষ নিয়ে কেউ অংশ নিচ্ছে না। সুতরাং এতেই প্রমাণিত হয় বিএনপি এ নির্বাচন সব দিক থেকে বর্জন ও বয়কট করেছে।

নারায়ণগঞ্জের অনেক নেতা ইতোমধ্যে বিভিন্ন প্রার্থীর পক্ষে কাজ করেছেন- এবিষয়ে জানতে চাইলে রিজভী বলেন, বিষয়টি নিয়ে এখনো আমার কাছে কোনো অভিযোগ আসেনি। এ ধরনের অভিযোগ আসলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জেলার সভাপতি (তৈমুর আলম খন্দকার) দেশের বাইরে আছেন। সাধারণ সম্পাদকের সঙ্গে আমাদের কথা হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে দলের ফোরামে আলোচনা করা হবে।

উপ নির্বাচনে বিএনপি বয়কট করলেও একই সুরে কথা বলেছেন সাবেক এমপি আবুল কালাম ও নগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এটিএম কামাল।

দু’জন নেতা সরাসরি নির্বাচন বয়কটের কথা না বললেও বলেছেন, ‘বিএনপি নির্বাচনে গডফাদার ও সন্ত্রাসের বিপক্ষে রয়েছে। কারণ যে দলের (আওয়ামী লীগ) নেত্রী জিয়াউর রহমান, খালেদা জিয়া আর তারেক রহমানকে গালাগাল করে তাদের মনোনীত কাউকে অন্তত বিএনপি সমর্থন দেবে না। সন্ত্রাস আর খুন গুমের বিরুদ্ধে যিনি কথা বলবেন তাদের পক্ষেই আমাদের সমর্থন রয়েছে।

স্বতন্ত্র প্রার্থী এস এম আকরামের দাবি, তার নির্বাচন হত্যা, গুম, অপহরণ আর সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে।

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ১৩টি ওয়ার্ড, ৪টি আংশিক ওয়ার্ড ও ৭টি ইউনিয়ন নিয়ে আসনটি গঠিত। এ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৪২ হাজার ৪০৫ জন। পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৭৪ হাজার ৩১১ ও নারী ভোটার ১ লাখ ৬৮ হাজার ০৯৪ জন।

উপ-নির্বাচনে ৪ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তারা হলেন- জাতীয় পার্টির সেলিম ওসমান, স্বতন্ত্র প্রার্থী সাবেক সংসদ সদস্য এসএম আকরাম, মোহাম্মদ মামুন সিরাজুল মজিদ ও কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের প্রার্থী শফিকুল ইসলাম। জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য নাসিম ওসমানের মৃত্যুতে আসনটি শূন্য হয়।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য