Birgonj মোঃ মীর কাসেম লালু, বীরগঞ্জ (দিনাজপুর) থেকেঃ দিনাজপুরের পুলিশ সুপার মোঃ রুহুল আমিন রাজাবাগ পুলিশ লাইনে মুক্তিযুদ্ধে ১ম শহীদ পুলিশ সদস্য আমীর উদ্দিনের পরিবারকে দুইটি গরু প্রদান করেছেন। দিনাজপুর পুলিশ সুপারের কার্যালয় প্রাঙ্গনে মুক্তিযুদ্ধে রাজাবাগ পুলিশ লাইনে ১ম শহীদ পুলিশ সদস্য আমীর উদ্দিনের স্ত্রী আবেদা খাতুন ও ছেলে আজিজার রহমানকে বাড়ি থেকে ডেকে এনে ২টি আড়িয়া গরু হস্তান্তর করেছেন। এ সময় এডিশনাল এসপি, সহাকারী পুলিশ সুপার ও বীরগঞ্জ থানার ওসি মোঃ আরমান হোসেন (পিপিএম) সহ জেলার বিভিন্ন থানার অফিসার্স ইনচার্জগন উপস্থিত ছিলেন।

বীরগঞ্জ থানার ওসি মোঃ আরমান হোসেন (পিপিএম) জানান চলতি বছরে ২৬মার্চ মহান স্বাধীনতা দিবসে মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধা অনুষ্ঠানে মুক্তিযোদ্ধাদের বক্তব্যে ওই পরিবারের দুর্দশার কথা শুনে হতবাক হয়েছি ও তাৎক্ষনিক ভাবে নগদ ১০ হাজার টাকা প্রদানের অঙ্গিকার করেছিলাম। পরবর্তীতে জেলা পুলিশ সুপারের মাধ্যমে টাকা প্রদান করেছি। পুলিশ সুপার টাকা প্রদানকালে পরবর্তীতে আরো সহযোগিতার অঙ্গিকার করেছিলেন। তিনি ২টি গরু প্রদান করে তা বাস্তবায়ন করলেন।

মুক্তিযোদ্ধা আমির উদ্দিনের স্ত্রী আবেদা খাতুন জানান, মুক্তিযুদ্ধের পর থেকে তার স্বামী আমির উদ্দিন নিখোঁজ ছিলেন। ২০১২ইং সালে রাজারবাগ পুলিশ লাইনে স্মৃতি স্তম্ভের নামের তালিকার সুত্র ধরে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রনালয় আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে স্মারকনং-মুঃবি/ম/সা/দিনাজপুর/প্র-৩/২০০২/৩৪১৯ মোতাবেক আমাকে ও  আমার ছেলে আজিজার রহমানকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে গিয়ে ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ স্বীকৃতি সরূপ ক্রেষ্ট ও  সনদপত্র তুলে দিয়েছিলেন।

স্বাধীনতার ৪৩ বছরেও সরকারী কোন সাহায্য বা অনুদান পাইনি বরং তার স্বামীর রেখে যাওয়া অংশের সম্পদ ধানী জমি প্রভাবশালী মহল জোর পূর্বক দখল করে আছে। অর্থের অভাবে বিনা চিকিৎসায় শ্রবনশক্তি ও দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছি। চলতি বছরে ওসি আরমান হোসেনের সহযোগিতায় ৭৬ বৎসর বয়সে মুক্তিযোদ্ধা ভাতা পেতে শুরু করেছি বলতে বলতে কেঁদে ফেলেন। তিনি তার স্বামীর রেখে যাওয়া সম্পদ  উদ্ধারের দাবী জানান।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য