কিছু কর্মচারী স্বর্ণ চোরাচালানে জড়িত: বিমানের এমডি

কিছু কর্মচারী স্বর্ণ চোরাচালানে জড়িত: বিমানের এমডি

জাতীয়

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও ড. আবু সালেহ মোস্তফা কামাল বলেছেন, বিমানে লাভ নেই।

বুধবার সকাল সাড়ে ৯টায় বিমানবন্দরস্থ বিমানের ট্রেনিং একাডমিতে সাংবাদিকদের সঙ্গে শুরু হওয়া মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হয়ে উপস্থিত থেকে তিনি এই কথা বলেন। মতবিনিময় সভাটি এখনো চলছে।

এক প্রশ্নের জবাবে বিমানের এমডি সাংবাদিকদের কাছে স্বীকার করেন, বিমানের এক শ্রেণির সদস্য সোনা চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত।

তিনি বলেন, সোনা চোরাচালানসহ বিভিন্ন অপরাধে ২০২টি বিভাগীয় মামলা হয়। এর মধ্যে ১৭৮ জনের শাস্তি নিশ্চিত করা হয়েছে। ৫২ জনকে বরখাস্ত করা হয়। এর মধ্যে ১৩ জন হলেন সোনা চোরাচালানে জড়িত। এ ছাড়া পদ অবনতিসহ বিভিন্ন শাস্তি প্রদান করা হয় আরও কিছু সদস্যকে।

সাংবাদিকদের অন্য আরেক প্রশ্নের উত্তরে মতবিনময় সভায় উপস্থিত অন্য পরিচালকরা বলেন, মিসর থেকে বিমান লিজের অনিয়মের বিষয়টির সঙ্গে আগের কমিটির বিভিন্ন লোকজন জড়িত। এ বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) অভিযোগ পড়েছে। এই ব্যাপারে দুদকের তদন্ত চলমান।

মিশরের ইজিপ্ট এয়ার থেকে দুটি বোয়িং ৭৭৭-২০০ উড়োজাহাজ আট বছর আগে ইজারা সংক্রান্ত ১১শ কোটি টাকার অনিয়মের অভিযোগ অনুসন্ধানে বলাকায় অভিযান চালাচ্ছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। বুধবার (১ জুন) সকালে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের প্রধান কার্যালয় বলাকায় এ অভিযান শুরু হয়।

এ বিষয়ে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও সিইও ড. আবু সালেহ মোস্তফা কামাল বলেন, যেহেতু এই বিষয়টি ইনকোয়ারি হয়েছে। বিষয়টি সংসদীয় কমিটিতে ছিল তারা সেটি রেফার করেছে। সেটি রেফারের পরিপ্রেক্ষিতে দুদকের টিম এসেছে। আমরা তাদেরকে স্বাগত জানাই। দুদক যেন নির্বিঘ্নে তাদের কাজ করতে পারে সেজন্য আমাদের লোকজন সেখানে কাজ করছে। দুদককে সর্বোচ্চ সহযোগিতার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

মতবিনিময় সভায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের প্ল্যানিং অ্যান্ড ট্রেনিং এয়ার কমোডর ড. মো. মাহবুব জাহান খান বলেন, বিমানের ফ্লাইট সংক্রান্ত ডকুমেন্টগুলো আমরা দেখি। আজ দুদকের দুজনের টিম এসেছে। আমার টিমের বাকি লোকজন সেখানে আছেন। আমাদের সব তথ্য প্রিজার্ভ (সংরক্ষিত) করা আছে। আমি ২০১৮ সালে জয়েন করেছি।

তিনি বলেন, ‌২০১৮ সালের আগে আরও কয়েকবার তদন্ত হয়েছে। আমি দেখেছি ইজিপ্টের দুটি বিমান ভিয়েতনামের বিমানবন্দরে আছে, যেখান থেকে ঠিক করে ফেরত দেওয়ার কথা। এই জটিলতার মধ্যে আমরা কাজ শুরু করেছি। আমিসহ আমাদের একটি টিম নিয়ে মিশরে গিয়েছিলাম। বিশেষ করে ফেরত দেওয়ার যে নেগোসিয়েশন (আলোচনা) সেগুলোতে আমি ছিলাম।

২০১৪ সালে পাঁচ বছরের চুক্তিতে ইজিপ্ট এয়ার (মিশর) থেকে বোয়িং ৭৭৭-২০০ ইআর নামে দুটি উড়োজাহাজ লিজ নেয় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। কিন্তু বছর না যেতেই ২০১৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে ফ্লাইট পরিচালনার পর একটি উড়োজাহাজের ইঞ্জিন বিকল হয়ে যায়। উড়োজাহাজটি সচল রাখার জন্য ইজিপ্ট এয়ার থেকেই ভাড়ায় আনা হয় আরেকটি ইঞ্জিন। পরে ওই ইঞ্জিনও নষ্ট হয়ে যায়। সেই ইঞ্জিন মেরামত করতে পাঠানো হয় যুক্তরাষ্ট্রের একটি প্রতিষ্ঠানে। এতসব প্রক্রিয়ায় ইজিপ্ট এয়ার ও মেরামতকারী কোম্পানিকে পাঁচ বছরে বাংলাদেশ বিমানের গচ্চা দিতে হয়েছে ১১শ কোটি টাকা।