গাইবান্ধায় বিক্ষোভ মিছিল সমাবেশ ও স্মারকলিপি প্রদান

গাইবান্ধায় বিক্ষোভ মিছিল সমাবেশ ও স্মারকলিপি প্রদান

রংপুর

আরিফ উদ্দিন, গাইবান্ধা প্রতিনিধিঃ উন্নয়ন বাজেটে ৪০% কৃষিখাতে বরাদ্দসহ বিভিন্ন দাবিতে সমাজতান্ত্রিক ক্ষেতমজুর ও কৃষক ফ্রন্ট এবং বাংলাদেশের সাম্যবাদী আন্দোলন গাইবান্ধা শাখার উদ্যোগে গতকাল রোববার শহরে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। বিক্ষোভ মিছিল শেষে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে অর্থমন্ত্রী বরাবর একটি স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। মিছিল পুর্ব সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন সাম্যবাদী আন্দোলনের জেলা সদস্যসচিব মনজুর আলম মিঠু, বীরেন চন্দ্র শীল, সমাজতান্ত্রিক ক্ষেতমজুর ও কৃষক ফ্রন্টের জেলা সংগঠক জাহিদুল হক, কৃষ্ণ চন্দ্র পাল, বাংলাদেশ নারীমুক্তি কেন্দ্রের জেলা সংগঠক পারুল বেগম, গণতান্ত্রিক ছাত্র কাউন্সিলের জেলা আহবায়ক শামিমআরা মিনা প্রমুখ।

বক্তারা আসন্ন জাতীয় বাজেটে কৃষি খাতে উন্নয়ন বরাদ্দের ৪০ ভাগ বরাদ্দ দিয়ে কৃষি-কৃষক-ক্ষেতমজুরদের রক্ষায় কার্যকর ব্যবস্থা নিশ্চিতসহ বিশেষ বরাদ্দ দিয়ে শ্রমজীবী ও নি¤œআয়ের মানুষের জন্য সারাদেশে আর্মিরেটে নিত্যপণ্য সরবরাহ করাসহ উল্লেখিত দাবিগুলো বাস্তবায়ন করার জোর দাবি জানান।

দাবিগুলো হচ্ছে আসন্ন জাতীয় বাজেটে উন্নয়ন বরাদ্দের ৪০ ভাগ কৃষি খাতে বরাদ্দ দিয়ে সার-বীজ-কীটনাশক এর দাম কমাও। বিএডিসি’র মাধ্যমে সরবরাহ নিশ্চিত কর। রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে আলু-সবজি সংরক্ষণের জন্য পর্যাপ্ত কোল্ড ষ্টোরেজ নির্মান, শ্রমজীবী নি¤œআয়ের মানুষদের জন্য আসন্ন জাতীয় বাজেটে বিশেষ বরাদ্দ দিয়ে সারাবছর আর্মিরেটে রেশনে চাল-ডাল-আটা-তেলসহ সকল নিত্যপণ্য সরবরাহ, উৎপাদন খরচের সাথে ৩৩% বাড়তি মুল্য যুক্ত করে কৃষি ফসলের দাম নির্ধারণ কর। হাটে হাটে সরকারি ক্রয় কেন্দ্র চালু করে ইরি-বোরো মওসুমে ন্যূনতম ১ কোটি মে. টন ধান সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে ক্রয় করা।

ঘুষ, দুর্নীতি, দলীয়করণ বন্ধ, ক্ষেতমজুর-দিনমজুরদের সারা বছরের কাজ। নিজ এলাকার বাইরে কাজ করতে যাওয়া শ্রমজীবীদের নিরাপদ যাতায়াত, আবাসন ও স্বাস্থ্যসম্মত খাবার আয়োজন করা, শ্রমজীবীদের নিরাপদ যাতায়াত, আবাসন ও স্বাস্থ্যসম্মত খাবার আয়োজন করা, ভিজিডি, ভিজিএফ, কর্মসৃজন প্রকল্পসহ সামাজিক নিরাপত্তার গ্রামীণ প্রকল্পে ঘুষ, দুর্নীতি, দলীয়করণ বন্ধ কর। বয়স্ক-বিধবা-প্রতিবন্ধীদের মাসিকভাতা ন্যূনতম ১০ হাজার টাকাসহ সকল প্রকল্পে বরাদ্দের পরিমাণ ও উপকারভোগীদের সংখ্যা বাড়ানো, ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ মওকুফ করা, সহজ শর্তে সুদমুক্ত কৃষি ঋণ চালু, হয়রানি বন্ধ ও সার্টিফিকেট মামলা প্রত্যাহার, এনজিও এবং মহাজনী ঋণ নিষিদ্ধ ও বন্ধ পাটকল, চিনিকল চালু কর। বেকার সমস্যা সমাধানে কৃষিভিত্তিক নতুন শিল্প -কারখানা নির্মাণ, পাহাড় ও সমতলের আদিবাসীদের সাংবিধানিক স্বীকৃতি দাও, মাতৃভাষায় শিক্ষা ও ভূমির অধিকার এবং জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত কর। খাস জমি ভূমিহীনদের মধ্যে বরাদ্দ দেয়া।