বগুড়ার সোনাতলায় নিহত কিশোরের হত্যা রহস্যও উদঘাটন, গ্রেফতার ২

বগুড়ার সোনাতলায় নিহত কিশোরের হত্যা রহস্যও উদঘাটন, গ্রেফতার ২

রাজশাহী

অবশেষে মিলল বগুড়ার সোনাতলায় ডোবার কচুরিপানার ভেতর থেকে উদ্ধার হওয়া লাশের পরিচয়। শুধু তা-ই নয়, বগুড়ার পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) নিহত কিশোরের পরিচয় নিশ্চিত করার পাশাপাশি হত্যা রহস্যও উদঘাটন করেছে। সেই সঙ্গে ঘটনায় জড়িত দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে তারা।

নিহত রাকিব হোসেন (১৫) গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার হিয়াতপুর গ্রামের শামসুল ইসলাম শেখের ছেলে।

ঘটনায় জড়িতদের মধ্যে গ্রেফতার দুজন হলো একই গ্রামের শফিকুল ইসলামের ছেলে আহসান হাবীব সজীব (২০) ও একই এলাকার মাসুম বিল্লাহ (১৫)।

পিবিআই বগুড়ার পুলিশ সুপার আকরামুল হোসেন জানান, গত ৩ জুন সোনাতলা উপজেলার লাহিড়ীপাড়ার একটি ডোবায় অজ্ঞাতপরিচয় কিশোরের লাশ পাওয়া যায়। ওই ঘটনায় পিবিআই ছায়া তদন্ত শুরু করে। তদন্তের শুরুতেই মাসুম বিল্লাহ নামের এক কিশোরকে আটক করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে সে ঘটনায় জড়িত অপর আসামির নাম-পরিচয় জানায়। পরে তাকেও আটক করা হয়।

আটককৃতরা জানায়, নিহত রাকিব ও আসামি সজীব একই এলাকার বাসিন্দা এবং একে অপরের বন্ধু। গত ৩১ মে সজীব তার বন্ধু রাকিবকে জানায়, সে একজন মেয়েকে টাকার বিনিময়ে সোনাতলা উপজেলার চমড়গাছা পাথারে আসতে বলেছে। ওই দিন রাত সাড়ে ৮টার দিকে সজীব তার বন্ধু রাকিবকে বাড়ি থেকে ডেকে নেয় এবং সাথে মাসুম যুক্ত হয়।

লাহিড়ীপাড়া পাথারের মাঝখানে পৌঁছার পর কে আগে শারীরিক সম্পর্কে লিপ্ত হবে এই নিয়ে রাকিব ও সজীবের মধ্যে তর্ক শুরু হয়। একপর্যায়ে তাদের কাছে থাকা লাঠি দিয়ে রাকিবের মাথায় আঘাত করে সজীব। এতে রাকিব পড়ে গেলে তার মাথায় এলোপাতাড়িভাবে তিন-চারবার আঘাত করে। সজীব পরে রাকিবের গলা চেপে মৃত্যু নিশ্চিত করে।

মৃত্যুর পর রাকিবের লাশ টেনেহিঁচড়ে সোনাতলার লাহিড়ীপাড়া ক্ষেতের মাঝখানে ডোবায় ফেলে দেয় এবং কচুরিপানা দিয়ে ঢেকে রেখে বাড়িতে চলে যায়। পরদিন স্থানীয়রা রাকিবের লাশ দেখতে পায়। পরে পুলিশ খবর পেয়ে রাকিবের লাশ উদ্ধার করে।

নিহতের বড় ভাই বেলাল হোসেন এ ঘটনায় সোনাতলা থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় আটক দুজনকে গ্রেফতার দেখানো হয়। পরে সজীব আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। আদালতের মাধ্যমে ওই দুজনকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলেও জানান পুলিশ সুপার।