অ্যাম্বার হার্ডের বিরুদ্ধে মামলা জিতলেন ডেপ, পাবেন ১৫ মিলিয়ন ডলার

অ্যাম্বার হার্ডের বিরুদ্ধে মামলা জিতলেন ডেপ, পাবেন ১৫ মিলিয়ন ডলার

বিনোদন

হলিউড অভিনেতা ও প্রাক্তন স্বামী জনি ডেপের বিরুদ্ধে পারিবারিক নির্যাতনের অভিযোগ করে লেখা নিবন্ধের মাধ্যমে মানহানি করেছেন অভিনেত্রী অ্যাম্বার হার্ড।

এ সংক্রান্ত মামলার রায় দেন একটি মার্কিন আদালতের জুরি সদস্যরা।

ছয় সপ্তাহ ধরে ভার্জিনিয়া আদালত ডেপ এবং হার্ডের অসুখী দাম্পত্য জীবনের সমাপ্তি টানা সম্পর্কে বিশদ বিবরণ শুনেছেন আদালত।

মিথ্যা অভিযোগে জনি ডেপের মানহানি হওয়ায় ক্ষতিপূরণ হিসেবে তাকে ১৫ মিলিয়ন ডলার প্রদান করতে অ্যাম্বার হার্ডকে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

তবে ৩৬ বছর বয়সী অ্যাম্বার হার্ড ৫৮ বছর বয়সী ডেপের বিরুদ্ধে আনা তিনটি অভিযোগের মধ্যে একটি জিতেছেন এবং তাকে ক্ষতিপূরণ হিসেবে ২ মিলিয়ন ডলার দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

২০১৭ সালে হলিউডের এই তারকা জুটি বিবাহবিচ্ছেদ করেছিলেন।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, বহু আমেরিকানের কাছে রাশিয়া-ইউক্রেনের যুদ্ধ বা মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট থেকে প্রত্যাশিত গর্ভপাতের সম্ভাব্য ঐতিহাসিক রায়ের চেয়ে সাবেক এই তারকা দম্পতির আইনি নাটকে বেশি মনোযোগ ছিল।

এ মামলার বিচার কার্যক্রম টেলিভিশন এবং সামজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরাসরি সম্প্রচার করা হয়, যা বিলিয়ন বার দেখা হয়েছে৷

বুধবার বিচারকরা সিদ্ধান্তে আসেন যে, জনি ডেপের বিরুদ্ধে অ্যাম্বার হার্ডের বিবৃতি ‘মিথ্যা’ এবং তিনি মূলত ‘বিদ্বেষ’থেকে এ কাজ করেছেন।

একই সঙ্গে বিচারকরা আরও জানান, ডেপও হার্ডের মানহানি করেছেন। ২০২০ সালে ডেপের আইনজীবী ডেইলি মেইলে একটি বিবৃতি দিয়েছিলেন। এতে হার্ডের নির্যাতিত হওয়ার অভিযোগকে একটি প্রতারণা বলে অভিহিত করেছিলেন।

এদিন জনি ডেপ কাজ থাকার কারণে আদালতে ছিলেন না বলে জানিয়েছেন তার মুখপাত্র।

বুধবার এক বিবৃতিতে জনি ডেপ বলেন, জুরি আমাকে জীবন ফিরিয়ে দিয়েছেন। আমি সত্যিই নম্র। সত্য কখনো ধ্বংস হয় না।

তিনি বলেন, আমি আশা করি সত্য বলার জন্য আমার এই প্রচেষ্টা অন্যদের সাহায্য করবে, বিশেষ করে যারা আমার মতো পরিস্থিতিতে পড়েছেন। এটি তাদের সমর্থন জোগাবে যেন তারা কখনোই হাল না ছাড়ে।

এদিকে অভিনেত্রী অ্যাম্বার হার্ড রায় পড়ার সময় স্তব্ধ হয়ে বসেছিলেন। তিনি এক বিবৃতিতে বলেন, এ রায়ে তার হৃদয় ভেঙে গেছে। তিনি বলেন, জুরি তার অভিযোগের পক্ষে থাকা প্রমাণগুলো উপেক্ষা করেছেন।

অ্যাম্বার হার্ড বলেন, আমি দুঃখিত যে আমি এই মামলা হেরে গেছি। কিন্তু আমি এখনও এরচেয়ে বেশি দুঃখিত। কারণ আমি একটি অধিকার হারিয়েছি বলে মনে হচ্ছে। আমি ভেবেছিলাম একজন আমেরিকান হিসেবে আমার স্বাধীনভাবে এবং খোলামেলা কথা বলার অধিকার রয়েছে।

তিনি বলেন, অন্য নারীদের জন্য এই রায়ের অর্থ কী, তা নিয়ে আমি আরও বেশি হতাশ। এটি অবস্থার অবনতি। যা আমাদের অতীতে ফিরিয়ে নিয়ে যায়, যখন একজন নারী স্বাধীনভাবে কথা বলায় প্রকাশ্যে লজ্জিত এবং অপমানিত হতেন।

হার্ডের একজন মুখপাত্র বলেন, তিনি এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার পরিকল্পনা করছেন।

সূত্র : বিবিসি